২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এ শিক্ষা আগামীতে কাজে লাগবে ॥ মাশরাফি


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শিক্ষাটা পেয়ে গেছে বাংলাদেশ দল। টি২০ ক্রিকেটে উন্নতির জন্য কি করতে হবে দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ করার পর সেটা এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষুদ্রতম ফরমেটের খেলা হলেও এখানে ব্যাটিং নিয়ে পরিকল্পনা এবং বোলিংয়ে আরও উন্নতির প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। আগামী বছর টি২০ বিশ্বকাপের করণীয়টাও বুঝে গেছেন। তিনি মনে করেন দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে তেমন পার্থক্য নেই বাংলাদেশ টি২০ দলের। সাফল্যের পেছনে আবারও দু’দলের দক্ষতা ও ব্যাটিং পার্থক্যটাকেই বড় করে দেখছেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। মঙ্গলবার টি২০ ম্যাচ শেষে এসব কথা বলেন দুই দলের দুই অধিনায়ক।

দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিং শুরুর পর মনে হয়েছিল অনেক বড় সংগ্রহ গড়বে তারা। পরে বাংলাদেশের স্পিনাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। ব্যাটিংয়েও দারুণ শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেটা ধরে রাখতে পারেনি। দুই ইনিংসের শুরুটা ভাল করার পরও খেই হারিয়ে ফেলা বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘ব্যাটিং ভাল শুরু করেছিল ওরা। ১০ ওভার পর আমরা ভালভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আবার ব্যাটিংয়ে ভাল একটা শুরু হয়েছিল আমাদের। কিন্তু বড় একটা জুটির যে প্রয়োজন ছিল সেটার অভাব আজকেও ছিল। আমরা বড় কোন জুটি গড়তে পারিনি এটা বড় একটা সমস্যা ছিল।’ এছাড়াও পরাজয়ের পেছনে ব্যাটসম্যানদের পরিকল্পনার অভাবটাকেই বড় করে দেখছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। কারণ কোন সময় মেরে খেলতে হবে কিংবা উইকেটে আরেকটু থেকে তারপর খেলতে হবে এটা অনেকে না বুঝেই ব্যাট করেছে। আমার মনে হয় শেষ ৫ ওভারে ৬০ রান প্রয়োজন হলেও হয় তো আমরা করতে পারতাম। কিন্তু দ্রুত উইকেট হারিয়ে ফেলার কারণে সেটা আর সম্ভব হয়নি।’ দু’দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা মাশরাফি দেখছেন ফিল্ডিংয়ে। তাছাড়া খেলার পর্যায়ে সার্বিকভাবে কোন একটা বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ এমনটাই মনে হয়েছে তার। মাশরাফি বলেন, ‘পার্থক্য অবশ্যই ফিল্ডিং। আমরাও ভাল ফিল্ডিং করেছি। কিন্তু তারা ছিল চমৎকার। ওরা যে পর্যায়ের পারফর্মেন্স দেখাবে আমাদেরও সেই পর্যায়ের নৈপুণ্য দেখাতে হবে জয়ের জন্য। কিন্তু সেটা আমরা পারিনি। সেক্ষেত্রে আমরা আরও উন্নতি করতে পারি। ওরা চমৎকার বোলিং করেছে। আমরাও খারাপ করিনি। কিন্তু আমার মনে হয় আমরা আরও উন্নতি করতে পারি আমাদের বোলিংয়ে।’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি২০ হারের পর এখন অনেক শিক্ষাই পেয়েছেন মাশরাফি। আগামী বছর টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এটা খুব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘ভাল শিক্ষা হলো আমরা টি২০ কোন অবস্থায় আছি সেটা বোঝা গেছে। সামনে টি২০ বিশ্বকাপ আছে সেটার জন্য কি করতে হবে তা বোঝা গেছে।’ মাশরাফি মনে করেন টি২০ ক্রিকেটেও ভাল অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। কিন্তু কিছু কিছু পর্যায়ে পিছিয়ে থাকার কারণেই সাফল্য আসছে না। পাকিস্তান-ভারতের কঠিন স্পিনের বিপক্ষে বাংলাদেশ ভাল করেছে। অথচ দক্ষিণ আফ্রিকার আনকোরা স্পিনারদের বিপক্ষে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে মাশরাফি বলেন, ‘উইকেট বেশি পড়ে গিয়েছিল, বল কিছুটা বেশি টার্ন করেছে। এটা ব্যাটসম্যানদের ওপর বাড়তি চাপ ফেলেছে এমন হতে পারে। সে জন্যই ওদের স্পিনাররা সফল হয়েছে।’ জয়ের পর দারুণ খুশি প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। তিনি মনে করেন যেভাবে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল সে সবই ভালভাবে কার্যকরী হয়েছে। এ কারণেই ভালভাবে এবারের সফর শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়টাকে অনেক বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছেন তিনি। প্লেসিস বলেন, ‘এমন কঠিন উইকেটে আমরা ১৭০ রান করেছি যা গড় সংগ্রহের চেয়ে হয় তো ১৫ রান বেশি। সত্যিই ছেলেদের নিয়ে গর্বিত। অনেক কঠিন কন্ডিশন বাংলাদেশকে ২-০ ব্যবধানের মতো ব্যবধানে হারানো। খুব ভালভাবেই আমরা সফর শুরু করেছি।’ আর পরিকল্পনা নিয়ে প্লেসিস বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই তারা পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে বিস্ময়কর ব্যাটিং করেছে। সুতরাং তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক উঁচুতে ছিল। তাই দল হিসেবে তাদের আত্মবিশ্বাসে সমাপ্তি ঘটানোর চেষ্টা করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য। আমরা দলগতভাবে সেটা করেছি এবং আমি মনে করি এটা ওয়ানডের জন্য খুব ভাল শিক্ষা।’ দু’দলের মধ্যে পার্থক্য দেখেছেন তিনি দক্ষতার। এছাড়া ব্যাটিংটা পার্থক্য গড়বে তা আগেই বলেছিলেন প্লেসিস। সিরিজ শেষে আবারও বললেন, ‘বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন দক্ষতার প্রয়োজন। আমি মনে করি সম্ভবত এটাই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য। আমাদের দক্ষতা হচ্ছে যখন বাউন্ডারি হাঁকানোর পরিস্থিতি নেই তখন ফাঁকায় বল খেলা, স্ট্রাইক নেয়া, দুই কিংবা তিন রান নেয়া- আমার মনে হয় এক্ষেত্রে আমরা তাদের চেয়ে ভাল করি। প্রথম থেকেই আমি বলছিলাম যে পার্থক্য হবে এটাই যে কিভাবে আমরা তাদের স্পিন মোকাবেলা করব এবং কিভাবে তারা আমাদের স্পিনারদের খেলার চেষ্টা করবে সেখানে।’

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: