২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মাতৃদুগ্ধের চেয়ে গুঁড়োদুধের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন মা ও অভিভাবকরা


স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় ‘মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্য বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘিত হলেও এই বিষয়ে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়া যাচ্ছে না। বরং কোম্পানিগুলোর বিপুল অর্থ ব্যয় ও বিপণন প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে মাতৃদুগ্ধের চেয়ে বিকল্প গুঁড়োদুধের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে মা ও অভিভাবকরা। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারের অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্য বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩-এর আলোকে গ্রামাঞ্চলে অংশীদারদের ভূমিকা’ শীর্ষক গবেষণা তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনকালে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

বক্তরা বলেন, বহুজাতিক কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান। আকর্ষণীয় ও লোভনীয় সুযোগসুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ডাক্তারদের মাধ্যমে গুঁড়োদুধ প্রেসক্রিপশন করা, পত্রিকায় ও টিভি চ্যানেলগুলোতে অধিক হারে বিজ্ঞাপন প্রচার, সাংবাদিক ও সংবাদ প্রতিষ্ঠানকে ম্যানেজ করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এই কাজ করে যাচ্ছে।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এই বিষয়ে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করে। যশোরের সদর, শার্শা, অভয়নগর, ও সিলেটের বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বিয়ানি বাজারে এই গবেষণা জরিপ পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের স্টাফ গবেষক ফাহমিদা আকতার। গবেষণা প্রবন্ধে জানানো হয়, ডাক্তারসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন আছে এটা জানলেও আইনের বিভিন্ন ধারা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত নন। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এতে আরও বলা হয়, গুঁড়োদুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের দিয়ে এমন কৌশলে মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্যের ব্যবস্থাপত্র দিতে প্রলুব্ধ করে যাতে কোন চিকিৎসক তা করছেন তা বোঝা না যায়।

জরিপে বলা হয়, মাতৃদুগ্ধ বিকল্প ব্যবহার শুরু হওয়ার দুটি মোক্ষম সময় হচ্ছে- সন্তান প্রসবের পর পর যখন মায়ের বুকে দুধ আসতে দেরি হয় এবং কর্মজীবী মায়েরা যখন কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেন।

এতে আরও বলা হয়, কৌশলে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প প্রেসক্রাইভ করা হয় যাতে কে করেছে সেটা বোঝা না যায়। এছাড়া অভিভাবকরা মায়ের দুধকে শিশুর পুষ্টি ও বর্ধনের জন্য যথেষ্ট মনে করছেন না। শহুরে, আধুনিক, শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীর ধারণা শিশুদের মায়ের দুধ পান করালে মায়েদের স্বাস্থ্যহানি ঘটে। তাদের দেখে শহরে বা গ্রামের লোকেরাও একাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকেন বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য অধিদফতরের এডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল প্রফেসর ডাঃ আব্দুল হান্নান বলেন, অনেকেই এ আইন সম্পর্কে অবহিত নয়। আমাদের সকলের উচিত সবাইকে সচেতন করা। এছাড়া যে ডাক্তাররা সচেতন নয় তাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানানোর বিষয়টি ব্যক্ত করেন তিনি।