১৪ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ব্রাজিলের গম নিতে বাধ্য করা যাবে না, ফেরত দিলে নিতে হবে


স্টাফ রিপোর্টার ॥ ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম খাওয়ার উপযোগী, তবে কাউকে নিতে বাধ্য করা যাবে না। কেউ ফেরত দিতে চাইলে সরকারকে তা ফেরত নিতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে এই পর্যবেক্ষণ দিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মোঃ সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেছেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। এর আগে গত ৫ জুলাই রিটটির ওপর শুনানি শেষে বুধবার আদেশের দিন ধার্য করা হয়। ব্রাজিলের গম নিম্নমানের দাবি করে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী পাভেল মিয়া।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, খাদ্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারী সংস্থার রিপোর্টে কোথাও বলা হয়নি এই গম খাওয়ার অনুপযোগী। এক আদেশে খাদ্য অধিদফতর প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, এই গম খাওয়ার উপযোগী তবে গমে পোকা বিদ্যমান রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু গমে পোকা রয়েছে, সেহেতু এই গম নিতে কাউকে বাধ্য করা যাবে না। আদেশের পর ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘খাদ্য অধিদফতরের জমা দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত বলেছেন, গম খাওয়ার উপযোগী নয়- এ কথা কোথাও বলা হয়নি। অর্থাৎ, ওই গম খাওয়ার উপযোগী।’

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২২টি (টেস্ট) পরীক্ষায় পোকা মাকড় রয়েছে বলা হয়। অপর ২৩টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় বলা হয় টেন্ডারের নমুনা অনুযায়ী গম ব্রাজিল থেকেই আমদানি করা হয়নি। আমদানি করা দুই লাখ পাঁচ হাজার ১২৮ মেট্রিক টন গমের মধ্যে এক লাখ ৭৪ হাজার ৯২৬ মেট্রিক টন ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়। ইতোমধ্যে পুলিশ, বিজিবি, আনসার, জেলখানা, বিভিন্ন ডিলার ও আটা কল ছাড়াও টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখাসহ (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) বিভিন্ন কর্মসূচীতে বিতরণ করা ওই গম কেউ ফেরত দিতে চাইলে তা ফেরত নিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মানহীন গম আমদানি এবং সরবরাহ কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, বিএসটিআই ও বারির ল্যাবেরটরিতে পরীক্ষার কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, অনিয়মের অভিযোগ কেন তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হবে না মর্মে রুল চাওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রাথমিক শুনানি করে ৩০ জুন হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেয়। ওই গম মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি-না, সে বিষয়ে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

আদেশ অনুযায়ী ৫ জুলাই খাদ্য অধিদফতরের পরিচালক তদন্ত রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দেন। সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ব্রাজিল থেকে চার শ’ কোটি টাকায় আমদানি করা গম মানুষের খাওয়ার উপযোগী। খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি)র পক্ষে ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস এ প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। খাদ্য অধিদফতরের ডিজি ৯টি বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রদান করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য অধিদফতরের পরীক্ষাগারসহ বিভিন্ন পরীক্ষাগার হতে প্রাপ্ত সকল রিপোর্ট মোতাবেক ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ব্রাজিল হতে আমদানিকৃত আলোচ্য গম চুক্তিপত্রে বিনির্দেশ মোতাবেক সহনীয় সীমার মধ্যে থাকায় মানুষের খাওয়ার উপযোগী। আমদানিকৃত ২ লাখ ৫ হাজার ১২৮ মেট্রিক টন গম খাদ্য অধিদফতরের সরবরাহ ও বিতরণ সূচী অনুসারে সারাদেশের খাদ্যগুদাম হতে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৬ মেট্রিক টন বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্রাজিল থেকে আমাদানিকৃত গমের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় দেশের বিভিন্ন জেলার খাদ্যগুদামে মজুতকৃত গমের ৫৭টি নমুনা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সংগ্রহ করে খাদ্য অধিদফতরের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফল মোতাবেক ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত গম চুক্তিপত্রের গ্রহণীয় সীমার মধ্যে পাওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে এ গম প্রেরণ করা হলে তাতে প্রোটিনের মাত্রা যাচাই করে চুক্তিপত্রে বর্ণিত নির্দেশের চেয়ে বেশি প্রোটিন রয়েছে মর্মে ফলাফল দেয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৪টি নমুনা বিসিএসআইআর-এ (সাইন্স ল্যাব) পাঠানো হলে গমের মান ভাল বলে প্রত্যয়ন করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: