১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নতুন প্রস্তাব দেবেন সিপ্রাস


গ্রীক প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপ্রাস দেশের ক্রমবর্ধমান ঋণ সংস্কটের ব্যাপারে ইউরোজোন জরুরী শীর্ষবৈঠকে নতুন প্রস্তাব পেশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রবিবার ভোটাররা আন্তর্জাতিক বেইলআউটের দেউলিয়াত্ব টেকাতে আর্থিক সহায়তা শর্ত প্রত্যাখ্যান করার পর সিপ্রাসের এই পরিকল্পনায় গ্রীসের ঋণ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মওকুফ করার একটি দাবিও অন্তর্ভুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রীসবাসী বিপুলভাবে আরও কৃচ্ছ্রমূলক নীতি প্রত্যাখ্যানের পক্ষে ভোট দেয়ার একদিন পর সোমবার ফ্রান্স ও জার্মানি নতুন করে অর্থনৈতিক সাহায্যের আলোচনা শুরু করার জন্য গ্রীসকে আন্তরিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোজোনের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই নেতা জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেন, সংস্কারের শর্ত মেনে গ্রীস যদি নগদ অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চায় এবং একক মুদ্রা পরিবার থেকে ছিটকে পড়া ঠেকাতে চায় তবে এথেন্সকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। খবর এএফপি, বিবিসি ও ইয়াহু নিউজের।

ওলাঁদ ও মেরকেল বলেন, গ্রীসের ঋণ সঙ্কট নিয়ে আলোচনায় ফিরে যাওয়ার দরোজা খোলা রয়েছে। তবে তারা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে এথেন্সের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গ্রীকরা ‘না’ ভোটে ঋণদাতাদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর প্যারিসে মেরকেলের সঙ্গে বৈঠকের পর ওলাঁদ বলেন, আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। কিন্তু সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। জরুরী ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে এবং তা কেবল গ্রীসের জন্যে নয়, ইউরোপের জন্যেও।

ওলাঁদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার পথ খোলা রয়েছে উল্লেখ করে মেরকেল বলেন, আমরা এখন গ্রীক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছি। তবে তিনি বলেন, ইউরোজোনের ১৯ দেশের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীস ৩৩ হাজার ১শ’ কোটি ডলার ঋণের খেলাপী হওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। গ্রীসের ব্যাংকগুলো মঙ্গলবার ও বুধবার বন্ধ থাকবে। এদিকে গ্রীসের বেইলআউটের শর্ত প্রত্যাখ্যান হওয়া সত্ত্বেও মঙ্গলবার বিশ্ব শেয়ারবাজার দ্রুত ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। মঙ্গলবার ইউরোজোনের একটি শীর্ষবৈঠকের পূর্বে গ্রীক প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপ্রাসের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি)। ইসিবি গ্রীক ব্যাংকগুলোকে তহবিল জোগানোর ক্ষেত্রে কঠোর নীতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিপ্রাসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কঠোর বেইলআউটের শর্তের বিরুদ্ধে সুস্পষ্টভাবে রায় দিয়ে গ্রীকরা সিপ্রাসের হাতকে শক্তিশালী করেছে। তবে সঙ্কটের তীব্রতা রয়েই গেছে। ধস নামার আশঙ্কা করে বিপুলভাবে অর্থ বেরিয়ে যাওয়া ঠেকাতে দেশটির তীব্র তারল্য সঙ্কটে আক্রান্ত ব্যাংকগুলো এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। একমাত্র ইসিবির জরুরী সাহায্যই ব্যাংকগুলোকে চালু রাখতে এবং ইউরো থেকে গ্রীসের বিশৃঙ্খল বিদায় ঠেকাতে পারে। এরকম বিদায় দেশের জনগণের ওপর আরও দুঃখকষ্ট বয়ে আনতে এবং একক মুদ্রা ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। গ্রীক ব্যাংকগুলোর প্রতি এক সতর্কীকরণ বার্তায় ইসিবি তাদের চাওয়া যে কোন ঋণের জন্য জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) গ্রীস অনুরোধ জানালে তাদের সহায়তা করতে রাজি বলে জানিয়েছে। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্ড বলেন, গ্রীসের গণভোটে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শর্ত ‘না’ ভোটে নাকচ হয়ে যাওয়ার পর দেশটির পরিস্থিতি গভীরভাবে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে লাগার্ড বলেন, আমরা গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং গ্রীস আমাদের কাছে সাহায্যের অনুরোধ জানালে তাদের সাহায্য করতেও প্রস্তুত রয়েছি। আইএমএফকে ঋণের ১৫০ কোটি ইউরো পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে গ্রীস। মঙ্গলবার ঋণ পরিশোধের সময়সীমা শেষ হয়। ঋণখেলাপী থেকে গেলে দেশটিকে আবারও ঋণ প্রদানের চেষ্টায় আইএমএফ যোগ দেবে না বলে জানিয়েছে। তবে, গত সপ্তাহে আইএমএফ একথাও বলেছে যে, গ্রীসের ঋণ মওকুফের প্রয়োজন পড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক ধস ঠেকাতে ২০১৮ সাল নাগাদ গ্রীসের নতুন করে ৬ হাজার কোটির বেশি ইউরোর প্রয়োজন পড়তে পারে। ২০১০ সাল থেকে ইউরোপীয় কমিশন ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক ও আইএমএফের কাছ থেকে দুই দফায় প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ নেয় গ্রীস। তবে ওই অর্থের জন্য পেনশন, বেতন ও সরকারী সেবায় কাটছাঁটসহ কঠোর কৃচ্ছ্রের শর্ত মেনে নিতে হয় গ্রীসের জনগণকে। গ্রীসকে দেয়া ইউরোজোনের চলতি বেইলআউটের মেয়াদ শেষ হয় গত ৩০ জুন। নতুন বেইলআউটের জন্য গ্রীসকে করবৃদ্ধির পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ব্যয়হ্রাসসহ কঠিন আর্থিক পুনর্গঠনের শর্ত দেয় ইউরোজান। দাতাদের এসব কঠিন শর্তের বিরোধিতা করে সিপ্রাসের বামপন্থী সিরিজা পার্টি গণভোট দেয় এবং রবিবার ৬১ শতাংশ ভোটার দাতাদের শর্ত প্রত্যাখ্যান করে ‘না’ ভোট দেয়।

গ্রীসের অর্থমন্ত্রী ইয়ানিস ভারুফাকিস সোমবার পদত্যাগ করেন, যিনি চাঁচাছোলা বক্তব্যের জন্য ইউরোজোন সদস্যদের বিরাগভাজন হয়েছেন বলে মনে করা হয়। তার জায়গায় নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে সোমবারই দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ইউক্লিড সাকালোতোস। তিনি এর আগে ঋণ সহায়তা পেতে গ্রীসের পক্ষে দাতাদের সঙ্গে আলোচনার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।