১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

স্বদেশ রায়-এর একগুচ্ছ কবিতা


বেহুলা

তুমি কেন এত রক্ত ভালোবাসো

রক্ত কী দেয় তোমাকে?

আমিও হাত রাঙাতে পারি

তবে রক্ত নয় মেহেদি পাতায়।

তুমি আমাকে খুব ভীরু ভেবেছ

ভেবেছ আমি শুধু এমনি কাটাব বেলা

ভাব ক্ষতি নেই আমার।

তুমি কি জানো, তুমি শুধু মৃত্যু ভালোবাসো

খেল রক্তাক্ত খেলা।

আমার হাতে মেহেদি মাখা

আমি জন্মদাত্রী বেহুলা।

পৃথিবীর কঙ্কাবতী

অনেক তুমি উঁচু ছিলে

আকাশ সমান মাথা

রাতজাগা পাখির পাখায় স্বপ্ন ছিল

বাতাস হয়ে ছোটা।

ভোরের বাতাস অনেক উদাস

স্বপ্নমাখা গায়

রাতজাগা শুকতারা

নতুন ভোরে মুখ লুকায়।

অনেক তোমার আঁচল ছিল

শর্ষে ফুলে ডোবা

নরম দুটি পা

পড়লে বুকে আঁচড় কাটে না।

তানপুরার তারগুলি

তুমিতো ছিলে ঠিক জোয়ারের জল

কেন এত শান্ত হলে?

সময়ের কোন্ কাঠবিড়ালী

বালু দিয়ে বাঁধল তোমাকে !

সীতা সীতা সীতা

সীতা জপে সাগর বাঁধে রাম।

না হয় থাকুক সীতা অশোক বনে

তা’বলে সাগরে কেন বাঁধ!

বরং জোয়ারের জলে দেখি সীতার মূর্তি

কেমন সে জল কল কল।

তুমি আবার হও জোয়ারের জল

আমি নাইবা হই উদ্দাম কিশোর।

দুই নদীর গল্প

সাগরবাহী নদী।

এমনিতে সে ফুঁসতে থাকে।

যেন কতকালের রাগ তার কিছুতেই পড়ছে না চাপা।

সেদিনও ফুঁসতে ফুঁসতে আসে তার পানি।

নৌকাটিকে দোলায় খোলামকুচির মতো।

আমি নৌকার গলুইয়ে বসেছিলাম।

তুমি ছিলে ছৈয়ের ভেতর।

দুজনের চোখ যত কথাই বলুক

আমরা ছিলাম চিরকালের অচেনা।

জোয়ারের মাতাল ঢেউয়ে নাচতে নাচতে

নৌকা কূলে পৌঁছে।

তুমি চড়ার বুকে ফুলের পাপড়ি এঁকে

চলে গেলে ধীরে ধীরে।

আমি একবার তোমার দিকে তাকিয়ে

ফিরে তাকালাম সাগরবাহী নদীর বুকে।

দেখলাম জোয়ারের জল কেমন ফুঁসতে ফুঁসতে চলে যাচ্ছে।

ডিবি অফিসের মাথায় চাঁদ

(গ্রেফতার হওয়া মুনতাসীর মামুনকে)

রাজধানী ঢাকার ডিবি পুলিশ অফিসের মাথার ওপর

উঠেছিল মস্ত বড় এক বৌদ্ধ পূর্ণিমার চাঁদ।

পুলিশ অফিসের ভেতরে কী চলছিল রাস্তার মানুষ

তার বিন্দু বিসর্গ জানে না।

আকাশের চাঁদটাকে তাকিয়ে দেখছিল

অনেক বেকার তরুণ, বাদাম বিক্রেতা বা অর্থবিত্তহীন চল্লিশের যুবক।

এদের সকলের চোখের ওপর প্রলেপ দিয়েছিল একখ- মেঘ।

চোখ থেকে হারিয়ে গেল সুডৌল চাঁদ।

তরুণের চোখে আবার ফিরে এল কাজ পাবার স্বপ্ন

যা ঢাকা আছে একখ- মেঘে।

বাদাম বিক্রেতার চোখ খুঁজল খরিদ্দার

চল্লিশের যুবকের চোখ নির্বিকার।

বৌদ্ধ পূর্ণিমার চাঁদ আবার এল মেঘ ঠেলে বেরিয়ে

এবারও সে আগের মতো নির্বিকার।

বাদাম বিক্রেতা গুটিয়ে নিয়েছে তার ডালি

এবার সে চলবে বাসার পথে।

চল্লিশের যুবক অনেক আগেই পড়েছে কেটে

তরুণ জিনসের পকেটে হাত ঢুকিয়ে এখনও হাঁটছে রাস্তায়।

বৌদ্ধ মঠে এখনও কি সমবেত শিশুরা

বুদ্ধের মতো নিষ্পাপ গলায় বলছে

বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি, সংঘং শরণং গচ্ছামি

মানুষ কি ভুলে গেছে সংঘ?

এমন চাঁদের আলো ম্লান করে

সকালে দেখবে কি সংবাদপত্রে

রক্তাক্ত লাশ?

স্রোতের আহ্বান

এই বৃষ্টিতে তোমার ঘরের দুয়ারে বেড়ে গেছে অনেক ঘাস

লতিয়ে উঠছে তারা তোমার বারান্দায়

কোন কোন দিন সকালে তারা বৃষ্টির ফোঁটা ডগায় নিয়ে

দাঁড়িয়ে থাকে তোমাকে অভ্যর্থনা করার জন্যে

তুমি ঘুম ভাঙা কিশোরী মুখে এসে বস ওদের পাশে

খুব আস্তে করে তুলে নাও আঙুলে একফোঁটা বৃষ্টির পানি

তোমার আঙুল হয়ে ওঠে কচি ঘাসের ডগা

সকালের বাতাসে সেও এলোমেলো

বৃষ্টির পানির ফোঁটা কী স্বচ্ছ আয়না

তোমার ঘুম ভাঙা চোখে ওই আয়নায় দেখো কি আমার মুখ

আমি ধরেই নিয়েছি তুমি দেখ আমার মুখ

আমার সব কাজের আজ ইতি

খুব জরুরী ক্লাসটি আজ দরকার নেইয়ের খাতায়

এক পলক তোমার মুখ দেখতেই ঘাড়ে নিলাম ব্যাগ।