১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রাজধানীতে কলেজছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা, টাকা ও অলঙ্কার লুট


রাজধানীতে কলেজছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা, টাকা ও অলঙ্কার লুট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর মিরপুরে দিন দুপুরে বাসায় ঢুকে কলেজ ছাত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় ওই ফ্ল্যাটে কলেজ ছাত্রী ছাড়া আর কেউ ছিল না। হত্যার পর ওই বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশের ধারণা, ডাকাতিতে বাধা দেয়ায় বা প্রেমিক ও তার বন্ধুবান্ধব কর্তৃক বা উত্ত্যক্তকারীরা পরিকল্পিতভাবে গণধর্ষণের পর হত্যা বা পারিবারিক বিরোধের সূত্রধরে হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। যদিও রাত আটটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত কলেজ ছাত্রীর কোন প্রেমিক বা তাকে উত্ত্যক্ত করে এমন কেউ থাকার বিষয়টি স্থানীয়, পুলিশ বা পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যাকা-ের প্রকৃত কারণ জানতে কলেজ ছাত্রীর পিতামাতাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত রক্তমাখা বটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার মিরপুর মডেল থানাধীন রাইনখোলার ২ নম্বর সেকশনের ২ নম্বর সড়কের চ ব্লকের ২৬৫/২৬৬ নম্বর নির্মাণাধীন পাঁচতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায়

ঘটনাটি ঘটে। বাড়িটির তৃতীয়তলা পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ চলছে। দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ ফ্ল্যাটের বেডরুম থেকে গলা কেটে হত্যা করা তরুণী আমেনা খাতুন রেশমার (২০) উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়।

লাশ উদ্ধারকারী মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, রেশমাকে জবাই করা হয়েছে। তার লাশটি বেডরুমের ফ্লোরে ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা বটি উদ্ধার হয়েছে। বটি দিয়েই রেশমাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা সে বিষয়টি অবশ্য পরিষ্কার নয়। কারণ হত্যাকারীরা ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যার পর বাড়ির বটিতে রক্ত মেখে, হত্যাকা-ের মোটিভ ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দিতে রেখে যেতে পারে। রক্তমাখা বটি হত্যাকা-ের আলামত হিসেবে জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়, রেশমাদের বাড়ির বটিটি দিয়েই তাকে হত্যা করা হতে পারে। নিহত রেশমা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন পরিচালিত মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে অবস্থিত বিসিআইসি কলেজের শিক্ষার্থী।

নিহতের পিতার নাম মোঃ আলমগীর হোসেন। তার বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া থানাধীন সেকান্দরপুর গ্রামে। তিনি মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ভবনের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। পিয়ন পদে কর্মরত। নিহতের মা মরিয়ম বেগম।

রেশমার মা মরিয়ম বেগম জানান, সকালে তিনি রেশমা ও তার স্বামীকে বাসায় রেখে মিরপুর হাজিপাড়ায় জরুরী কাজে যান। পরে রেশমার পিতা মতিঝিল অফিসে চলে যায়। ঘণ্টাখানেক পরে বাসায় ফিরে শোবার ঘরের মেঝেতে মেয়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। লাশের পাশে একটি রক্তমাখা বটিও ছিল। ঘরের আলমারি খোলা ও ভেতরে কাপড়সহ সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। আলমারি থেকে টাকা লুট হয়েছে। টেলিফোনে মেয়ের খবর শুনে আলমগীর বাসায় ফেরেন বেলা আড়াইটার দিকে।

তিনি জানান, রেশমার মা বের হওয়ার পর তিনিও অফিসে চলে যান। বাইরে থেকে তালা দিয়ে যান। ঘরে রেশমা একাই ছিল। আমাদের সবার কাছেই ঘরের চাবি আছে। এজন্য তালা দিয়ে গেলেও কোন সমস্যা ছিল না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে রেশমারা বাসাটিতে ভাড়ায় ওঠেন। মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আরেফিন সিদ্দিক জনকণ্ঠকে বলেন, রেশমার পিতার তিন স্ত্রী। সবার বড় স্ত্রী বিসিআইসির সরকারী কর্মচারী কোয়ার্টারে বসবাস করেন। বড় স্ত্রীর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। রেশমা তার পিতার দ্বিতীয় স্ত্রীর একমাত্র সন্তান। সবার ছোট স্ত্রী ঝালকাঠিতে বসবাস করেন। সেই ঘরেও সন্তান রয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: