২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ‘অধর্মের’ অভিযোগ সংসদে


অনলাইন রিপোর্টার ॥ এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রী পাঠানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংসদে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের দুই সংসদ সদস্য।

মঙ্গলবার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, “নামে ধর্ম মন্ত্রণালয় হলেও সবচেয়ে বেশি অধর্মের কাজ করছে তারা। মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখতে হবে কী-না বুঝছি না।”

এবারই প্রথম হজ পালনে আগ্রহীদের নাম নিবন্ধন করতে হয়েছে অনলাইনে। বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী এ বছর এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন হজে যেতে পারবেন।

কিন্তু এর বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার আবেদন এবার এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে জমা পড়ে, যার মধ্যে প্রায় ১০ হাজার আবেদনকারী টাকাও জমা দেন।

জাসদের কার্যকরী সভাপতি বাদল বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে এবার রেজিস্ট্রেশনের আগেই মোয়াল্লেম ফি জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ফি জমা দেওয়ার আগেই মন্ত্রণালয়ের পছন্দের এজেন্সিদের পাসওয়ার্ড দিয়ে দেওয়া হয়। অনেকেই সন্দেহ করেন, এদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নাম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।”

এই সংসদ সদস্য জানান, হুমায়রা হজ ট্রাভেল এজন্সি থেকে ‘জে এফ দাস’ নামে একজন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। আরেকজন আবেদনকারীর নাম ‘মোবাইল’।

“ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এসব অধর্ম কাজের জন্যই বাংলাদেশিদের ওমরাহ হজের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব।”

বাদল বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল- ২১ জানুয়ারি থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে, সরকারি ছুটির দিন ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। যারা আগে রেজিস্ট্রেশন করবেন, তারাই যেতে পারবে। বেসরকারিভাবে কোটা পূরণ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন বন্ধ হয়ে যাবে।

“আসলে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে হাব সভাপতির এবং মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তার ভাই ও ছেলের এজেন্সি থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।”

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হজ এজেন্সিগুলোর যোগাযোগের চিত্র তুলে ধরে বাদল সংসদকে জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাসান জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সোবহানাল্লাহ হজ এজেন্সির মালিক। তার ভাইয়ের নামে ইবনে বতুতা ট্রাভেল এজেন্সি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজির সঙ্গে যৌথভাবে এজেন্সি রয়েছে। আশকোনা হজ ক্যাম্পের প্রশাসনিক কর্মকর্তারও এজেন্সি রয়েছে।

এসব ‘অনিয়মের’ বিরুদ্ধে তিনি সরকারকে ‘যুক্তিনিষ্ঠ’ ও ‘বস্তুনিষ্ঠ’ পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান এই সংসদ সদস্য।

আলোচনায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রামের আরেক সংসদ সদস্য তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীও সরকারি কর্মকর্তাদের হজ ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার কথা বলেন।

তিনি বলেন, “ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেনামে একাধিক হজ এজেন্সি রয়েছে। একারণেই অনিয়মের ঘটনা ঘটছে।”

ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির এই সদস্য বলেন, “এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”

ওমরার নামে মানব পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশিদের ওমরা ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে সৌদি আরব।

৫৬টি হজ এজেন্সির মাধ্যমে ওমরা করতে সৌদি আরব গিয়ে ছয় থেকে সাত হাজার বাংলাদেশি দেশে না ফেরায় সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিস।

এসব হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাংলাদেশিদের ওমরা ভিসা দেওয়া হবে না বলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ ধর্ম মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দিয়েছে।