২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আজ থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু


স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদ ঘরমুখো মানুষের জন্য আজ থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি করবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে টিকেট যুদ্ধ। প্রথম দিন দেয়া হবে ১৩ জুলাইয়ের টিকেট। একজন সর্বোচ্চ চারটি টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন। সকাল নয়টা থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিকেল চারটা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। ১৬ জুলাই থেকে পাওয়া যাবে ফিরতি টিকেট। এবারও অনলাইনে ২৫ ভাগ টিকেট বরাদ্দ আছে। ৫ ভাগ ভিআইপি ও পাঁচ ভাগ টিকেট রেলওয়ে স্টাফদের জন্য। সব মিলিয়ে সাধারণ যাত্রীদের জন্য বরাদ্দ ৬৫ ভাগ। টিকেট কালোবাজারি রোধে কমলাপুর রেলস্টেশনে সিটিটিভি স্থাপন, গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

দুই লাখ যাত্রী পরিবহনের টার্গেট ॥ রেলেওয়ের তিনটি কারখানায় ইঞ্জিন ও কোচ মেরামত করে ঈদের সময় অতিরিক্ত ট্রেন দেয়া হবে। রেলমন্ত্রী মুজিবুল জানান, স্বাভাবিক সময়ে রেলওয়েতে এক লাখ ৭০/৮০ হাজার যাত্রী দিনে পরিবহন করা হয়। ঈদের সময় প্রতিদিন রাজধানী থেকে আড়াই লাখ যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ছুটির দিনে আন্তঃনগরসহ সকল কোচ চলবে ঈদের সময়। ঈদে রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের ছুটি বাতিলের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রেলস্টেশনে ভিজিলেন্স ও মনিটরিং টিমের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। খোলা হবে কন্ট্রোল রুম। টিকেট কালোবাজারি ও নাশকতা রোধে ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে রেলস্টেশনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

টিকেট সম্পর্কিত তথ্য ॥ প্রথম দিন বিক্রি হবে ১৩ জুলাইয়ের টিকেট। ১০ জুলাই বিক্রি ১৪ জুলাইয়ের, ১১ জুলাই ১৫ জুলাইয়ের, ১২ জুলাই ১৬ জুলাইয়ের ও ১৩ জুলাই বিক্রি হবে ১৭ জুলাইয়ের অগ্রিম টিকেট। অনলাইনেও যাত্রীরা টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৬ জুলাই ঈদ পরবর্তী ফিরতি টিকেট বিক্রি শুরু হবে। এ দিন বিক্রি হবে ২০ জুলাইয়ের অগ্রিম টিকেট, ১৭ জুলাই ২১ জুলাইয়ের, ১৮ জুলাই ২২ জুলাইয়ের, ১৯ জুলাই ২৩ জুলাইয়ের ও ২০ জুলাই ২৪ জুলাইয়ের ফিরতি টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন যাত্রীরা।

ঢাকা-চট্টগ্রামে অগ্রিম টিকেট ॥ ঢাকা এবং চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হবে। যা চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত। অগ্রিম টিকেটের ট্রেন ছেড়ে যাবে ১৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। রেল সূত্রে জানা যায়, ঈদ-পরবর্তী সময়ে রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অগ্রিম ফিরতি টিকেট বিক্রি করা হবে। বিক্রি হবে ১৬ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত এবং ফেরত আসবে ২০ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। এছাড়া স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করবে ঈদের তিন দিন আগে (১৫-১৭ জুলাই) এবং ঈদের পাঁচ দিন পর (২০-২৬ জুলাই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)। ৫ জোড়া ও ঈদের দিন শোলাকিয়া স্পেশাল ২ জোড়া মিলিয়ে মোট ৭ জোড়া ট্রেন চলাচল করবে।

এর মধ্যে রয়েছে, দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা, ১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই। চাঁদপুর স্পেশাল-১ চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম; ১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই। চাঁদপুর স্পেশাল-২ : চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম; ১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই। পার্বতীপুর স্পেúশাল : পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর; ১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই। খুলনা স্পেশাল : খুলনা-ঢাকা-খুলনা; ১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই। শোলাকিয়া স্পেশাল-১ : ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব; কেবল ঈদের দিন। শোলাকিয়া স্পেশাল-২ : ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ; কেবল ঈদের দিন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ থেকে ৮৬টি ও সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ থেকে ৮৩টিসহ মোট ১৬৯টি (১০৯টি মিটারগেজ ও ৬০টি ব্রডগেজ)। কারখানায় মেরামত করে ২৫টি ইঞ্জিন সরবরাহ করা হবে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ঈদে ট্রেন যাতে যথারীতি ছেড়ে যায় সেই চেষ্টা করব। কারণ এখনই বলা যাচ্ছে না যে ট্রেন যথাসময়ে ছাড়বে কি না? তবে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। যাত্রী চাপ বেশি দেখা দিলে স্পেশাল ট্রেনের সঙ্গে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে।

নিরাপত্তা এবং কালোবাজারি সম্পর্কে স্টেশন ম্যানেজার বলেন, টিকেট কালোবাজারি রোধে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সাদা পোশাকে পুলিশ ছাড়াও রয়েছে আনসার এবং আর্মড পুলিশ। এছাড়া ঢাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ সকল বড় বড় স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি ও স্থানীয় পুলিশ বিজিবি এবং র‌্যাবের সহযোগিতায় টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করা হবে। তাছাড়া জেলা প্রশাসকদের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কমলাপুর রেলস্টেশনের ২০টি কাউন্টার থেকে টিকেট বিক্রি হবে। স্টেশনে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রেল পুলিশ, আমর্ড পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ এই নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে পুরো এলাকাজুড়ে। যাত্রী নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সহায়তার জন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে একটি রেলওয়ের পুলিশ তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। দেশের যে কোন রেলস্টেশন, টিকেট, টিকেট সংক্রান্ত সমস্যা, ট্রেন কখন ছাড়বে এসব সম্পর্কে তথ্যকেন্দ্র থেকে ০১৭৬৯-৯৩৬৫৩৯ এই মোবাইল নম্বরে যে কেউ ফোন করে জানতে পারবেন। এছাড়া র‌্যাব-৩ এর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প খোলা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কালোবাজারি ঠেকাতে স্টেশনজুড়ে সিসি টিভি স্থাপন করা হয়েছে।

১০ জুলাই থেকে বিআরটিসির অগ্রিম টিকেট বিক্রি ॥ আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য ১০ জুলাই থেকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (বিআরটিসি) বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করবে। সরকারী এই সংস্থাটির মোট নয় শতাধিক বাসের মধ্যে ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে চলবে সাড়ে ৪০০ বাস। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকে চলবে চার শতাধিক বাস। এছাড়াও ৫০টি বাস রিজার্ভ রাখা হবে। যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী এসব বাস বিভিন্ন রুটে চলবে।

১০ জুলাই পাওয়া যাবে ১৫ জুলাইয়ের টিকেট। পর্যায়ক্রমে ১৮ তারিখের টিকেট বিআরটিসির কমলাপুর, কল্যাণপুর, জোয়ারসাহারা ও নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন যাত্রীরা। এবার গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে রিজার্ভ বাস ভাড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআরটিসি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, যাত্রী পরিবহনের জন্য যে কোন প্রতিষ্ঠান গাড়ি চাইলে রিজার্ড ভাড়া দেয়া হবে। এজন্য কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুতই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। ঈদকে কেন্দ্র করে ১৫ অথবা ১৬ জুলাই থেবে বিশেষ সার্ভিসগুলো যাত্রা শুরুর কথা জানিয়ে বিআরটিসি চেয়ারম্যান বলেন, কোন প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে বাস রিজার্ভ নেয়ার যোগাযোগ করলে বাসগুলো স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেয়া হবে। দূরপাল্লার জেলাসমূহে দেয়া হবে ভালবাসগুলো। যেসব বাস নষ্ট সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ঈদ উপলক্ষে কতগুলো রুটে বাস চলবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব রুটে যাত্রী চাহিদা বেশি সেখানেই বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এর ওপর ভিত্তি করেই রুট নির্ধারণ হবে।

আছাড়া ঈদের বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু হচ্ছে আগামী ১৪ জুলাই থেকে। সোমবার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের সভাকক্ষে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রস্তুতি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: