২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ভাসমান ক্রেন যেতে পারছে না জাজিরায়


মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ॥ নদী ভাঙ্গন ও উত্তাল পদ্মাল দাপাদাপি ছাপিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তবে নাব্যতা সংকটে ভারী যানবাহন পদ্মা পারি দিতে না পরায় জাজিরা প্রান্তে সেতুর কাজে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটছে। ইতোমধ্যে মূল সেতুর ১০.৬২ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। অক্টোবরের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়ায় পদ্মা সেতুর পাইলিং কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ কটেজ।

পদ্মা সেতু প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো.আব্দুল কাদের জানান, পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রতিটি কাজের জন্য বেধে দেয়া সময়ের আগেই কাজ শেষ হচ্ছে। তাই সিডিউল অনুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি টেষ্ট (পরীক্ষামূলক) পাইলিংয়ের মধ্যে তিনটি টেষ্ট পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ১২টি ভায়াডাক্ট-এর মধ্যে ৪টির কাজ শেষ হয়েছে। এসব টেষ্ট পাইলগুলোর উপর তিন হাজার টন ওজন চাপিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে পদ্মার বালু অত্যাধিক সুরু হওয়ায় এ পরীক্ষায় কিছুটা ট্যাকটিক্যাল সমস্যা হচ্ছে। তবে এটি খুব বড় কিছু নয়। এটি অচিরেই সমাধান হবে। ৩ মিটার ডায়া বিশিষ্ট কনষ্টাবিলিটি পাইল ফেব্রিকেশনের কাজ চলছে। গত জুন মাসের হিসেব অনুযায়ী এ পর্যন্ত মূল সেতুর ১০.৬২ ভাগ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।

তিনি জানান, নবেম্বরে মূল পাইলিং কাজ শুরু করার কথা থাকলেও এর আগেই অক্টোবরের শেষের দিকেই তা করার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ কাজের উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু সার্ভিস এরিয়ায় মাওয়ায় ভিভিআইভি কটেজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ১০ নম্বার কটেজটি প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুত করা হয়েছে।

এদিকে নাব্যতা সংকটে পড়ে ভারী যানবাহন পদ্মা পারি দিতে না পরায় জাজিরা প্রান্তে সেতুর কাজে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটছে। তবে ঈদের পূর্বেই তা সমাধান হয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি বলেন, পদ্মার মাঝের চরে পানি কম থাকায় পদ্মা সেতুর কাজে ব্যবহৃত ভাসমান ভারী ক্রেন নদীর ওপারে জাজিরা প্রান্তে যেতে পারছেনা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রীজের নিজস্ব ড্রেজারের মাধ্যমে চ্যানেলে ড্রেজিং করে ক্রেনসহ ভারী যন্ত্রপাতিগুলো পদ্মার ওপারে নিয়ে যাওয়া হবে। এবং তা ঈদের আগেই সম্পন্ন করা হবে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনষ্ট্রাকশন এলাকায় নদীর ভাঙন দেখা দিলেও তা সেতুর কাজে তেমন কোন বাঁধাই সৃষ্টি করতে পারেনি। ভাঙন ঠেকাতে ইতিমধ্যে ১লাখ ৫৬ হাজার জিও ব্যাগভর্তি বালু নদীতে ফেরা হয়েছে। ঈদের আগে সাড়ে তিন লাখ জিও ব্যাগ পদ্মায় ফেলা হবে। আপাততঃ ওই এলাকায় ভাঙন নেই। তার পরেও ভাঙনের গতিবিধি আগামী তিন মাস পর্যবেক্ষন করা হবে। সেজন্য এক লাখ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আপদকালীন সময়ে এ জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন মোকাবেলা করা হবে।

এদিকে পদ্মা পারে স্বপ্নের জিলিক মাথা উঁচু করে দাড়াতে শুরু করেছে। উম্মোচিত হতে শুরু করেছে সম্ভাবনার দ্বার। সেতুর দুই প্রান্তে হংকংয়ের মতো অধুনিক নগরী গড়ে তোলতে সরকার হাতে নিয়েছে মহাপরিকল্পনা। বেশ কয়েকটি স্টেডিয়ামের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হবে অলিম্পিক ভিলেজ। থাকবে ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও বিশ্বমানের অধুনিক স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যাডিকেল কলেজের মত বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গড়ে তোলা হবে আধুনিক শিল্প নগরী। পর্যটকদের আধুনিক সুযোগ সুবিধা দিতে গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের পর্যনট ও বিনোদন কেন্দ্র। বাদ যাবেনা মসজিদ মাদ্রাসাও। আন্তর্জতিক মানের কনভেনশন সেন্টার তৈরীর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলাও এ পদ্মা পারের নগরীতে করার পরিকল্পনা করছে সরকার। আর এ সকল কিছুই হচ্ছে দেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ্মা সেতুকে ঘিরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পদ্মা পারে সরকার ভিন্ন ভিন্ন নগরী গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। জনসাধারণের বসবাসের জন্য গড়ে তোলা হবে আধুনিক আবাসিক শহর। আবার শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য গড়ে তোলা হতে অধুনিক অসংখ্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন। শিল্প ও নগরায়ন শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক থাকবেনা। ঢাকা শহরকে আরো বড় আকারে ছড়িয়ে দিতে সরকার এ মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন শহরে সকল ধরণের অধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ থকবে মসজিদ-মাদ্রাসা। পদ্মাপারে গড়ে তোলা হবে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে থাকবে দৃষ্টি নন্দন লেক বা পুকুর। যা সহজেই পর্যটকদের মন জুড়িয়ে দেবে। আর এসব ঘিরে সৃস্টি হবে বিপুল কর্ম সংস্থানের। তাই পদ্মা সেতুর কাজের পাশাপাশি পদ্মা পারের এ শহর ও সেতু এলাকায় দ্রুত যাতায়াতের জন্য সরকার রাজধানী ঢাকার শান্তিনগর ও জিরো পয়েন্ট থেকে বাবু বাজার ব্রীজের হয়ে কেরীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ ফ্লালাইওভার হলে ঢাকাবাসী পদ্মা পারের এ শহরে আসতে তথা দক্ষিন বঙ্গের ২১ জেলার মানুষকে তাদের শহরে যেতে ঢাকায় আর যানজটে পড়তে হবেনা। তাছাড়া রেল লাইনও তৈরী হচ্ছে পদ্মা সেতুকে ঘিরে। দক্ষিনবঙ্গের সাথে রেল পথে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে পদ্মা সেতুতে রাখা হয়েছে রেল যাতাযাত ব্যবস্থা। সরকারের কথা অনুয়ায়ী ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু খুলে দিলে দক্ষিন বঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির আবসান হবে। দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরেক দাপ এগিয়ে যাবে।