মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

৭ খুন: অভিযোগপত্র গ্রহণ, পলাতকদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

প্রকাশিত : ৮ জুলাই ২০১৫, ০১:৪৭ পি. এম.

অনলাইন ডেস্ক ॥ নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের মামলায় কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুজ্জামান শরিফ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আদালতে এই অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামনুর রশিদ মণ্ডল।

নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করলেও আদালত নতুন করে তদন্তের কোনো নির্দেশ দেননি।

গতবছর ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন।

গত ৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামুনুর রশিদ মণ্ডল দুই কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‌্যাবের তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। মামলার এজাহারে আসা ১৬ জনের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

আসামিদের মধ্যে ২২ জন গ্রেপ্তার এবং র‌্যাবের ৮ সদস্যসহ ১৩ জনকে পলাতক দেখানো হয় অভিযোগপত্রে।

মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আটকের পর সেখানেই কারাগারে আটক রয়েছেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের একটি মামলায় সাজা হওয়ায় কাউন্সিলর পদ খুইয়েছেন তিনি।

গতবছর লাশ উদ্ধারের পরপরই নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, র‌্যাবকে ৬ কোটি টাকা দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

নজরুলের শ্বশুর এই অভিযোগ তুললে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় বয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জে দায়িত্বরত র‌্যাব কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে বাহিনীর তদন্তেই অভিযোগের সত্যতা আসতে থাকে।

বিষয়টি হাই কোর্টে গড়ালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার করা হয় তিন র‌্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ ও রানাকে। পরে তাদের সামরিক বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঘটনার পর নুর হোসেন গোপনে পালিয়ে গেলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সে দেশের পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। তার বিরুদ্ধে সেখানে মামলাও হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জের ধরে নুর হোসেন র‌্যাবকে দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থক আরেক কাউন্সিলর নজরুলকে খুন করান।

হাই কোর্টের নির্দেশে পুরো ঘটনার তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। ওই কমিটি গত মার্চে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

প্রকাশিত : ৮ জুলাই ২০১৫, ০১:৪৭ পি. এম.

০৮/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: