২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পুলিশকে ঘুষ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা


স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ নগরীর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের মাঝে চলছে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি। দায় এড়াতে পরস্পরকে দায়ী করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন নগর পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নতুন নতুন কর্মকর্তাদের নাম জড়িয়ে পড়ায় তারা আছেন আতঙ্কে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ঘুষ গ্রহণকারীদের মধ্যে উপ-কমিশনারসহ দায়ী ১১ পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এখন ঘুষ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে বরখাস্ত উপ-কমিশনার জিল্লুর রহমান নিজের দোষ স্বীকার করে পুলিশ সদর দফতরে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, তিনি প্রথমে ঘুষ নিতে চাননি, তাকে প্ররোচিত করা হয়েছে। তাই প্ররোচনাকারী ঘুষ প্রদানকারীদের শাস্তির আওতায় আনার আভাস দিয়েছেন পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যাংকে জমা করে কালো টাকা সাদা করার চেষ্টার অভিযোগে উপ-পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমানসহ ঘুষ লেনদেনকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক মানিলন্ডারিং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সূত্রটি আরও জানিয়েছেন, সাসপেন্ড হওয়া উপ-পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমান পুলিশ সদর দফতরে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ঘুষের ৫০ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার যে বর্ণনা দিয়েছেন, ব্যাংকের পক্ষে মামলা করার জন্য তা যথেষ্ট আলামত। সূত্র মতে, পুলিশ সদর দফতর ও ব্যাংক যখন ঘুষ লেনদেনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপর তখন বিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারা নিজেদের রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অভ্যন্তরীণ তদন্তের জন্য গঠিত কমিটি থেকে ডিসি (হেডকোয়ার্টার) সোয়েব আহমেদকে সরিয়ে দেয়ার পর তিনি তদন্ত কমিটি নিয়ে স্বয়ং পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। সোয়েব আহমেদ বলেন, পুলিশ সদর দফতর যে বিষয়টির তদন্ত করছে তার জন্য বিএমপিতে কমিটি গঠনের কোন যুক্তি নেই। সোয়েব আহমেদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তাকে এ ঘুষ কেলেঙ্কারিতে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চলছে। যদিও ডিসি (সাউথ) আব্দুর রউফ পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েছেন, ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি তিনি ডিসি সোয়েবকে জানালেও সে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এ অভিযোগেই গত শুক্রবার তদন্ত কমিটি থেকে সোয়েবকে সরিয়ে দিয়ে ডিসি (ট্রাফিক) আবু রায়হানকে দায়িত্ব দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।

এ রদবদলের সময় পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি সোয়েব আগেভাগেই অবহিত থাকায় তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সোয়েব তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে অধীনস্থদের কাছ থেকে তার (পুলিশ কমিশনার) জড়িত থাকার মিথ্যা তথ্য আদায় করেছেন। এসব অভিযোগেই তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার জানান, সিকিউরিটি সেল তার বিরুদ্ধে কোন সুপারিশ করেনি। অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটিতে যে রদবদল আনা হয়েছে তার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়োজিত ডিসি (ট্রাফিক) আবু রায়হান এতদিন ছুটিতে ছিলেন। গত রবিবার তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেই তদন্তের কাজে হাত দিয়েছেন। সিকিউরিটি সেলের তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের নিরাপত্তা শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি আলমগীর আলম জানান, ঘুষ প্রদানকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘুষ দিয়ে তারাও অপরাধ করেছে।