মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বাংলাদেশের শুরু বড় হার দিয়ে

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫
বাংলাদেশের শুরু বড় হার দিয়ে
  • দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ উইকেটে জয়ী

মিথুন আশরাফ ॥ যে ফর্মেটে বাংলাদেশ সবচেয়ে ভাল খেলে সেই ওয়ানডে ফর্মেটেই বড় হার হলো। আরাম-আয়েশে খেলে প্রথম ওয়ানডে জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। পেসার কাগিসো রাবাদার (৬/১৬) বিশ্বরেকর্ড গড়া বোলিংয়ে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানেই হার হলো। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হার দিয়েই শুরু হলো বাংলাদেশের। সেই সঙ্গে সিরিজেও ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল মাশরাফি, সাকিবরা।

রবিবার সিরিজের দ্বিতীয় ও বুধবার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। যদি রবিবার বাংলাদেশ হারে, তা হলেই সিরিজ হার হয়ে যাবে। তৃতীয় ওয়ানডেটি হয়ে যাবে বাংলাদেশের জন্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই। দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতলে আসবে সমতা। তখন সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ হয়ে যাবে তৃতীয় ওয়ানডে।

ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। বিকেল ৩ টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির জন্য তা ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর শুরু হয় । ৪০ ওভারে খেলা হয়। বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা ছন্নছাড়া ব্যাটিং করেন। ৩৬.৩ ওভারে ১৬০ রান করতেই অলআউট হয়ে যায় মাশরাফিবাহিনী। জবাবে ৩০.৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ফাফ ডু প্লেসিসের অপরাজিত ৬৩ ও রিলি রুশোর অপরাজিত ৪১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান করে বড় জয় পেয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

উল্টো চাল চালে দক্ষিন আফ্রিকা। ভারতের বিপক্ষে সিরিজে অচেনা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে খেলিয়ে দিয়ে বাজিমাত করেছিল বাংলাদেশ। এবার অচেনা পেসার কাগিসো রাবাদাকে খেলিয়ে দিয়ে চমক দেখাল দক্ষিণ আফ্রিকা। অভিষেকেই (৮ ওভারে ৩ মেডেনসহ ১৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে) সেরা বোলিং করে বিশ্বরেকর্ডই গড়ে ফেললেন রাবাদা। তার বোলিংয়েই প্রথম ওয়ানডেতে তছনছ হয়ে গেল বাংলাদেশ।

মুহূর্তেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসল বাংলাদেশ। পেসার হিসেবে প্রথম বোলার হিসেবে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করলেন রাবাদা। ১৭ রান যখন হলো তখনই টপাটপ তিন উইকেট পড়ার পর ৪০ রানে গিয়ে আরেকটি উইকেট পড়ল। ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, মাহমুদুল্লাহর উইকেট তুলে নিলেন রাবাদা। ৪০ রানে গিয়ে আবারও আরেকটি উইকেট শিকার করলেন রাবাদা। এবার সৌম্য সরকারকে (২৭) সাজঘরে ফেরালেন। তাতে বাংলাদেশও বিপাকে পড়ে গেল। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটসম্যানের মধ্যে তিনজনই রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়ে গেলেন।

তবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের এলবিডব্লিউটি নিয়ে দ্বিধা ছিলই। তামিমের অফ স্ট্যাম্প উড়িয়ে দিলেন রাবাদা। যেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের ভেতর ভয়ও ধরিয়ে দিলেন। সেটিতেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাজও হয়ে গেল। আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হলো। তামিম বুঝতে না পেরে বোল্ড হলেন। ফ্লিক করতে গিয়ে লিটন ক্যাচ আউট হলেন। আর মাহমুদুল্লাহকে যে এলবিডব্লিউ দেয়া হলো সেটি না দিলেও বোধহয় আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত ভুল হতো না। কিন্তু রাবাদার আপীলে আম্পায়ার বাংলাদেশেরই শরফদ্দৌলা সাড়া দিয়ে দিলেন। বাংলাদেশের ইনিংস দুমড়েমুচড়ে গেল। এর পর সৌম্য সরকারের আউটে যেন ইনিংসে ধসই নেমে গেল।

চার উইকেট পতনের পর খাদের কিনারাতেই পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলতে হলে সাকিব ও মুশফিককেই বড় জুটি গড়তে হতো। সেই আশাও দেখান। কিন্তু মুশফিক (২৪) বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারলেন না। শরীরের যত জোর আছে তা দিয়ে শট করেছিলেন। কিন্তু ক্যাচ আউট হয়ে গেছেন। যখন দলের স্কোরবোর্ডে ৯৩ রান জমা হয়েছে তখন ৫৩ রানের জুটি হয়েছে। এমন সময় মুশফিক আউট হয়ে গেলেন। সময়টা মুশফিকের ভাল যাচ্ছে না। টেস্ট, ওয়ানডে, টি২০ মিলিয়ে শেষ ১০ ম্যাচে কোন অর্ধশতক নেই মুশফিকের।

মুশফিক আউটের পর সাব্বির রহমান রুম্মন ব্যাট হাতে নেমে কিছুই করতে পারলেন না। ৫ রান করে বোল্ড হয়ে গেলেন। বাংলাদেশের ৬ উইকেটের পতনও হয়ে যায়। এর পরও সম্মানজনক স্কোর গড়ার আশা থাকে। সাকিব যে তখনও ব্যাটিংয়ে থাকেন। এর মধ্যে ২২.১ ওভারে ১০০ রানও স্কোরবোর্ডে জমা করে বাংলাদেশ। কিন্তু বিপত্তি ভালভাবেই ঘটে যখন দলের স্কোরবোর্ডে ১২০ রান জমা হয়। এমন মুহূর্তে গিয়ে ইমরান তাহিরের বলে সাকিব এলবিডব্লিউ হয়ে যান। রিভিউও নেন। তাতেও কাজ হয় না। আউট হওয়ার আগে অবশ্য সাকিব যে ৪৮ রান করেন, তাতেই আরেকটি রেকর্ড গড়ে ফেলেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ২০০০ রান করার একক ক্ষমতা দেখান সাকিব। বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কোন একটি ভেন্যুতে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ২০০০ রান (এখন রান ২০৩৪) করার যোগ্যতাও দেখান সাকিব। কিন্তু দল তার আউটের মধ্য দিয়েই বিপত্তির মধ্যে ভালভাবেই পড়ে যায়। ৭ উইকেটের পতন ঘটায় যেন কত কম রানে অলআউট হবে বাংলাদেশ, সেটিই দেখার অপেক্ষা থাকে। সাকিবের আউটের পর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ আরও ৪০ রান যুক্ত করতে পারে।

নাসির হোসেন (৩১) হাল না ধরলে তা সম্ভব ছিল না। ১৩৩ রানে গিয়ে মাশরাফি (৪), ১৪০ রানে গিয়ে জুবায়ের হোসেন (৫) রাবাদার পেস ত্রাসের সামনে পড়েন। এর মধ্য দিয়ে অভিষেকেই ৬ উইকেট তুলে নেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিদেল এডওয়ার্ডসও অভিষেককেই ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। কিন্তু এডওয়ার্ডস ২২ রান দিয়েছিলেন। আর রাবাদা দিয়েছেন ১৬ রান। তাতেই অভিষেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল নৈপুণ্যের জন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েন রাবাদা। শেষে নাসির আউট হতেই বাংলাদেশের ইনিংসও গুটিয়ে যায়।

বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে অবশেষে বৃষ্টির বাধায় পড়লই। বেলা ৩ টায় বল মাঠে গড়ানোর কথা। সেই খেলা শুরু হলো বিকেল ৫ টা ৪০ মিনিটে। দুইদিন ধরে যে বৃষ্টি পড়ছে, তা চলছেই। শুক্রবার সকালেও মুষলধারে বৃষ্টি পড়েছে। তাতে বোঝাই গেছে, খেলা নির্ধারিত সময়ে শুরু হবে না। ক্রিকেটাররাও মাঠে আসেননি। হোটেলেই থেকেছেন। সোয়া চারটায় যখন জানা গেল পৌনে ৫ টায় মাঠ পর্যবেক্ষণ করা হবে, এর পর খেলাও শুরু হয়।

টস জিতে বাংলাদেশ। বৃষ্টিভেজা মাঠে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে কী একটু ভুল হয়ে গেল না? সবাই সেটি নিয়েই আলোচনায় মাতেন। টস হওয়ার পর মাশরাফি অবশ্য জানিয়েছেন, ‘মনে হচ্ছে উইকেট পরিবর্তন হবে না। পরে গিয়ে স্পিন ধরবে।’ আর দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হাশিম আমলা বলেছেন, ‘আমাদের সিনিয়র বোলারদের বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। তরুণ বোলাররা দলে এসেছেন। দেখা যাক তারা কী করে।’

মাশরাফি কথা যেন হাস্যকরই মনে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে আগে ব্যাট করতে দিলে রান চেজ করা যেত। এখন কী হলো, আগে ব্যাট করে দ্রুতই অলআউট হয়ে গেল বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ আফ্রিকা পরে ব্যাট করলে যে স্পিন দিয়ে ঘায়েল করার ভাবনা দেখিয়েছেন মাশরাফি, তা অমুলকই। দুটি টি২০ ম্যাচে যে বাংলাদেশ হেরেছে, তা তো দক্ষিণ আফ্রিকা স্পিন ভাল খেলে বলেই। আমলার কথার প্রমাণ অবশ্য ভালভাবেই দিয়েছেন রাবাদা। একাই ৬ উইকেট নিয়েছেন। আবার বিশ্বের প্রথম পেস বোলার হিসেবে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করেছেন। এ্যালান ডোনাল্ডের পর দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার যোগ্যতাও দেখান রাবাদা। বিশ্বরেকর্ড গড়েন। রাবাদা একাধারে তামিম, লিটন, মাহমুদুল্লাহ, সৌম্য, মাশরাফি, জুবায়েরের উইকেট নেন। এ পেসারের বলেই তছনছ হয়ে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হতেই দক্ষিণন আফ্রিকা যে আরামেই জিততে যাচ্ছে তা বোঝা যায়। শেষ পর্যন্ত ২ উইকেট হারিয়ে বড় জয়ই তুলে নিয়েছে দক্ষিন আফ্রিকা। ৬৫ রানে দুই উইকেট পড়ার পর তৃতীয় উইকেটে প্লেসিস ও রুশো মিলে ৯৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।

দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজে ৫২ ও ৩১ রানে জেতার পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতেও ৮ উইকেটে জিতেছে প্রোটিয়ারা। আর টি২০’র মতো ওয়ানডেতেও হেরেই সিরিজ শুরু হলো বাংলাদেশের।

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫

১১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: