২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কক্সবাজারের ৬ রাজাকারকে সেফহোমে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ


স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর ছয় রাজাকারকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত সংস্থার সেফ হোমে নেয়ার আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। যাদের তদন্ত সংস্থার সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে তারা হলেনÑ সালামত উল্লাহ খান ওরফে আঞ্জুবর ওরফে ‘পঁচাইয়া রাজাকার’, মোহাম্মদ রশিদ মিয়া, জিন্নাত আলী, মৌলভী ওসমান গণি, নুরুল ইসলাম ও বাদশা মিয়া। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত কিশোরগঞ্জের নিকলি উপজেলার মোঃ মোসলেম প্রধানকে কারাগারে প্রেরণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছে। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে থাকার সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে দৈনিক পাকিস্তানের ২৯ সেপ্টেম্বর’৭১ সংখ্যার মূল কপি সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে জমা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

কক্সবাজারের মহেশখালীর ছয়জনকে সেফ হোমে নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে মোট চার দিনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। প্রসিকিউশনের আবেদনে বুধবার এ অনুমতি দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত ও প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। কক্সবাজারের মহেশখালীর মোট ১৯ জন এ মামলার আসামি। তার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সাতজনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও আসামি শামসুদ্দোহা কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, রাজাকার সালামত উল্লাহ খানের মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে প্রায় ৭৫ জন রাজাকারের নাম এসেছে। এদের মধ্যে ৩২ জন রাজাকার মারা গেছে। বাদবাকি ৪৩ জন রাজাকারের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে তেমন বড় ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ধর্মান্তরিতসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৪ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত করা হবে।

তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে কক্সবাজারের মহেশখালীতে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। সেখানে শতাধিক লোককে হত্যা করা হয়েছে। গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ হিন্দু ও বৌদ্ধদের মন্দির আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিন শ’ বছরের পুরনো রাখাইন মন্দির ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। মহেশখালীতে হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে মুসলমান করা হয়েছে। অনেক হিন্দুকে খতনা করা হলে তারা ইনফেকশনের কারণে মরা গেছেন। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীনের পর পুনারায় তারা হিন্দুধর্মে ফিরে এসেছেন। মহেশখালীতে যে গণহত্যা হয়েছিল তাতে সাক্ষীরা এগিয়ে এসেছেন। সেখানে কোন স্মৃতিসৌধও নেই। শুধু একটি মন্দিরের দেয়ালে কয়েকজন শহীদের নাম ফলক রয়েছে।

মোসলেম প্রধান কারাগারে ॥ একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত কিশোরগঞ্জের নিকলি উপজেলার মোঃ মোসলেম প্রধানকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছে।

মোসলেম প্রধান একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিকলি থানা রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মোঃ হুসাইনের সঙ্গে একই মামলার আসামি। মঙ্গলবার তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। পরোয়ানা জারির পর নিকলি উপজেলার কামারহাটি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোসলেমকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ মামলার আসামি পলাতক সৈয়দ মোঃ হুসাইন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির আসামি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার পলাতক সৈয়দ মোঃ হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর ছোট ভাই। গত ৯ জুন ফাঁসি অথবা ফায়ারিং স্কোয়াডে হাসান আলীর মৃত্যুদ- কার্যকরের আদেশ দিয়ে রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ জানান, নিকলির রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মোঃ হুসাইন ও তার সহযোগী মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রাাথমিক তদন্তে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণসহ ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামি এবং তাদের লোকজন তদন্তকাজে বাধা ও নানাভাবে সাক্ষী এবং তাদের হাতে নির্যাতিতদের (ভিকটিম) ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ফলে তদন্তের স্বার্থে তাদের গ্রেফতারের আবেদন করা হয়।

সাকা দেশে থাকার দালিলিক প্রমাণ ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে থাকার সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে দৈনিক পাকিস্তানের ২৯ সেপ্টেম্বর ’৭১ সংখ্যার মূল কপি সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে জমা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। সাকা চৌধুরীর আপীল মামলাটির চূড়ান্ত রায় দেয়া হবে ২৯ জুলাই। আপীল শুনানি শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার এই দিন ধার্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বেঞ্চ।

বুধবার বাংলা একাডেমির গ্রন্থাগার থেকে সংগৃহীত পত্রিকাটির মূল কপি জমা দেন এ্যাটর্নি জেনারেল। সংবাদটিতে বলা হয়েছে, ‘ফজলুল কাদের চৌধুরীর এক ছেলে আহত হয়েছিলেন।’ মাহবুবে আলম আদালতে বলেন, এতে সাকা চৌধুরীর কথা বলা হয়েছে। যেহেতু তিনি আহত হয়েছিলেন, সেহেতু তিনি একাত্তরে দেশে ছিলেন। অতএব, সাকা চৌধুরী দেশে ছিলেন না বলে করা আসামিপক্ষের দাবি মিথ্যা।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: