মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ আগস্ট ২০১৭, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

চুক্তি, নয়ত ইউরো থেকে বহিষ্কার

প্রকাশিত : ৯ জুলাই ২০১৫
  • গ্রীসকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চরমপত্র

ইউরোপীয় নেতারা গ্রীসকে মঙ্গলবার রাতে এক চরমপত্র দিয়েছেন : ঋণদাতাদের সঙ্গে রবিবারের মধ্যে কোন নতুন বেইল আউট (দেউলিয়াত্ব ঠেকাতে অর্থ সহায়তা) চুক্তি করুন, নয়তো দেউলিয়াত্ব এবং ইউরো মুদ্রা ব্যবস্থা থেকে বহিষ্কারের মুখোমুখি হোন। এদিকে জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল সতর্ক করে দিয়েছেন যে, গ্রীসকে এর নির্জীব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার করতে হলে ‘কয়েক বছর স্থায়ী’ এক ঋণ কর্মসূচীর প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, গ্রীসের পর্বতসম ৩২ হাজার কোটি ইউরোর ঋণের কোন অংশ মওকুফ করার প্রশ্নই ওঠে না। খবর ইউএসএটুডে ও এএফপির।

আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে নতুন বেইল আউট তহবিল পেতে হলে গ্রীক নেতাদের বৃহস্পতিবারের মধ্যে নয়া অর্থনৈতিক সংস্কার প্রস্তাব অবশ্যই পেশ করতে হবে। গ্রীসের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে হলে এ নতুন ঋণের প্রয়োজন হবে। গ্রীক ও ইউরোজোন নেতাদের এক জরুরী শীর্ষ সম্মেলনের পর কাউন্সিলের ইউরোপিয়ান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক এক বিবৃতিতে একথা বলেন।

ইইউর ২৮ নেতার সবাই দুর্দশাগ্রস্ত দেশটির জন্য আরেক বেইল আউট অনুমোদন করা হবে কিনা সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রবিবার এক শীর্ষ বৈঠকে গ্রীসের প্রস্তাব পরীক্ষা করে দেখবেন। এর ফলে হয় গ্রীসের ধ্বংসোন্মুখ অর্থনীতি রক্ষা পাবে, নয়তো দেশটিকে একক মুদ্রা ইউরো ত্যাগ করার পথে ছেড়ে দেয়া হবে। টাস্ক বলেন, যদি আরেক বেইল আউট অনুমোদিত না হয়, তবে তা সব সম্ভাব্য পরিণতিসহ আলোচনার অবসানই বোঝাবে। এতে সবচেয়ে শোচনীয় পরিণতিও ঘটতে পারে, যেখানে আমরা সবাই হেরে যাব। তিনি বলেন, কোন মতৈক্যে পৌঁছতে আমাদের অক্ষমতা গ্রীসের জন্য দেউলিয়াত্ব এবং এর ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য অসচ্ছলতা ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সময়সীমা চলতি সপ্তাহে হচ্ছে বলে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই। মঙ্গলবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গ্রীসের আনা সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে ইউরোজোন অর্থমন্ত্রীরা গভীর হতাশা ব্যক্ত করার পর টাস্ক সর্বশেষ সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন।

রবিবার গ্রীক এক নজিরবিহীন গণভোটে ঋণদাতাদের ইতোপূর্বে পেশ করা বেইল আউট প্রস্তাবকে খুবই কষ্টদায়ক বলে প্রত্যাখ্যান করেন। প্রস্তাবে নতুন ইইউ-আইএমএফ বেইল আউট তহবিলের বিনিময়ে আরও কৃচ্ছ্রনীতি দাবি করা হয়েছিল। ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি), আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) ও ইউরোপিয়ান কমিশন গ্রীসের তিন ঋণদাতা। গ্রীক প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপরাস গণভোটের ফলাফল তাকে বেইল আউটের শর্ত নমনীয় তার পক্ষে সহায়ক হবে বলে মনে করেছিলেন।

কিন্তু সিপরাস কোন বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব নিয়ে মঙ্গলবারের শীর্ষ বৈঠকে না আসায় ইউরোজোন কর্মকর্তারা হতাশ হন।

জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল সিপরাসকে সতর্ক করে বলেন, আমরা আর কয়েক সপ্তাহ নিয়ে নয়, বরং খুব কমসংখ্যক দিন নিয়েই কথা বলছি।

যখন গ্রীসের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে, অথচ পতন থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন নতুন উপায় দেখা যাচ্ছে না, তখন ঐ নাটকীয় আলোচনা চলছে। গ্রীস ৩০ জুনের মধ্যে এর ঋণের এক কিস্তি ১৮০ কোটি ইউরো পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। দেশটির ৩৯০ কোটি ইউরোর আরেক কিস্তি ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধ করার কথা। গ্রীসে ব্যাংকগুলো এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রয়েছে এবং এটিএম বুথে দৈনিক অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ কঠোরভাবে সীমিত করে দেয়া হয়েছে। ইসিবি গ্রীক ব্যাংকগুলোকে যে জরুরী ঋণ দিয়ে থাকে তার পরিমাণ বাড়াবে না বলে জানিয়েছে। ইউরো থেকে গ্রীসের বিদায় হবে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এ মুদ্রা ব্যবহারকারী ১৯ জাতি ব্লকের জন্য এর পরিণতি কি হবে তা আগেই বলা কঠিন। ইউরোপীয় নেতারা গ্রীসের বিদায় ঘটলে কি করতে হবে, তা নিয়ে এক পরিকল্পনা তৈরি করছেন।

প্রকাশিত : ৯ জুলাই ২০১৫

০৯/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: