২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা জারির পর স্বস্তিতে কর্মকর্তা কর্মচারীরা


স্টাফ রিপোর্টার ॥ নীতিগ্রহণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা জারির পর স্বস্তিতে আছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নির্দেশনা জারির আগে অস্বস্তিতে ছিলেন বলে দাবি তাদের। এদিকে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানের একক কর্তৃত্ব খর্ব করে নির্দেশনা জারি নিয়ে কোন ‘ধোঁয়াশা’ সৃষ্টি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আর অসুস্থ থাকার তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি শিক্ষা সচিব।

একাদশ শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে জটিলতার পর শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানের কর্তৃত্ব খর্ব করে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার পর মন্ত্রীর ওই নির্দেশনা জারিতে কার্যত ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছেন সচিব। ঘটনার পর থেকেই বুধবার সংশ্লিষ্টদের বিশেষত গণমাধ্যমের বিশেষ নজর ছিল সচিবের প্রতি। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সভার পর তড়িঘড়ি সংসদের উদ্দেশে বের হয়ে যাচ্ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান-মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা জারির পর এ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে কি না? মন্ত্রী লিফটে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে বলেন, ধোঁয়াশা কোথায় পেলেন? কোনো ধোঁয়াশাই সৃষ্টি হয়নি। এরপরই মন্ত্রীর দফতরে আসেন সচিব। মন্ত্রীকে না পেয়ে নিজের কক্ষে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন ‘কাজে ব্যস্ত’। এ সময় তাকে খানিকটা বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ডজনখানেক প্রতিবেদক সচিবের সাক্ষাত চেয়ে তার কক্ষে ভিজিটং কার্ড পাঠান। সচিবরে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম মিলন কার্ডগুলো ফেরত দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্যার বিনীতভাবে বলেছেন তার শরীর ভাল নয়। তিনি সাক্ষাত দিতে পারছেন না। তিনি অসুস্থ। এর আগে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে মন্ত্রীর যে সভা ছিল সেখানেও দেখা যায়নি শিক্ষা সচিবকে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কাঠানো নিয়ে উপাচার্যরা তাদের ক্ষোভের বিষয়গুলো জানাতেই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সরকারের আমলাদের নিয়েও উপাচার্যরা ক্ষোভ জানাতে পারেন এমনটা ধরে নিয়েই সচিবকে সভায় রাখা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রী-সচিবের অধীনস্থরা এত দিন দোদুল্যমনায় ছিলেন। এককভাবে সচিব সিদ্ধান্ত নিলে তা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে মন্ত্রীর কাছেও বিপাকে পড়তে হতো। নির্দেশনার পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। ফলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে মন্ত্রীর নজরে আসবে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকেই সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম মিলনকে নিয়ে আপত্তি তুলছেন সাংবাদিকদের কাছে। তারা বলেছেন, মিলন কর্মচারী ইউনিয়নের বিএনপি-জামায়াতপন্থী প্যানেলের শীর্ষ নেতা। তাকে তার সরকারীবিরোধী রাজনৈতিক পরিচয় ও তার বিরুদ্ধে নারী অফিসারদের সঙ্গে অশোভন আচরণের জন্য ইতোপূর্বে শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। বিষয়টি জেনেও সচিব তাকে আবার মন্ত্রনণালয়ে নিয়ে এসেছেন নিজ দফতরে। এ নিয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের সরকার সমর্থন পক্ষ মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। তার পরেও তাকে কেন রাখা হচ্ছে।