২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চলে গেলেন সফল শিল্পোদ্যোক্তা


চলে গেলেন আমজাদ খান চৌধুরী- প্রাণের প্রাণপুরুষ, বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা, দেশে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের পথিকৃৎ। কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি সৈনিক হিসেবে। ১৯৮১ সালে সেনাবাহিনী থেকে যখন অবসরে যান তখন ছিলেন মেজর জেনারেল। বলা যায় একটি জীবনের বাঁকবদল ঘটিয়ে তিনি প্রবেশ করেন আরেক জীবনে। প্রথমে তিনি রংপুরে টিউবওয়েল তৈরির কারখানা হিসেবে রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড (আরএফএল) প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ১৯৮৫ সালে গড়ে তোলেন এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং কোম্পানি, যার ব্র্যান্ড নাম প্রাণ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এখন দেশের শীর্ষ কয়েকটি গ্রুপের একটি। তাদের উৎপাদন তালিকায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য অল্পকালের ভেতরেই সুনাম অর্জন করে। শুধু তাই নয়, এই ব্র্যান্ডের সুনাম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ১০৮টি দেশে প্রাণ-আরএফএল নিজস্ব ব্র্যান্ড নামে পণ্য রফতানি করে। কৃষিনির্ভর দেশে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের উদ্যোক্তা হিসেবে দারুণ সম্ভাবনাময় একটি শিল্পে আত্মনিয়োগ করে অভাবিত সাফল্য অর্জন করেন আমজাদ খান চৌধুরী। ৮ জুলাই বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় ডিউক মেডিক্যাল হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক প্রকাশ করেছেন।

গ্রুপের ৬০ হাজারের বেশি কর্মীর কাছে আমজাদ খান চৌধুরী ছিলেন একজন উদ্যোক্তার চেয়েও বেশি কিছু। তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানে এমন কিছু নিয়ম চালু করেছেন, যা অন্য কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় না। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সবার পোশাক একই, নীল শার্ট। নিজেদের মধ্যে সাম্যের রীতি রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও একই রঙের শার্ট পরে অফিসে যান। খাবার জায়গায় চেয়ারম্যান বা অন্য উর্ধতনদের আলাদা টেবিল নেই। মালিক অফিসে গেলে কাউকে উঠে দাঁড়াতে হয় না, বরং কাজে মনোযোগকে সেখানে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। বাড়তি সময় কাজের জন্য প্রত্যেকে পান বাড়তি বেতন।

আমজাদ খান চৌধুরী সেই বিনিয়োগকারীদের একজন যিনি এমন সব এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠা করেছেন যেখানে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি, যাতে দরিদ্ররা তাঁর কারখানায় কাজ করে তাদের অভাব মোচন করতে পারে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কর্পোরেট লক্ষ্যও দারিদ্র্য বিমোচন। এখন এ গ্রুপের ওপর সরাসরি নির্ভর করে ১০ লাখ পরিবারের জীবিকা। তিনি আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন রিহ্যাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সভাপতিও ছিলেন। এছাড়া বঞ্চিত শিশুদের প্রতিষ্ঠান ইউসেপের সভাপতিও ছিলেন আমজাদ খান। জাতীয় রফতানি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখায় প্রাণ ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে শুরু করে (২০০৫-০৬ বাদ দিয়ে) ২০১০-১১ অর্থবছর পর্যন্ত জাতীয় রফতানি ট্রফি অর্জন করেছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রেখেই ব্যবসা পরিচালনা করে গেছেন আমজাদ খান। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বিশেষ করে গ্রামীণ মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে কোম্পানিটি। দেশের শীর্ষ সম্পদশালীদের সারিতে পৌঁছে গেলেও দরিদ্র শ্রেণীর জন্য নানামুখী অবদান রাখার জন্য আমজাদ খান চৌধুরীকে মানুষ স্মরণ করবে।