২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সাকিবের বিরল রেকর্ড


একটি করে সিরিজ আসছে, আর সাকিব রেকর্ড গড়ছেন। রেকর্ডের পর রেকর্ড তার ঝুলিতে যুক্ত হচ্ছে। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টি২০তে যেমন ১ উইকেট নিয়ে বিরল এক রেকর্ডই গড়ে ফেলেছেন। এ মুহূর্তে বিশ্ব ক্রিকেটে টি২০তে যে রেকর্ড নেই, সেই রেকর্ডই গড়লেন সাকিব। দেশের হয়ে একই সঙ্গে সর্বোচ্চ রান ও উইকেট এখন সাকিবেরই আছে। ব্যাটিংয়ে ৮৩৫ রান ও বোলিংয়ে ৩৫ উইকেট নিয়েছেন। বিশ্বের আর কোন দেশের কোন ক্রিকেটারেরই এমন রেকর্ড নেই। একইসঙ্গে টি২০তে দুই বিভাগেই সেরা হওয়ার কৃতিত্ব এ মুহূর্তে কারও নেই। শুধু আছে সাকিবের।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রান আগে থেকেই ছিল সাকিবের। আর উইকেটের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন যৌথভাবে আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে। রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টি২০তে ডেভিড মিলারকে আউট করে সাকিব ছাড়িয়ে গেলেন রাজ্জাককে।

৩৭ মাচে ৪৫ উইকেট সাকিবের, ৩৪ ম্যাচে ৪৪ উইকেট এখন দলের বাইরে থাকা রাজ্জাকের। টি২০ বাংলাদেশের হয়ে একাধিকবার ৪ উইকেট নেয়ার কীর্তিও আছে কেবল সাকিবেরই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি২০ শেষে ৩৭ ইনিংসে সাকিবের রান ৮৩৫। আর ৩৮ ইনিংসে ৭২১ রান নিয়ে তার পরে আছেন তামিম ইকবাল।

শুধু এ রেকর্ডই নয়। সাকিব এখন এমন একটি অবস্থানে আছেন, যেখানে বিশ্বের আর কোন ক্রিকেটারই নেই। এখন ক্রিকেটের তিন ফরমেটেই বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের আগেই অবশ্য ওয়ানডের সেরা অলরাউন্ডারের স্থানটি হারিয়ে ছিলেন। তাতে টেস্ট, টি২০তে সেরা অলরাউন্ডার থাকলেও ওয়ানডেতে সেরার আসনে না থাকায় রাজত্ব হারিয়ে ছিলেন। আবার সেই রাজত্ব ফিরে পেলেন সাকিব। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ শেষ হতেই সাকিব ওয়ানডের শীর্ষস্থানটি আবার ফিরে পেয়েছেন।

সাকিব আল হাসানের মাথায় এখন শোভা পাচ্ছে তিন-তিনটা রতœখচিত মুকুট। টেস্ট, ওয়ানডে, টি২০ সহ তিন ধরনের ক্রিকেটেই আবার এক নম্বর অলরাউন্ডার হলেন সাকিব আল হাসান। সর্বশেষ র‌্যাঙ্কিংয়ে ওয়ানডেতে তিলকারতেœ দিলশানকে সরিয়ে একে উঠে গেছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।

টেস্ট আর টি২০তে এক নম্বরেই ছিলেন। কিন্তু সামান্য কিছু রেটিং পয়েন্টে ওয়ানডে অলরাউন্ডারের শীর্ষ মুকুটটা ছিল দিলশানের দখলে। সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ব্যাটে বলে ভাল পারফর্ম করে ওয়ানডেতেও একে উঠে এলেন সাকিব। এর আগে ৪০৪ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে ছিলেন লঙ্কান অলরাউন্ডার। সাকিবের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৩৯৮।

ভারতের বিপক্ষে তিন ওয়ানডেতে দুই ফিফটিতে ৬১.৫০ গড়ে ১২৩ রান করেছেন। মুস্তাফিজের ‘দাপটে’ উইকেট পেয়েছেন তিনটি। তবে তাতেই তার রেটিং পয়েন্ট বেড়ে হয়ে গেছে ৪০৮। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আছে শ্রীলঙ্কার। সেই সিরিজে আবারও সাকিবকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করবেন দিলশান। ব্যবধানটাও ৪ পয়েন্টের। সিরিজটা খারাপ করলে দিলশানের পয়েন্ট কমতেও পারে।

অবশ্য টেস্ট আর টি২০র অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিং নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন সাকিব। সেখানে ‘নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তার ব্যবধানটা বেশ বড়ই। এ নিয়ে তৃতীয়বার এই ত্রিমুকুট পরলেন সাকিব। ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছিলেন এ বছর জানুয়ারিতে। কিন্তু দশ দিন ছিল তার সেই রাজত্ব। ওয়ানডেতে সাকিবকে দুইয়ে ঠেলে দেন এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। গত বিশ্বকাপের আগে আবারও শীর্ষে ওঠেন সাকিব, দ্বিতীয় ত্রিমুকুট। কিন্তু বিশ্বকাপে ভাল খেলে দিলশান উঠে যান একে। কয়েক মাস অপেক্ষার পর রাজত্ব ফিরে পেলেন বাংলাদেশের গর্ব সাকিব আল হাসান। এখন সেই অবস্থানেই আছেন।

নবেম্বর থেকে বাংলাদেশ দল যেন উড়ছে। সেই সঙ্গে সাকিবও উড়ছেন। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েই চলেছেন। নবেম্বরেই রেকর্ডের দিক দিয়ে গ্রেট ইমরান খান ও ইয়ান বোথামদের কাতারে চলে গেছেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও দশ উইকেট নেয়ার বিরল কীর্তি ছিল এতদিন দুজনের। ১৯৮০ তে বোথাম আর ১৯৮৩ তে ইমরান খান যে কীর্তি গড়েছিলেন, প্রায় ৩২ বছর পর নবেম্বরে সেই তালিকায় নাম লেখান সাকিব। প্রায় বত্রিশ বছরের অপেক্ষার অবসান। সবশেষ একই টেস্টে সেঞ্চুরি আর দশ উইকেট শিকারের অসামান্য কীর্তি গড়েছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট লিজেন্ট ইমরান খান। তারও ৩ বছর আগে প্রথমবার এ অর্জন নিজের করে নেন ইংলিশ গ্রেট ইয়ান বোথাম।

তারপর বিশ্বক্রিকেটে অলরাউন্ডার এসেছেন অনেক। তবে সাকিব আল হাসান ব্যতিক্রম, একটু বেশিই আলাদা। আর তাই এক টেস্টে শতক আর দশ উইকেট নেয়ার প্রায় বত্রিশ বছরের খরা কাটালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট আইকন।

৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেই বিশ্ব দেখল নতুন সাকিবকে। ব্যাট হাতে তিন বছর পর কাটালেন টেস্টে সেঞ্চুরি খরা। সবার ভাবনায় যখন কেবলই ব্যাটসম্যান সাকিব, ঠিক তখনই ঔজ্জ্বল্য ছড়াল সাকিবের বোলিং সত্তা। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরিয়ান সাকিব ব্যাট হাতে ব্যর্থ দ্বিতীয় ইনিংসে। তবে তার ছিটেফোঁটাও পড়তে দেননি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অর্জনে। শেষ দিনে ম্যাচের ফল নিয়ে যখন নানা সমীকরণ, তখন আবারও স্পটলাইটে সাকিব আল হাসান। ৩১৪ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুইয়ের ব্যাটিং লাইনআপ একাই ধসিয়ে দেন, প্রথম চার ব্যাটসম্যানের চারজনকে ফিরিয়ে। বোথাম-ইমরানের রেকর্ডে ভাগ বসানো সাকিব তাদের চেয়েও অনন্য। শেষ দিনে চতুর্থ ইনিংসে বোলিংয়ের চ্যালেঞ্জটা যে কেবলই ছিল সাকিবের।

এই সাকিব এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের আগে সফরকারীদেরই ফেবারিট বলেছেন। সাকিব বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি দক্ষিণ আফ্রিকা ফেবারিট। এর কারণ, তাদের বোলিং আক্রমণ।’ প্রথম টি২০তে জিতেছেও দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সাকিব ঠিকই রেকর্ড গড়েছেন। যা কারও নেই, টি২০ ক্রিকেটে একইসঙ্গে ব্যাট ও বল হাতে সর্বোচ্চ রান ও উইকেট নিয়ে তা করে দেখিয়ে দিলেন সাকিব। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েই চলেছেন।