২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আবারও স্পিনেই প্রোটিয়া চমক


মোঃ মামুন রশীদ ॥ ফাঁদটা তৈরি করা হলো সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। কিন্তু নিজেরাই সেই পাতা ফাঁদে জড়িয়ে গেল স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। স্পিনের ঘেরাটোপ তৈরি করা হয়েছিল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের উইকেটে। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা বরাবরই স্পিন আক্রমণের সামনে নতি স্বীকার করেছে। উপমহাদেশ সফর এবং বাংলাদেশে অতীতে যে ক’বার এসেছে প্রোটিয়ারা প্রতিবারই তাদের জন্য দুর্গতির কারণ হয়েছে প্রতিপক্ষের স্পিন বোলিং। সে কারণেই সেভাবেই দল সাজানো, উইকেট তৈরি করে রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাগতিকদের স্পিন বোলিংয়ের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকারা স্পিনাররাই দাপট দেখালেন বেশি। আর টানা দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনারদের বিষে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ নীল হয়ে গেল। মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি২০ ম্যাচে প্রোটিয়াদের হয়ে অভিষেক হওয়া স্পিনার এডি লেই ও এ্যারন ফাঙ্গিসো মিলে ধসিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। দু’জন মিলে শিকার করলেন ৬ উইকেট। অপরদিকে, বাংলাদেশের স্পিনাররা তিন উইকেট দখলে নিতে পারলেন অনেক রান খরচা করে। স্পিন দুর্বলতা দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে বাংলাদেশ দলের বেশি সেটাই যেন দুই টি২০ থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল।

বাংলাদেশ দল বাঁহাতি স্পিনারের স্বর্গ। এখানে বরাবরই যে কোন প্রতিপক্ষ খেলতে আসলে স্পিনারদের নিয়ে একটা পরিকল্পনা তৈরি করেন। সফলতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনাররা থাকেন হিসেবের মধ্যে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকাও বাংলাদেশ সফরে আসার আগে সেভাবেই ছক কষে এসেছে। সেটা দক্ষিণ আফ্রিকার টি২০ অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস তার কথাতেই পরিষ্কার করেছিলেন সিরিজ শুরুর আগে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা এবার স্পিন মোকাবেলার জন্য ভালভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি।’ সেটা পরিষ্কার হয়ে গেল প্রথম টি২০ ম্যাচেই। বাংলাদেশী স্পিনারদের বিপক্ষে স্পিনবান্ধব উইকেটে বেশ সতর্ক হয়েই খেললেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। সে কারণে প্রথম ম্যাচে চার উইকেট হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। অবশ্য সে চার উইকেটই নিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। তবে সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন ও আরাফাত সানিরা সফল হলেও ব্যর্থ হয়েছেন সোহাগ গাজী। এ চার স্পিনার চার উইকেট নিতে ৯৬ রান খরচা করেছেন ১৩ ওভারে। অপরদিকে একই ম্যাচে পরবর্তীতে রান তাড়া করতে নামা বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে হামলে পড়েছেন প্রোটিয়া স্পিনাররা। স্বীকৃত স্পিনার ইমরান তাহির খেলেননি। কিন্তু ফাঙ্গিসো, জেপি ডুমিনি দারুণ বোলিং করেছেন। অনিয়মিত স্পিনার হয়েও ডুমিনি ৪ ওভারে ১১ রান দিয়ে শিকার করেন দুই উইকেট। আর ফাঙ্গিসো ৪ ওভারে ২১ রানে নেন ১ উইকেট। আর মারাত্মক ঘূর্ণি বলেই নতি স্বীকার করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যনরা। স্পিনারদের বিপক্ষে রান করতে না পারার কারণেই পরে চাপটা বেড়েছে।

মঙ্গলবার দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে বাংলাদেশ দল অবশ্য গাজীকে বাদ রেখেই নামে। ৮ জন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান নিয়ে একাদশ সাজায়। কিন্তু এদিন বাংলাদেশের স্পিনারদের আরও ভালভাবে সামাল দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। আরাফাত, নাসির ও সাকিবকে আচ্ছা মতো শাসন করেছেন তারা। এর মধ্যে সাকিব ছিলেন একেবারেই ব্যর্থ। তিনি ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে কোন উইকেট শিকারে ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া দলের মূল স্পিনার আরাফাতকেও পিটিয়েছেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। তিনি ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে একটি উইকেট শিকার করতে পেরেছেন। অনিয়মিত অফস্পিনার হিসেবে নাসির দারুণ কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে এবি ডি ভিলিয়ার্স ও জেপি ডুমিনির উইকেট শিকার করেন। এ তিন বাংলাদেশী স্পিনার ১২ ওভারে ৯৪ রান দিয়ে নিতে পেরেছেন তিন উইকেট।

প্রথম টি২০ ম্যাচে অনিয়মিত স্পিনার ডুমিনি দারুণ সফল হওয়ার পর বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের স্পিন দুর্বলতা ভালভাবেই বুঝতে পেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সে কারণে দ্বিতীয় ও শেষ টি২০ ম্যাচে বাড়তি স্পিনার হিসেবে এডি লেইকে দলে ভেড়ায় তারা। অভিষেক ম্যাচেই দারুণ বোলিং করেছেন লেই। দক্ষিণ আফ্রিকার টি২০ ইতিহাসে অভিষেক ম্যাচেরসেরা বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তিনি। ৩ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন লেই। ম্যাচশেষে তাই দারুণ খুশি এ তরুণ স্পিনার বলেন, ‘আমি শুধু দলে সুযোগ পেয়েছি এতেই সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না। ইমরান তাহির নেই, কাজেই তার অভাবটা পূরণ করতে হবে। উইকেট দেখে আমি দারুণ খুশি হয়েছি। এখানে স্পিনারদের ভাল করার জন্য দারুণ সুযাগ আছে। আমি যা করেছি তাতে আমি সন্তুষ্ট।’ ফাঙ্গিসোও দুর্দান্ত বোলিং করেন। তিনি ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। ডুমিনি এদিন সফল না হলেও ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়েছেন। দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার অখ্যাত স্পিনাররা ১৯ ওভার বোলিং করে ৯ উইকেট নিয়েছেন ১০৪ রান দিয়ে। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের খ্যাতিমান স্পিনাররা ২৫ ওভার বোলিং করে ১৯০ রান খরচা করে ৭উইকেট নিয়েছেন। প্রোটিয়ারা স্পিন ভীতি কাটিয়েছে এবং ভালভাবেই সামাল দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ দল সেটা পারেনি। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হয়েছেন অপরিচিত প্রোটিয়া স্পিনে!

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: