মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

টানা বর্ষণে রাজধানীতে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫
টানা বর্ষণে রাজধানীতে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ
  • বৃষ্টি আরও দু’দিন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ টানা বর্ষণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের মানুষ। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল রয়েছে। বৃষ্টিপাত আরও এক দু’দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। শুক্রবারও বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়ে রাজধানীবাসী। নগরীর রাস্তাঘাট ও গলিপথ হয়ে ওঠে কর্দমাক্ত ও অস্বাস্থ্যকর। জলাবদ্ধতার পাশাপাশি রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজও রাজধানীর জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। আজ শনিবারও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, বাংলাদেশ ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের অদূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি শুক্রবার সন্ধ্যায় গাঙ্গেয় পশ্চিম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। এর একটির বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র প্রবল অবস্থায় রয়েছে। আজ শনিবার ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে গত দু’দিন ধরে বৃষ্টি পড়ছে রাজধানীতে। শুক্রবার বেড়ে যায় বৃষ্টির পরিমাণ। আর বৃষ্টি মানেই জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরীর যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় সেই সব এলাকায় জলাবদ্ধতা যেন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবারও ওই সব এলাকা বিশেষ করে রাজধানীর মানিক মিয়া এ্যাভিনিউ, রাজাবাজার, তেজতুরি বাজার, কাওরান বাজার, মৌচাক মোড়, পুলিশ লাইন, নাখালপাড়া, তেজকুনিপাড়া, খিলগাঁও, পুরাতন ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড, কাকরাইল, মোহাম্মদপুর, আদাবর, কল্যাণপুর, টিকাটুলি, হাটখোলা, রাজধানী সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেট, ধানম-ি ২৭ নং রোডসহ অনেক স্থানে সৃষ্টি হয় সাময়িক জলাবদ্ধতা। গত কয়েক মাস ধরেই নগরজুড়ে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। সংস্কারের অভাব ও খোঁড়াখুঁড়ির কারণে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। বৃষ্টির পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে ওই সব জায়গা। এমনিতেই ব্যবহারের অনুপযোগী রাজধানীর ৪০ ভাগের বেশি রাস্তা। রাজপথ থেকে অলিগলি সবখানেই রাস্তার বেহাল দশা। কোথাও বিশাল গর্ত। সংস্কারের অভাবে কোথাও কোথাও রাস্তা পরিণত হয়েছে ড্রেনে। তবে রাজপথ থেকে রাজধানীর অলিগলির চিত্র খুবই করুণ। সংস্কার না থাকায় দুর্ভোগের শেষ নেই নগরবাসীর। কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে রাস্তা মেরামতে পট হোলস কর্মসূচী দিয়ে লোকদেখানো কাজ চলে প্রতি বছরই। সংস্কারের ক’দিন পরই বেহাল চিত্র ফুটে ওঠে। প্রতিবছরই এমন অভিজ্ঞতা পেতে হয় নগরবাসীদের। বিশেষ করে বৃষ্টিপাত হলে নগরীবাসীর দুর্ভোগের মাত্রা যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রাস্তার ওপর জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে পা রাখতে গিয়ে অজান্তেই গর্ত পড়তে হয় পথচারীদের। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার বেলা সাড়ে বারোটায় শান্তিনগর এলাকায় থৈ থৈ পানি। কর্ণফুলী গার্ডেন থেকে মালিবাগ মোড় পর্যন্ত রাস্তায় হাঁটু পানি। ফুটপাথের দোকানপাট উঠে গেছে। অনেক দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে ভিজে যাচ্ছে রিক্সযাত্রীদের পা। পানি নিচে থাকা খানাখন্দের ভয়ে পথচারীর চলাচলও কমে যায়। পানির কারণে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক সিএনজি চালিত অনেক অটোরিক্সার। রাজধানীর শান্তিনগরের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবারই বৃষ্টির সময় দোকানের ভেতরে পানি ওঠে। রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ফুটপাথ দিয়েও মানুষ হাঁটতে পারে না। রাস্তায় সিটি করপোরেশনের ময়লা-আবর্জনাগুলো পানিতে ভেসে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। মালিবাগ মোড় থেকে কাকরাইল, শান্তিনগর, রাজারবাগে ফুটপাথে হকারদের পণ্যের বর্জ্যগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখা হয়। বৃষ্টি হলে এগুলো ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন আবুল হোসেন। ফকিরাপুল ও আরামবাগ এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। নয়া পল্টন মোড় থেকে নটরডেম কলেজ পর্যন্ত পানি জমে ওঠে। ফকিরাপুলের বাসিন্দারা জানান, কয়েক ঘণ্টার মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হলেই এই এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি হলে এখানে হাঁটুপানি জমে যায়। রিকশা এ সময় যেতে চায় না। দু’একটি রিকশা পেলেও বেশি ভাড়া চায়। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় ৩/৪ ফুট পানি জমে যায়। তখন অনেক চেষ্টা করেও রিকশা পাওয়া যায় না। পরে অনেক কষ্টে ভিজে ভিজে বাসে উঠতে হয়। বৃষ্টিতে নিউমার্কেটের এক নম্বর গেটের সামনের সড়কে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত হাঁটু সমান পানি। নিউমার্কেটের ভেতরে আংশিক এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। বিশেষ করে নিউমার্কেটের এক নম্বর গেট সংলগ্ন হাঁটার পথে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। হাঁটার পথের চেয়ে দোকানের উচ্চতা বেশি থাকায় ভেতরে পানি প্রবেশ করতে পারেনি। দিনভর বৃষ্টির কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মভাবে ব্যাহত হয়।

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫

১১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: