২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

মোদির সফরের পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঢাকার সংযোগ বাড়ছে


তৌহিদুর রহমান ॥ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের পর দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি (সংযোগ) বাড়ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের আর্থ-সামাজিক, ব্যবসায়িক, যোগাযোগ বন্ধন আরও জোরালো হচ্ছে। অসমে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি বাস সার্ভিস, ত্রিপুরা ভিসা অফিসকে সহকারী হাইকমিশনে উন্নীত, আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন চালু ইত্যাদির মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযোগ বাড়ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ বাড়লে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল জনকণ্ঠকে বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের পর এই অংশের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি নতুন যোগসূত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ সব উদ্যোগের বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মোদির সফরের পর গুয়াহাটিতে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন চালুর সম্মতি দিয়েছে ভারত। এছাড়াও ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি ও আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। তবে ওই অঞ্চলে বাংলাদেশী পণ্য রফতানির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো হলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতিও হ্রাস পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের এক মাসের মধ্যেই অসমের গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের নতুন উপ-হাইকমিশন চালুর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়া হয়েছে। মোদির ঢাকা সফরে জারি করা যৌথ ঘোষণা অনুসারে গত ৩০ জুন ভারত সরকার এ সম্মতি দেয়। অসম, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, অরুণাচল ও নাগাল্যান্ড অঙ্গরাজ্যগুলোর কনস্যুলার সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এ নতুন উপ- হাইকমিশনের এখতিয়ারে থাকবে। ফলে এ সব রাজ্যের লোকদের বাংলাদেশের ভিসা নেয়ার জন্য ত্রিপুরা বা কলকাতা যেতে হবে না। গুয়াহাটি থেকে খুব সহজেই তারা বাংলাদেশের ভিসা পেয়ে যাবেন।

মোদির ঢাকা সফরকালে দুই দেশের মধ্যে যৌথ ঘোষণায় ভারতের গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশন এবং আগরতলায় সহকারী হাইকমিশন খোলার কথা উল্লেখ করা হয়। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় বাংলাদেশের ভিসা অফিসকে সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে উন্নীত করার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ভারত এ সম্মতি দেয়। অসম ও ত্রিপুরায় উপ-হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশন চালুর মধ্যে দিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বাড়বে। এছাড়া ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রও প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এদিকে আগামী দুই বছরের মধ্যে আখাউড়ার সঙ্গে ভারতের আগরতলার রেল সংযোগ চালু হচ্ছে। ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (এনআইটিআই) এ সময়ের মধ্যে রেলপথের কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগরতলা-আখাউড়া ১৫ কিলোমিটার রেলপথের ১০ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভূখ-ে হবে। বাকি ৫ কিলোমিটার রেললাইন হবে ভারতের ত্রিপুরায়। ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (ইরকন) এ লাইন নির্মাণে কাজ করবে। ভারতের নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে (এনএফআর) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

আগরতলা-আখাউড়া রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি মার্কিন ডলার। ভারত সরকার এ খরচ বহন করবে। বাংলাদেশ অংশে ১০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের খরচ যোগাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর ত্রিপুরা অংশে পাঁচ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের খরচ দেবে ভারতের রেল মন্ত্রণালয়। মোদির ঢাকা সফরের পর গত ১৮ জুন এনআইটিআইয়ের এক বৈঠকে রেলপথের ব্যয় নির্বাহের বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বৈঠকেই ২০১৭ সাল নাগাদ এ রেলপথের কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়।