মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

রুট ক্যানেল চিকিৎসা

প্রকাশিত : ৭ জুলাই ২০১৫
  • ডা. মো. ফারুক হোসেন

আমাদের দেশে দাঁতের রোগীরা দাঁতের ব্যথা না হওয়া পর্যন্ত দাঁতের ডাক্তারের শরণাপন্ন হন না। দাঁতের রোগের মধ্যে দন্তক্ষয় অন্যতম। খাদ্যাভাস এবং দাঁতের যতœ যথাযথভাবে না নেয়ার কারণে দাঁতের ক্ষয় হতে শুরু করে। দাঁতের ক্ষয় বা ক্যারিজের প্রাথমিক পর্যায়ে ফিলিং করিয়ে নিলে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু অধিকাংশ রোগীর মানসিকতা এমন যে, দাঁতের রোগ হলে আর যাই হোক রোগী মারা যাবে না। কথাটির হয়ত সত্যতা আছে; কিন্তু দাঁত না থাকলে বা ফেলে দিতে হলে রোগী সব খাবার সুষমভাবে গ্রহণ করতে না পারার কারণে ধীরে ধীরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে থাকেন। দাঁত ফেলে দেয়ার কারণে অনেক সময় মুখের স্বাভাবিক গঠন ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। দন্তক্ষয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে ফিলিং না করার কারণে ধীরে ধীরে দন্তক্ষয় দন্তমজ্জা পর্যন্ত প্রসারিত হয়। দন্তমজ্জায় সংবেদনশীল নার্ভ বা স্নায়ু বিদ্যমান, যে কারণে দন্তমজ্জা আক্রান্ত হলে দাঁতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তখন আক্রান্ত দাঁত ফিলিং করে রাখা যায় না। এ সময় রুট ক্যানেল চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁত সংরক্ষণ করা যায়। এ পদ্ধতিতে দাঁতের অভ্যন্তরে সূক্ষ্ম পথে বা ক্যানেল দিয়ে আক্রান্ত দন্তমজ্জা বের করে এনে সম্পূর্ণভাবে দাঁতের গোড়া পর্যন্ত জীবাণুমুক্ত করা হয়। তারপর দাঁতের গোড়া পর্যন্ত বিশেষ পদ্ধতিতে রুট ক্যানেল সিল করে তার ওপর ফিলিং দিয়ে দাঁতটি সংরক্ষণ করতে হয়। রুট ক্যানেল চিকিৎসায় খরচ স্বাভাবিক ফিলিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি হয় এবং সময়ও বেশি লাগে। আবার অনেক সময় চিকিৎসা যথাযথ হওয়ার পরও রুট ক্যানেল পদ্ধতি ব্যর্থ হতে পারে। রুট ক্যানেল চিকিৎসা ফেইলিউর শুধু আমাদের দেশে নয় উন্নত বিশ্বেও হয়ে থাকে। অতএব এ ক্ষেত্রে ডাক্তারকে দোষারোপ করার কোন অবকাশ নেই। তাই সবচেয়ে ভাল হয় দাঁতের চিকিৎসা প্রাথমিক পর্যায়ে করিয়ে নেয়া।

এবার এক নজরে জেনে নেয়া যাক যে সব ক্ষেত্রে রুট ক্যানেল চিকিৎসা প্রয়োজন হয় Ñ (১) দন্তক্ষয় ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে যখন দন্তমজ্জা পর্যন্ত তা বিস্তৃতি লাভ করে তখন দন্তমজ্জার প্রদাহে তীব্র ব্যথা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে রুট ক্যানেল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। (২). দাঁতে আঘাতজনিত কারণে দন্তমজ্জার ক্ষতি হলে অথবা দাঁতের সংক্রমণ দেখা দিলে রুট ক্যানেল চিকিৎসা প্রয়োজন।(৩). ওষুধজনিত কারণে অথবা সিস্টেমিক কোন রোগে যদি সামনের দাঁতের রং পরিবর্তন হয়, তবে সেক্ষেত্রে রুট ক্যানেল করে দাঁতের রঙের সঙ্গে মিল রেখে ক্যাপ বা ক্রাউন করতে হবে। (৪). আঘাতজনিত কারণে যদি দাঁতের অর্ধেক অংশ ভেঙে যায় তবে সেক্ষেত্রে রুট ক্যানেল সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট দাঁতে ক্যাপ করিয়ে নিতে হবে। (৫). অনেক সময় দন্তক্ষয় দাঁতের দন্তমজ্জা পর্যন্ত অগ্রসর হয়নি ঠিকই; কিন্তু দাঁতে ক্ষতিকারক ফিলিং দেয়ার ফলে দন্তমজ্জা নষ্ট হয়ে একসময় তীব্র ব্যথা হতে পারে, আবার মাড়ি ফুলে যেতে পারে।

রুট ক্যানেল চিকিৎসা করবেন, নাকি করবেন না : অপনার আর্থিক কোন সমস্যা না থাকলে যত দ্রুত সম্ভব রুট ক্যানেল চিকিৎসা প্রয়োজন হলে করিয়ে নিন। আর্থিক সমস্যা থাকলেও যদি আক্রান্ত দাঁতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে সেক্ষেত্রে আপনার চিকিৎসা করানো উচিত। প্রয়োজনে আপনার আর্থিক অসঙ্গতির কথা ডাক্তারকে খুলে বলুন। মনে রাখবেন গুরুত্বপূর্ণ একটি বা দুটি দাঁত না থাকার কারণে অনেক মানুষই খাবার ঠিকভাবে চিবিয়ে খেতে পারেন না। একদিকে যেমন এটি বিড়ম্বনাকর, অন্যদিকে খাবার ঠিকভাবে গ্রহণ না করার কারণে অপুষ্টিজনিত রোগ থেকে শুরু করে খাবার ঠিকভাবে হজম নাও হতে পারে। যে দাঁতটিতে রুট ক্যানেল চিকিৎসা করতে হবে সেটি যদি অনেক ভাঙা থাকে, তাহলে রুট ক্যানেল চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাপও করিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় রুট ক্যানেল চিকিৎসায় কোন লাভ হবে না। এসব ক্ষেত্রে রুট ক্যানেল চিকিৎসা করার আগে আর্থিক সমস্যা থাকলে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই চিকিৎসা শুরু করা ভাল। অনেক ক্ষেত্রে রুট ক্যানেল চিকিৎসা করা হয়ত প্রয়োজন। আবার লাইনিং দিয়ে ফিলিং করে নিলেও ব্যথা চলে যায়। যদি এ ধরনের সম্ভাবনা একভাগও থাকে, তাহলে রুট ক্যানেল চিকিৎসা করার আগে অবশ্যই তা পরখ করে নেয়া ভাল। যদি এতে চিকিৎসা ব্যর্থ হয় তবে সেক্ষেত্রে রুট ক্যানেল চিকিৎসা করতে হবে।

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

প্রকাশিত : ৭ জুলাই ২০১৫

০৭/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: