২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার সংলাপে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করা হবে


স্টাফ রিপোর্টার ॥ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মোকাবেলার বৃহত্তর সংলাপে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব সত্বর এ বিষয়টি বিবেচনা করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসির ফরেন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ সোল। এদিকে জাতিসংঘ সদর দফতরে এসকেপ আয়োজিত এক বৈঠকে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে অনুসরণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আলোচকরা।

সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে গত হোয়াইট হাউস সামিটের অগ্রগতি নিয়ে ওয়াশিংটনে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে বৈঠকটি নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টার থেকেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেখানো হয়। এ সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দেন সারাহ সোল।

বাংলাদেশকে কিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বিরোধী কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায়Ñ এমন প্রশ্নের উত্তরে আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ সোল বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার বৃহত্তর সংলাপে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করা হবে। এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে এটা বিবেচনায় নেয়া হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ উন্নয়ন ও মানবকল্যাণ জোরদারে সন্ত্রাসবাদবিরোধী যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তা একটি চমৎকার সমাধানের পথ উন্মুক্ত করছে। সমাজব্যবস্থা থেকে চরম জঙ্গীবাদ দমনে এ ধরনের বড় সংলাপে সম্পৃক্ত হয়ে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে এবং একটা সুন্দর দৃষ্টান্ত হতে পারে।

সারাহ সোল বলেন, জঙ্গীবাদীদের আদর্শের দ্বারা যে সহিংসতার প্রচার হয় তা হয়তো অনেক বিবেচনায় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বিবেচ্য হয় না। তবু এটা সমাজকে ও মানুষকে একটা চরম ঝুঁকির সম্মুখীন করে। আর এটা রাজনৈতিক ভিত্তিতে ঘটতে পারে, যা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মধ্যপ্রাচের উগ্র জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী আইএস মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বকে একত্রিত করে সমন্বিত কোন উদ্যেগ গ্রহণের পরিকল্পনা নেয়া যায় কিনাÑ এমন এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ সোল বলেন, জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদের নিয়মিত এ হুমকি মোকাবিলায় আত্মনির্ভরশীল প্রতিটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছাড়াই তাদের করণীয় নির্ধারণে সক্ষম। তবে বিভিন্ন পন্থার চরম সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় একটি বৈশ্বিক আলোচনায় আমরা সবাইকে উৎসাহিত করছি। এক্ষেত্রে আমরা কিছু সাধারণ মূলনীতি ও বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছি যা সন্ত্রাস মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ।

ধর্মীয় প্রবৃত্তি, জাতিগত স্বাতন্ত্র্য, বিভক্তি সন্ত্রাসবাদের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে বলে উল্লেখ করে সারাহ সোল বলেন, এক্ষেত্রে আধুনিকতার প্রসার ঘটানো গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই বিশ্বের বিভিন্ন সম্প্রদায় ও অঞ্চলের যার হুমকিতে রয়েছে তারা তাদের মতো করে তা মোকাবেলা করবে। তবে কয়েকটি মূলবিষয় রয়েছে যা সবাই অনুসরণ করতে পারে। বিশ্বসম্প্রদায় কেন তাদের আলোচনায় চরম জঙ্গীবাদের বিরোধিতা করছে এ নিয়েও আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

সারাবিশ্বের জন্যই সন্ত্রাসবাদ চরম হুমকি উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিষয়টির প্রতিরোধ জাতিসংঘের এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করছেন মহাসচিব বান কি-মুন। এটা সদস্য রাষ্ট্রসমূহের দায়িত্ব। দেশের যে কোন একটি সম্প্রদায়, সরকারবিরোধী সম্প্রদায় দ্বারা সন্ত্রাসবাদের হুমকি আলাদভাবেও তৈরি হতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণ অধিবেশনে তা নিয়ে কথা উঠতে পারে। সম্ভাবনার জন্যও সব দরজা খোলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ওবামা প্রশাসনের এ শীর্ষ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে এক সামিটের আয়োজন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ সামিটে যোগ দিয়েছিলেন। এখন থেকে প্রতিবছর এ সামিটের আয়োজন করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের এ সামিটের মূল সংলাপে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করতে চায় দেশটি।

টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ ॥ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে অনুসরণ করে এসকেপভুক্ত অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির নির্বাহী সচিব শামসেদ আখতার। বুধবার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন জোটের (ইউএন-এসকেপ) উদ্যোগে জাতিসংঘ সদর দফতরে সদস্য দেশগুরোর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশসহ এসকেপ’র সদস্য রাষ্ট্রগুলো অংশ নেয়। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন এসকেপ আঞ্চলিক কমিটির নির্বাহী সচিব শামসেদ আখতার।

বৈঠকে বিভিন্ন আঞ্চলিক বৈঠক ও আলোচনার ফলাফল, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সমুদ্র অর্থনীতি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, শক্তি দক্ষতা, অর্থনীতি ও দেশভিত্তিক অভিজ্ঞতাসহ টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে এর সঞ্চালক শামসেদ আখতার টেকসই উন্নয়নের ওপর আঞ্চলিক আলোচনার সার-সংক্ষেপ তুলে ধরেন।

সমুদ্র অর্থনীতি ওপর আলোকপাত করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশকে ৩৩ কোটি বর্গকিলোমিটারেরও বেশি সমুদ্র অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে, যা এ অঞ্চলে এসডিএ বাস্তবায়নে বিশেষ দাবি রাখে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরকে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের সমৃদ্ধিতে সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহারে তিনি বিশদ পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছেন।

বৈঠকে সহাস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় উল্লেখযোগ্য অর্জনকে সামনে রেখে সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা হবে বলে একমত হয় এসকেপভুক্ত দেশগুলো।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: