২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গাইবান্ধায় ওসি ও ব্যাংক ম্যানেজারসহ ১০ জনের জামিন


নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ৭ জুলাই ॥ গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ও সোনালী ব্যাংক ম্যানেজারসহ অপর আট পুলিশ সদস্যের মঙ্গলবার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মহসিনুল হকের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করা হলে তিনি তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিন প্রাপ্তরা হলেন গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ রাজিউর রহমান, সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধা শাখার ম্যানেজার আয়েশ উদ্দিন, ডিবি পুলিশের এসআই রাকিব হোসেন, ব্যাংকের নিরাপত্তার দায়িত্বে কতর্ব্যরত পুলিশের এএসআই আইয়ুব হোসেন ও কনস্টেবল সাদ্দাম, শাহিনুর, সাইমন, আব্দুল্লাহ, রফিক ও বাবলু।

এদিকে গত ৫ জুলাই গাইবান্ধা সদর থানার ওসিসহ ১০ জনের নামে আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির পর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গাইবান্ধার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এএসএম তাসকিনুল হককে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আদালতে বদলি করা হয়েছে। নিয়োগ আদেশে রাষ্ট্রপতির পক্ষে স্বাক্ষর করেন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব উৎপল চৌধুরী। একই আদেশে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নাহিদুজ্জামানকে শরীয়তপুর জেলার চিকন্দিতে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার কার্যালয়ে গাইবান্ধা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মচারিকে মারপিট ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে ২ জুন বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংক অভ্যন্তরে সংঘটিত ঘটনায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মচারী কমল চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ওসি, ব্যাংক ম্যানেজারসহ আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

গলাচিপায় জাল বিতরণে অনিয়ম

স্টাফ রিপোর্টার, গলাচিপা ॥ জাটকা সংরক্ষণে বিকল্প কর্মসংস্থান এবং গবেষণা প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালীর গলাচিপায় জেলেদের মাঝে জাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গলাচিপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পৌরসভাসহ ১২টি ইউনিয়নের দু’ শ’ জেলের মাঝে মৎস্য বিভাগ শনিবার এ জাল বিতরণ করে। জেলেরা অভিযোগ করেছেন, তাদের প্রত্যেককে ১৭ কেজির পরিবর্তে ১০ থেকে ১২ কেজি করে জাল বিতরণ করা হয়েছে। জাল বিতরণের সময়েই জেলেরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেন। উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের জেলে হারুন মিয়া, কাদের হোসেন, সদর ইউনিয়নের আবুল কাসেম, মোঃ রহিম, মোঃ ফাকুসহ বেশ কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন, জাটকা সংরক্ষণে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে সাগরে বড় ফাঁসের অর্থাৎ সাড়ে চার ইঞ্চি ব্যাসের জাল দিয়ে মাছ ধরার জন্য সরকার এ সাহায্য দিয়েছে। এ জন্য গলাচিপা উপজেলায় সরকার ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। নগদ অর্থ দেয়া হলে জেলেরা প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা পেত। কিন্তু মৎস্য বিভাগ নগদ টাকা না দিয়ে জেলেদের ১০-১২ কেজি করে জাল বিতরণ করেছে। তাতে প্রতি কেজি জালের মূল্য ৩৬০ টাকা দরে প্রত্যেক জেলে ৩ হাজার ছয়শ’ থেকে চার হাজার টাকার জাল পেয়েছেন। এতে জন প্রতি প্রায় ৬ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এছাড়া জাল পাওয়ার জন্য প্রত্যেক জেলেকে নগদ ৩ শ’ টাকা হারে উৎকোচ দিতে হয়েছে। যারা এর প্রতিবাদ করেছে, তাদের অনেককে গালমন্দ করা হয়েছে এবং বহু প্রকৃত মৎস্যজীবীর নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

জেলেদের এসব অভিযোগের বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস জানান, তারা ঠিকাদারের নামে নিজেরা জাল কিনে বিতরণ করেছেন। এতে কোন অনিয়ম হয়নি। বরং অনেক উপজেলার চেয়ে তারা জেলেদের বেশি জাল দিয়েছেন। যারা পায়নি তারা দুর্নাম রটাচ্ছে।