মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ আগস্ট ২০১৭, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

এবার ওয়ানডের দিকে তাকিয়ে টাইগাররা

প্রকাশিত : ৮ জুলাই ২০১৫
  • মোঃ মামুন রশীদ

সিরিজ শুরুর আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে একটা ভীতি ছিল। সেই ভীতির ছাপ পড়ল টি২০ সিরিজে। অবশ্য ক্ষুদ্রতম ফরমেটের এ ক্রিকেটে কখনও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভয়ঙ্কর হিসেবে বিবেচনা করেনি কেউ। দেশের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে দুরন্ত, দুর্দম্য লড়াকু বাঘ বাংলাদেশ দল। সেটা সর্বশেষ কয়েকটা সিরিজে প্রমাণ করে দিয়েছে তারা। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নিজেদের প্রমাণ করার পালা। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ক্রিকেটে তেমন ভাল কোন সাফল্য নেই বাংলাদেশের। সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সফরে বাংলাদেশে এসেও শতভাগ জয় তুলে নিয়ে গেছেন তারা ৭ বছর আগে। অবশ্য ২০১১ বিশ্বকাপেও প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। এরপর আর বাংলাদেশের মাটিতে দু’দলের দেখা হয়নি। তবে এবার এ সিরিজের দিকে মনোযোগ বিশ্বব্যাপী সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশেরই। কারণ সম্প্রতিই দুই ক্রিকেট পরাশক্তি পাকিস্তান ও ভারতকে পর্যুদস্তু করেছে বাংলাদেশ দল। এবার তাই চ্যালেঞ্জ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার গৌরব দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে অন্তত দুটি ম্যাচ জয়ের প্রয়োজন ছিল। কারণ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর আইসিসির সর্বশেষ যে র‌্যাঙ্কিং ঘোষিত হবে সেখানে অন্তত সেরা আটে না থাকতে পারলে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা হবে না। সেই প্রয়োজনীয় কাজটা ক্রিকেট পরাশক্তি ভারতের বিরুদ্ধে টানা দুই ওয়ানডে জিতেই করে ফেলেছে টাইগাররা। বর্তমানে বাংলাদেশের র‌্যাঙ্কিং ৭। নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। কিন্তু নতুন করে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ জমেছে জিম্বাবুইয়ের প্রস্তাবিত ত্রিদেশীয় সিরিজের কারণে। ওই সিরিজে জিম্বাবুইয়ে ছাড়াও র‌্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট ও নয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের খেলার কথা। ইতোমধ্যেই ক্যারিবীয় বোর্ড খেলার সম্মতি দিয়েছে। টুর্নামেন্টনি ৩০ সেপ্টেম্বরের অনেক আগেই শেষ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছে টাইগারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে আরও নিচের দিকে নেমে যাওয়ার। তাই এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আশঙ্কা মুক্তিরও সিরিজ বাংলাদেশের জন্য। কারণ প্রোটিয়া শিবিরকে একটা ম্যাচে হারাতে পারলেই আর কোনভাবেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বাংলাদেশ দলকে। ত্রিদেশীয় সিরিজে যাই ঘটুক বাংলাদেশ দলের ন্যূনতম র‌্যাঙ্কিংয়ে আট নম্বরে থাকা নিশ্চিত হয়ে যাবে।

ঘরের মাটিতে বাংলাদেশ দলের অবিস্মরণীয় সাফল্য টনক নড়িয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের। আগের যে কোন সফরের চেয়ে এবার বাংলাদেশ সফর বেশ কঠিন হবে সেটা ভালভাবেই বুঝতে পারছে প্রোটিয়ারা। সে কারণেই বাংলাদেশে পা রাখার আগেই খুঁটিনাটি অনেক কিছু নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেটা বোঝা গেল দক্ষিণ আফ্রিকার টি২০ অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসের কণ্ঠেই। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক হোমওয়ার্ক করতে হয়েছে।’ জিম্বাবুইয়েকে ৫-০ তে হারানোর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা; এরপর পাকিস্তানকেও ‘বাংলাওয়াশ’ করে ভারতকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে হারানো বাংলাদেশকে নিয়ে কতটা ভীত প্রোটিয়ারা! এ দেশে খেলতে আসার আগে তাই বাংলাদেশকে নিয়ে বেশ সতর্ক দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের খেলার ওপর গভীর দৃষ্টি রেখেছে। বাংলাদেশের প্রতিটি খেলা এবং উত্থানের প্রতিটি পর্ব তারা গভীর পর্যবেক্ষণ করে আসছিল। এ কারণেই বাংলাদেশে পা রাখার পর প্রথম দিন অনুশীলন শেষেই প্লেসিস অকপটে স্বীকার করে নিলেন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব। একই সঙ্গে এটাও বললেন, ‘বিশ্বকাপ থেকেই তারা ভাল খেলে আসছে। আমার বিশ্বাস অচিরেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বে একটি বড় দল হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশকে এখন আর ছোট দল বলার সুযোগ নেই। তারা ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। উন্নতির এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হতে তাদের খুব বেশি সময় লাগবে না।’

প্লেসিসের কথাই শুধু নয়, এমনটা অনেকেই বলছেন। কোন দলের উন্নতির গ্রাফটা বোঝা যায় আসলে সিরিজ বাই সিরিজ নৈপুণ্যের বিচারে। ১/২ টা সিরিজের সাফল্য কোন দলকে বড় প্রমাণ করতে পারেনা। সেটা এমনকি বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি২০ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও জানেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এখনও আমরা বড় দল হতে পারিনি। অন্তত এভাবে যদি টানা দুই বছর সাফল্য দেখাতে পারি তবেই আমরা বড় দল হিসেবে নিজেদের দাবি করতে পারব।’ এরপরও মাশরাফিদের নিয়ে রীতিমতো গবেষণায় বসে যেতে হয়েছে প্রোটিয়াদের। প্রোটিয়া অধিনায়ক নিজেই বললেন, ‘বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে। ভারতকে হারিয়েছে।

বিমানে ওঠার আগে বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক হোমওয়ার্ক করতে হয়েছে আমাদেরকে।’ ভারতের বিপক্ষে চার পেসার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। সফলও হয়েছে। সেটা দক্ষিণ আফ্রিকাকেও ভাবাচ্ছে। তবে প্রোটিয়ারা টি২০ সিরিজ খেলে নিশ্চিত হয়েছে, বাংলাদেশ স্পিন শক্তি নিয়েই খেলবে তাদের বিরুদ্ধে। উপমহাদেশে স্পিন দুর্বলতা আছে দক্ষিণ আফ্রিকার। প্লেসিসই যেমন মনে করছেন, বাংলাদেশ আগের সিরিজে চার পেসার নিয়ে খেললেও, তাদের বিপক্ষে স্পিন এ্যাটাকেই দল সাজাবে। কারণ, উপহমাদেশের কন্ডিশনে তাদের জন্য স্পিন বিশাল একটা চ্যালেঞ্জ। যদিও আইপিএলে খেলার কারণে কয়েকজন প্রোটিয়া ক্রিকেটারের এখানকার কন্ডিশন নিয়ে অভিজ্ঞতার ঝুলিটা বেশ ভাল। টি২০ অধিনায়ক বলেন, ‘সেই অভিজ্ঞতা টি২০ সিরিজে সহযোগিতা করবে। অন্য কোন ফরমেটে নয়।’ তাছাড়া বড় শত্রু হিসেবে আছে বাংলাদেশের আবহওয়া ও পরিবেশ পরিস্থিতি। তীব্র গরম এবং ধীর প্রকৃতির উইকেট অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হবে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য।

২০১১ সালের বিশ্বকাপে সর্বশেষবার মোকাবেলা। এরপর আর দু’দলের মধ্যে কোন দেখা-সাক্ষাত হয়নি ময়দানী লড়াইয়ে। চার বছর পর আবার বাংলাদেশের বিপক্ষে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইতোমধ্যেই অবশ্য টি২০ সিরিজ খেলে ফেলেছে। ২০১১ বিশ্বকাপে চরম লজ্জার পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল বাংলাদেশ দলকে। মাত্র ৭৮ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস। হেরে গিয়েছিল ২০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে। সবমিলিয়ে মাত্র ১৪ বার দক্ষিণ আফ্রিকা-বাংলাদেশ ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে টাইগারদের জয় মাত্র একটিই। বাকি ১৩ ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অবশ্য একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পুরোপুরিই ভেসে গেছে, কোন বলই মাঠে গড়ায়নি। ৬ ওয়ানডে দেশের মাটিতে খেলেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। সবগুলোতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতি স্বীকার করেছে টাইগাররা। বাকি ৬ ম্যাচ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। জয় আছে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা দুই ম্যাচের একটিতে। ২০০৭ বিশ্বকাপে সারাবিশ্বকে চমকে দিয়ে টাইগাররা শক্তিশালী প্রোটিয়া শিবিরকে পরাস্ত করেছিল ৬৭ রানে। এখন সময় বদলেছে, বদলে গেছে বাংলাদেশ দলও। আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিধর ওয়ানডে দলে পরিণত টাইগাররা পারবে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে জিততে?

প্রকাশিত : ৮ জুলাই ২০১৫

০৮/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: