২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ- সংসদ ধন্যবাদ জানাল প্রধানমন্ত্রীকে


সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করায় জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে সর্বসম্মতভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ধন্যবাদের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ অর্জন শুধু আমার নয়, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ অর্জন এসেছে। এ অর্জন পুরো দেশবাসীর, আমি দেশবাসীকেই এ অর্জনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে থাকতে চাই না, উচ্চ অর্থনীতিতে যেতে চাই। বাংলাদেশ আর নিম্নে পড়ে থাকবে না, উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে উন্নত মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। আর এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার চলতি বাজেট অধিবেশনের সমাপনী দিনে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রায় পৌনে চার ঘণ্টাব্যাপী প্রস্তাবের ওপর সরকার ও বিরোধী দলের মোট ৩২ জন সংসদ সদস্যের আলোচনা শেষে স্পীকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দনে সিক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অধ্যাপক আলী আশরাফ, মাহবুবউল আলম হানিফ, ডাঃ দীপু মনি, আবদুল মান্নান, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালেদ মাহমুদ চৌধুরী, ড. হাছান মাহমুদ, জুনায়েদ আহমেদ পলক, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, নুরুজ্জামান আহমেদ, এ্যাডভোকেট তারানা হালিম, আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, নজরুল ইসলাম বাবু, ওয়াসিকা আয়শা খান, তাজুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম সুজন, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল, ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ, ফখরুল ইমাম, পীর ফজলুর রহমান, মাহজাবিন মোর্শেদ ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী।

অভিনন্দনের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে দেশের সুবর্ণজয়ন্তী এবং ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা উচ্চ মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে পালন করতে পারব। আমরা কারও কাছে হাত পেতে চলতে চাই না, আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশে আর কেউ বুভুক্ষ থাকবে না, দরিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত হবে না- দরিদ্রতার হাত থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করে আমরা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাব। এজন্য দেশবাসীর সহযোগিতা চাই।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের নামে ভয়াল সন্ত্রাস-নাশকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের এই বিশাল অর্জন অনেক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করেই এসেছে। বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও, খুন-খারাবি মোকাবেলা করতে হয়েছে। যদি আমরা সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারতাম তবে আমাদের কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগেই উন্নীত করতে পারতাম।

দেশবাসীকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশবাসী বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতি সমর্থন না করে প্রত্যাখ্যান করেছিল বলেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারছি, এ অর্জন আনতে পেরেছি। তিনি বলেন, এ অগ্রযাত্রার ধারাকে ধরে রেখেই আমরা আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। দেশের জনগণের দোয়া ও সহযোগিতা পেলে ইনশাল্লাহ আমরা কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে অর্জন করতে পারব, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের উন্নয়নের চাকা আর এগোয়নি। ওই সময় বাংলাদেশ ছিল বুভুক্ষের দেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা ও ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে চলার দেশ। এসব কথা শুনে আমাদের খারাপ লাগত। কিন্তু আমরা সেই দুর্নাম থেকে মুক্ত হয়েছি। আমাদের আর ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে চলতে হয় না। তিনি বলেন, একটি দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করতে হলে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও দর্শন প্রয়োজন। আমরা সেই দর্শন ও নীতিমালা নিয়েই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ছোট দেশ হলেও এটি ১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশ। এত জনসংখ্যার দেশকে উন্নতি করতে অনেক সমস্যা হয়। আমরা দেশবাসীর সহযোগিতা ও সমর্থন নিয়ে সব সমস্যার সমাধান করে দেশকে এ পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ নিম্নবিত্ত দেশ হতে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। অচিরেই আমরা উচ্চ-মধ্যবিত্ত দেশে পরিণত হব। আর এ সব অর্জনে ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য আমি নই, একমাত্র প্রাপ্য দেশের জনগণের। বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন-সহযোগিতা পেয়েছি বলেই বাংলাদেশকে উন্নত করতে সক্ষম হয়েছি।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আর কোন অপতৎপরতাই এই অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে চলছে। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত দেশে উন্নীত হওয়ার সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের স্বীকৃতি তারই প্রমাণ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে চলে আসবে। শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া কোনদিনই অর্থনীতির এমন অভাবনীয় সাফল্য অর্জন সম্ভব হতো না। বাংলাদেশ অর্থনীতির উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

সরকারী দলের জ্যেষ্ঠ নেতা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, নিম্ন মধ্যবিত্ত নয়, দেশ আজ সত্যিই মধ্য আয়ের দেশের পথে। যে বাংলার স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন আজ তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনা পূরণ করছেন। আগে সাড়ে ৭ কোটি জনগণের আমাদের দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল। ১৫ কোটি জনগণের দেশেও আজ খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ। বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভিক্ষুক কিংবা প্রকৃতি দুর্যোগের দেশ নয়, বাংলাদেশ এখন উন্নত-সমৃদ্ধ আত্মনির্ভরশীল দেশ। শেখ হাসিনা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, কোন শক্তিই এ অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারবে না।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, যে বিশ্বব্যাংক কথিত দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করল, সেই বিশ্বব্যাংক এখন বলছে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের কথায় শেখ হাসিনা চললে দেশ কখনও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতো না, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হতো না। শেখ হাসিনা এখন শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, পুরো বিশ্বেই আইকন লিডারশিপে পরিণত হয়েছেন।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী প্রস্তাবটি সমর্থন করে বলেন, এই বিশ্বব্যাংক কাল্পনিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করেছিল। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেই শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে। কৃষিতে ভর্তুকি দিতে ঘোরতর বিরোধী ছিল বিশ্বব্যাংক। কিন্তু শেখ হাসিনা সবকিছু উপেক্ষা করে ভর্তুকি দিয়েছেন বলেই কৃষকরা দু’হাত উজার করে আমাদের ফসল দিয়েছে। দেশের মানুষ এখন এক বেলা নয়, তিন বেলা পেটপুরে ভাত খেতে পাচ্ছে। ভিক্ষুকের জাতি থেকে শেখ হাসিনা আজ উন্নত-সমৃদ্ধশালী জাতিতে পরিণত করেছেন।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, খালেদা জিয়ার অপরাজনীতি, পেট্রোল বোমার রাজনীতির কারণে দেশের প্রবৃদ্ধি এক শতাংশ কমে গেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এক শ্রেণীর কথিত বুদ্ধিজীবী ও জ্ঞানপাপীরা বলার চেষ্টা করছেন এসব বিশাল অর্জন নাকি শেখ হাসিনার নয়! এসব জ্ঞানপাপীরা আসলে দেশের স্বাধীনতা, অগ্রগতিতে বিশ্বাস করে না। দেশে অগণতান্ত্রিক সরকার আসুক এটাই চায়, এরা দেশের মঙ্গল চায় না।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, বাংলাদেশকে একদিন যারা তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ বলত, তাদের দেখিয়ে দিলাম- বাংলাদেশ ও বাঙালীরা সব পারে। এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে সুশাসন নিশ্চিত, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপি-জামায়াত জোট ধ্বংসাত্মক রাজনীতি না করে তবে ৩ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হবেই।

জাসদের মইন উদ্দিন খান বাদল বলেন, মানবসভ্যতার ইতিহাসে আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশ আর নেই। ১৬ কোটি জনগণের ওজন নিয়ে শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠছেন। আমরা এখন নিম্নবিত্ত নই, নিম্ন মধ্যবিত্ত। সেদিন আর বেশি দূরে নয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নত-সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, শক্তিশালী জাতীয় নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে উন্নতির স্বর্ণশিকড়ে নিয়ে যাওয়া যায় শেখ হাসিনা তা প্রমাণ করেছেন। কিন্তু দেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে বৈষম্য কমাতে হবে।

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানরা এ দেশকে ধ্বংস করতে চায়। একশ’ দেড়শ’ কেজি বিস্ফোরক ধরা পড়ছে, এটা কীসের আলামত? আমাদের কাছে খবর আছে, আসন্ন শীতে আল কায়েদা, জঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নেত্রী বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে চাচ্ছে। তাই অবিলম্বে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করে জঙ্গীদের কঠোর হস্তে দমন এবং খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার না করলে দেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে না।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: