২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই করল এসআই


নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া, ৮ জুলাই ॥ কুষ্টিয়ায় নৈশকোচের ব্যবসায়ী এক যাত্রী ও তাঁর ভাইকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ও তাদেরকে নির্যাতন করে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমারখালী থানার এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। পুলিশের নির্যাতনের শিকার ওই দুই ভাই কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ বেলগাছি গ্রামের আমির ব্যাপারীর ছেলে সিরামিক ব্যবসায়ী উজ্জ্বল (২৫) ও ছোট ভাই আজিজুর রহমান (২৩)। এ ব্যাপারে উজ্জ্বল মঙ্গলবার দিনভর চেষ্টা-তদ্বির করেও থানায় সাধারণ ডায়েরি করাতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিমের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ করেন। পুলিশ সুপার ঘটনার বিবরণ শুনে তাকে এ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। ব্যবসায়ী উজ্জ্বল অভিযোগ করেন, গত সোমবার ঢাকা থেকে তিনি সৌহার্দ পরিবহনের একটি নৈশকোচে এসে রাত ১২টার দিকে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ডে নামেন। সেখানে তার জন্য অপেক্ষারত ছোট ভাই আজিজুর রহমান (২৩)। মোটরসাইকেলযোগে তিনি গ্রামের বাড়ি শিলাইদহের বেলগাছি গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের মোটরসাইকেলটি উপজেলার আলাউদ্দিন নগর মোড়ে পৌঁছুলে সেখানে পেট্রোল ডিউটিরত কুমারখালী থানার এসআই কাফী ফোর্সসহ তল্লাশির নামে পথরোধ করেন। এ সময় উজ্জ্বলকে মাদক ব্যবসায়ী অভিযোগ তুলে এসআই কাফী তাঁর সাইড ব্যাগ তল্লাশি করে ব্যবসায়ীক কাজে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও জামা কাপড় পায়। এ সময় পুলিশ দুই ভাইকে নেশাখোর, ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী বলে ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে লাথি ঘুষিও মারতে থাকে। এক পর্যায়ে থানায় নেয়ার কথা বলে কিছুদূর গিয়ে বোর্ড অফিসের নিকট এক অন্ধকারে পিকআপ থামিয়ে সাইড ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয় এসআই কাফী। পরে তাদের কাছে নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তারা কোন টাকা দিতে পারবে না জানালে এসআই কাফী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং বলে ৫০ হাজার টাকা না দিলে তোদের ক্রসফায়ারে দেয়া হবে। এ সময় দুই ভাইকে বেদম মারধর করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভীত হয়ে শেষ পর্যন্ত উজ্জ্বল এসআই কাফীকে নিজের কাছে থাকা ব্যবসায়ের টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা বের করে দেয়।

টাকাটা হাতে নিয়েই এসআই কাফী তার বুকে অস্ত্র ধরে বলেন, সোজা বাড়ি চলে যাবি! আর এসব কথা কাউকে বলবি না। বললে, ক্রসফায়ার দিয়ে মারা হবে তোকে। উজ্জ্বল বলেন, পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি শিলাইদহ ইউপি চেয়ারম্যান তারেককে জানালে তিনি থানায় গিয়ে ডায়েরি করার পরামর্শ দেন। তার পরামর্শে আমি থানায় গিয়ে বিষয়টি উল্লেখপূর্বক সাধারণ ডায়েরি করতে চাইলে থানা থেকে আমাকে বের করে দেয়া হয়। এ অবস্থায় আমি কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিমের দফতরে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করি। তিনি ঘটনা শুনে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আমাকে জানান। এ বিষয়ে শিলাইদহ ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন খান তারেক বলেন, মঙ্গলবার সকালে ব্যবসায়ী উজ্জ্বলের কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে তাকে আমি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি অথবা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেয়। চেয়ারম্যান বলেন, উজ্জ্বল একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ঢাকা থেকে সিরামিকসের মালামাল এনে কুমারখালীর বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করেন। জানা মতে, সে মাদক সেবন বা কোন অপরাধে জড়িত নয়। কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মহিবুল ইসলাম জানান, বিষয়টির মীমাংসার জন্য সবাইকে ডেকেছি। যেই দোষী হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম জানান, কুমারখালীর বেলগাছি গ্রামের উজ্জ্বল নামের ছেলেটি তার দফতরে এসেছিলেন। ঘটনার বিবরণ শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই কাফীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কোন কথা বলার নেই। উর্ধতন কর্মকর্তা যা বলবেন সেটাই আমার বক্তব্য।