মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ট্রাইব্যুনালে খালেদার বিচার

প্রকাশিত : ৯ জুলাই ২০১৫
ট্রাইব্যুনালে খালেদার বিচার
  • সংসদকে জানালেন প্রধানমন্ত্রী
  • সকল পেট্রোলবোমা হামলাকারীর মামলা ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে
  • পেট্রোল বোমায় ১৩৪ হত্যার হুকুমের আসামি খালেদা

সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, পেট্রোলবোমা হামলার নিদের্শদানকারী খালেদা জিয়া ও তার সহযোগীসহ সকল অপরাধীর নামে দায়েরকৃত মামলাগুলো বিচার করার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। খালেদা জিয়ার হুকুমেই হরতাল-অবরোধের নামে পেট্রোল বোমা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে মোট ১৩৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সেলিনা বেগমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, উক্ত ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত আইনের অধীন অপরাধসমূহের দ্রুত বিচার কার্য সম্পন্ন করার জন্য দায়রা জজ বা দায়রা কর্তৃক অতিরিক্ত দায়রা জজের কাছে স্থানান্তরিত হবার ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত দায়রা জজকে বিচারকার্য সম্পন্ন করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোলবোমা হামলার প্রতিটি ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ সকল মামলার তদন্ত সুষ্ঠু ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এবং তা যথাযথ প্রতিপালনের বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। এসকল মামলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মামলাসমূহ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

বিএনপি-জামায়াত জোটের তিন মাসব্যাপী ভয়াল নাশকতার বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হুকুমে এ বছর ৫ জানুয়ারি হতে চলমান হরতাল ও অবরোধকালীন এবং গত ২ জুন পবিত্র শব-ই-বরাতের রাতে কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে ৬ জনসহ পেট্রোল বোমা ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে মাধ্যমে ১৩৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের ইস্যুবিহীন কথিত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ফলে ১ হাজার ৩৯৫টি যানবাহন, ১৩ দফা ট্রেনে এবং ৬টি লঞ্চে নাশকতা চালানো হয়।

তিনি বলেন, নিহতদের স্বজন ও আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সাহায্যে প্রদান করা হচ্ছে। এটা চলমান। নিহতদের স্বজন ও আহতদের এ পর্যন্ত ২২০ জনকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে ২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আহত ৫ জন ও নিহত আরও ১৩ জনের স্বজনের কাছে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার চেক প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শীঘ্রই বিতরণ করা হবে। অর্থাৎ আহত ও নিহতদের মাঝে সর্বমোট ২১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বিতরণ শেষের পথে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের মধ্যে এ পর্যন্ত ৮৬০টি যানবাহনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মালিকদের ৯ কোটি ৫৭ লাখ ৭৯ হাজার ১৪০ টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২৮৫টি গাড়ির জন্য সংশ্লিষ্ট মালিকদের ৭ কোটি ২১ লাখ ১২ হাজার টাকার চেক প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শীঘ্রই বিতরণ করা হবে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ॥ সরকারী দলের আয়েন উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বাংলাদেশ সফরে খুবই ফলপ্রসূ দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা হয়েছে। আমাদের আলোচনা ছিল গঠনমূলক। আমরা পরস্পরের উদ্বেগ এবং অগ্রাধিকারের জায়গাগুলো বুঝেছি। দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের সব বিষয় নিয়েই খোলামেলা আলোচনা হয়েছে যার মধ্যে ছিল- নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুত ও জ্বালানি, আন্তঃসংযোগ ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহের পানি বণ্টন ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা, জনসংযোগ ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।

তিনি বলেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি ১৯৭৪ ও এর ২০১১-এর প্রটোকলটি অনুসমর্থনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সীমানা নির্ধারণ বহুমুখী সমস্যার এবং ছিটমহলবাসীর মানবিক সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান হতে যাচ্ছে। তিনি জানান, সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের বিষয়টির মানবিক দিকে প্রাধান্য দিয়েছেন, একে রাজনীতির উর্ধে স্থান দিয়েছেন ও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি যথাশীঘ্র সম্পাদনের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি ভারত হতে বাংলাদেশে আরও বিদ্যুত রফতানিসহ বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে দু’দেশের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধিতে সম্প্রতি জ্ঞাপন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সীমান্ত শান্তিপূর্ণ রাখা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়ে আমাদের অঙ্গীকার আমরা পুনর্ব্যক্ত করেছি। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়ে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা উভয়েই সম্মতি হয়েছি যে, আন্তঃসংযোগ শুধু এই দু’দেশের নয়, এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় নৌ-চলাচল চুক্তি, বাণিজ্যে চুক্তির নবায়ন, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন প্রটোকলের স্বাক্ষর এবং এর সঙ্গে সঙ্গে নতুন বাস সার্ভিস চালু এ অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ প্রতিষ্ঠার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের দৃষ্টান্ত।

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও এগিয়ে বাংলাদেশ ॥ সরকারী দলের মনিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও জনগণের কাক্সিক্ষত প্রত্যাশা পূরণে বহু সাফল্যে অর্জন করেছে। এর প্রতিফলন বৈশ্বিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স এ্যান্ড পিস কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত বৈশ্বিক শান্তি সূচক-২০১৫তে লক্ষ্য করা যায়।

তিনি জানান, বিশ্বের ১৬২টি দেশের বিভিন্ন প্রকার ২৩টি সূচক বিবেচনা করে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়। গত বছর বাংলাদেশ এই তালিকার ৯৮ ক্রমিকে ছিল। এ বছর আমাদের অবস্থান ৮৪তে উন্নীত হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এই উপমহাদেশে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত এবং শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে আছে। এমনকি বিশ্বের অন্যতম সম্পদশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে আছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের শান্তি সম্প্রীতি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা, বিশ্ব শান্তির বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণের কারণে বাংলাদেশের অবস্থান এ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

প্রকাশিত : ৯ জুলাই ২০১৫

০৯/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: