১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

লালমনিরহাটের কোন ছিটের মানুষ ভারতের নাগরিকত্ব নিতে আগ্রহ দেখায়নি


নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট, ৭ জুলাই ॥ লালমনিরহাটের অভ্যন্তরে থাকা ৫৯ ছিটমহলে একযোগে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো যৌথ খানা জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে থাকা ছিটমহলগুলোর কোন নাগরিক বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতীয় ছিটমহল ছেড়ে ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে ভারতের মূল ভূখ-ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

জেলা সদরের কুলাঘাট ইউনিয়নের বাঁশপচাই ভিতরকুটি ছিটমহলের বাসিন্দা জোবেদা খাতুন (৪৫) জানান, ‘বাপদাদার ভিটামাটি ছাড়িয়া হামরা ক্যা এ্যালা ভারত যাই। ৬৮ বছর ধরি বাংলাদেশত সম্মান নিয়া থাকপার জন্য সংগ্রাম করিবার নাগছে ছিটের মানুষ। আশা পূরণ হইছে এ্যালা হামার সুখের দিন সামনত।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, জেলার অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ৫৯ ছিটমহল এখন বাংলাদেশের ভূখ-। যৌথ ছিটমহল গণনা দ্বিতীয় দিনের কাজ শেষ হয়েছে। ৫৯ ছিটমহলে গণনা কাজের জন্য ২০টি ক্যাম্প করা হয়েছে। এর মধ্যে পাটগ্রামে ১৫টি, হাতিবান্ধায় দুটি ও লালমনিরহাট সদর তিনটি বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে ৪০ গণনাকারী কাজ করছে। এর মধ্যে ২০ জন বাংলাদেশী সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ২০ ভারতীয় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিশটি ক্যাম্পে পাঁচজন সুপারভাইজার নিয়ন্ত্রণ করছে সকল জরিপ কাজ। গণনার প্রথম দিন একেকজন গণনাকারী ২০-২৫টি পরিবার গণনা করে। তবে দ্বিতীয় দিনে জরিপ কাজ বেশ দ্রুততার সঙ্গে চলে। জরিপ কাজে নিয়োজিতরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে।

ছিটমহল বিনিময় সমন্বয়কারী সংগ্রাম পরিষদের বাংলাদেশের নেতা ফুলবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মইনুল ইসলাম জানান, লালমনিরহাটের ভেতরে থাকা ছিটমহলগুলোতে এখনও ভারতের নাগরিকত্ব নেয়ার আগ্রহের কোন তথ্য পায়নি গণনাকারীরা দল। তবে কুড়িগ্রামের ভূরঙ্গামারীর ছিটমহলের একটি পরিবার ভারতে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গণনা করার সময় অনেকে ছিটমহলে অনুপস্থিত রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অনুপস্থিতির কারণ তারা কাজের সন্ধানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ভারতের দিল্লীতে অবস্থান করার কথা স্থানীয়রা তথ্য সংগ্রহকারী দলকে জানায়। এতে জরিপ কাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে এটা মারাত্মক সমস্যা নয়।

ছিটমহল বিনিময় চুক্তির শর্তমতে ছিটমহলের নাগরিকরা তার পছন্দ মতো বাংলাদেশ ও ভারতের যে কোন একটি দেশের নাগরিকত্ব নিতে পারবেন। দুই দেশের সরকার নতুন নাগরিকত্ব পাওয়া পরিবারগুলোতে পুনর্বাসনে কাজ করবে। এই যৌথ জরিপ কাজ ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ও ভারতের ভেতরে থাকা ১৬২ ছিটমহলে এ ধরনের একটি যৌথ জরিপ পরিচালিত হয়েছিল। সেই জরিপের ফলাফল ভিত্তি ধরে পুূনরায় জরিপ হালনাগাদ করা হচ্ছে। আগামী ৩১ জুলাই মধ্যরাত হতে দুই দেশের সরকার স্থায়ীভাবে ছিটমহল বিনিময় করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: