১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাকৃবি ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, শিক্ষার্থীদের হলত্যাগ


স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ ॥ মঙ্গলবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বুধবার সকালেই আবাসিক হল ত্যাগ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতেই শক্তি প্রদর্শনের পাল্টাপাল্টি এই মহড়া বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি মোর্শেদুজ্জামান খান বাবুর মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও ক্যাম্পাসের একটি আবাসিক বাসায় জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলা ও ভাংচুরের জের ধরে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শহরের কেওয়াটখালি ওয়াপদা মোড়ে এই সংঘর্ষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে মিছিলসহ শহরের কেওয়াটখালি ওয়াপদা মোড়ে এসে কয়েকটি দোকানপাট ভাংচুর করে। এসময় স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই প্রভোস্ট কাউন্সিলের এক জরুরী সভায় বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল খালি করার সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বড় ধরনের অঘটন এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণসহ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৫ জনকে মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাইফুল ও মাহি এই ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অবস্থার অবনতি ঘটায় বুধবার ভোরে সাইফুল ইসলাম ও মাহির শাহরিয়ারকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, আহতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম, বাপ্পী ও ওয়ালিদ এই ৩ জনকে স্থানীয় জনতা আটকের পর মারধর করে পুলিশে দিয়েছে। পুলিশ জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। আহত সাইফুল, মাহির, বাপ্পী ও ওয়ালিদ বাবু গ্রুপের নেতাকর্মী এবং আব্দুল্লাহ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম গ্রুপের কর্মী। স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকায় এক বন্ধুর বাসায় ইফতারির দাওয়াতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মোর্শেদুজ্জামান খান বাবু। ইফতারের পর কে বা কারা বাবুর মোটরসাইকেল ভাংচুরের পর তাতে অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়। এই খবর হলে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্ন হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাত ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের বাইরে কেওয়াটখালি ওয়াপদা মোড়ের কয়েকটি দোকানপাট ভাংচুর করে। এ সময় এলাকাবাসীর সঙ্গে প্রথমে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও যোগ দেয়। ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যসহ ক্যাম্পাসে টেন্ডারবাজিতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ ক্যাম্পাসে ঢুকে মহড়া দিয়ে আসছিল। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সঙ্গে একাধিকবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয় জেলা ছাত্রলীগ।

অভিযোগ, এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ বরাবরই ছিল নির্বিকার। ফলে পুলিশ প্রশাসন কখনই এসব ব্যাপারে কার্যকর কোন ভূমিকরা রাখতে পারেনি। মঙ্গলবারের ঘটনা তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে। এসব ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাজানো নাটক। আর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মোর্শেদুজ্জামান খান বাবু জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জেলা ছাত্রলীগের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যই এই রক্ত ঝরানো হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।