১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সিরিয়া ও ইরাকে আইএস-কুর্দি সংঘর্ষ


বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের ডালপালা ছড়ানো আইএস এখন নিজ রাজধানীতেই অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়েছে। কুর্দি যোদ্ধারা এখন সিরিয়ার রাকা শহরের ৩৫ মাইল অদূরে অবস্থান নিয়েছে, যা ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল ভূখ- দখল করা আইএসের রজাধানী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ইরাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর কিরকুক শহরেও আইএসের সঙ্গে যুদ্ধ করছে ইরাকের কুর্দি বাহিনী পেশমারগা।

তবে রাকা শহর হাতছাড়া হওয়ার আতঙ্কে ভুগছে আইএস, যা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে দলটির যোদ্ধাদের মনে। এই প্রথম জঙ্গী গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে গুরুতর হুমকি প্রদান করল কোন জাতি। খেলাফত ঘোষণার এক বছরের মধ্য এমন হুমকি এই প্রথম। বর্তমানে জঙ্গী গোষ্ঠীটি রাজধানী রাকা হাতছাড়া হওয়ার আতঙ্কে। শহরজুড়ে মাটি খনন করে তৈরি করছে সুড়ঙ্গ।

সিরিয়ান কুর্দি (ণচএ) যোদ্ধারা গত ১৫ জুন প্রথম রাকা শহরের দিকে অগ্রসর হয় এবং কৌশলগত শহর তাল আবেদ দখল করে নেয়। সিরিয়া ও তুরস্কের সীমান্ত শহরটি আইএস জঙ্গীগোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ শহরের মাধ্যমেই তারা বহির্বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যসহ তেলের চোরাচালান করে থাকত। এ শহর হলো আইএসের বিদেশী যোদ্ধা প্রবেশের অন্যতম দ্বার। ফলে এ শহর হাতছাড়া হওয়ায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোষ্ঠীটির নেতাদের মনে। গত এপ্রিলে ইরাকের তিকরিত হাতছাড়া হওয়ার পর এই প্রথম একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হারাল আইএস। রাকা শহরের সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি কুর্দি যোদ্ধারা এখন সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মার্কিন বিমানবাহিনীও আইএসের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং পাশাপাশি কুর্দিদের যুদ্ধ সরঞ্জাম দিয়েও সাহায্য করছে।

সিরিয়ায় কিছুটা শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও ইরাকে আইএসের অবস্থা বেশ বেগতিক। ইরাকের সেনাবাহিনী, শিয়া মিলিশিয়া ও কুর্দি পেশমারগার যৌথ হামলা তাদের বর্তমানে কাগুজে বাঘে পরিণত করেছে। সিরিয়ায় আইএস জঙ্গীগোষ্ঠীর শক্তিশালী অবস্থানের কারণ ভিন্ন। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে আসাদের সেনাবাহিনী কার্যত অচল। ফ্রি সিরিয়ান আর্মির ব্যানারে যুদ্ধ করা নানা জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের মধ্যেই সংঘাতে লিপ্ত। কেবল কুর্দিরাই তাদের বিরুদ্ধে একক হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

কোবানী শহর দখল ও হাতছাড়া হওয়ার পর হতে আইএসের সঙ্গে কোমর বেঁধে লড়াই করছে কুর্দি ওয়াইপিজি। কুর্দিদের এমন উত্থান তুরস্ক সরকারের মাথা ব্যথার কারণ। কুর্দিস্তানের ধারণা যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তুরস্কের কুর্দিরাও সেই রাষ্ট্রের অংশীদার হবে। এই দুঃচিন্তায় এখন ঘুমহীন তুরস্কের নীতি-নির্ধারকরা।