মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সেলেনা গোমেজ : অভিনয় ও সঙ্গীতশিল্পী

প্রকাশিত : ৭ জুলাই ২০১৫
  • পান্থ আফজাল

সেলেনা গোমেজ গান, মডেলিং আর অভিনয় দিয়ে বলতে গেলে বিশ্ব জয়ই করে ফেলেছেন। মিডিয়া আর ইন্টারনেটের বদৌলতে সেলেনা গোমেজকে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপের গ-ি পেরিয়ে এখন দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়ার তরুণ-তরুণীরা চিনে ফেলেছে। এর মধ্যে একটি গোষ্ঠী আছে সেলেনা গোমেজের ব্যাপক ভক্ত।

অভিনয় ও সঙ্গীত জীবনের কথা

ছোটপর্দার অভিনয়শিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ারের শুরু করেন তিনি। ‘বার্নি এ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ টিভি সিরিজের মাধ্যমে সেলেনা প্রথমে আত্মপ্রকাশ করেন। এ সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর। এটি ২০০২ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত চলেছিল। সেলেনা গোমেজ ‘স্পাই কিডস থ্রিডি গেম ওভার’, ‘ওয়াকার টেক্সাস র‌্যাঙ্গার ট্রায়াল বাই ফায়ার’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। এ ছাড়া তিনি ডিজনি চ্যানেলের ‘দ্য স্যুট লাইফ অব জ্যাক এ্যান্ড কোডি’ সিরিজেও অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন। এরপর তিনি ডিজনির ‘উইজার্ডস অব ওয়েভার্লি প্লেস’ সিরিজের অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এটি সাফল্য অর্জন করে এবং সেলেনা বিভিন্ন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। পরবর্তীতে সেলেনা ডিজনি চ্যানেলের বিভিন্ন সিরিজ এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ‘জোনাস ব্রাদারস : লিভিং দ্য ড্রিম’, ‘ডিজনি চ্যানেল গেমস’ উল্লেখযোগ্য। ২০০৯ সালে সেলেনা ‘প্রিন্সেস প্রোটেকশন প্রোগ্রাম’ ও ‘উইজার্ডস অব ওয়েভার্লি প্লেস দ্য মুভি’ চলচ্চিত্র দু’টিতে অভিনয় করেন। আর ডিজনির বাইরে সেলেনা র‌্যামোনা এ্যান্ড বিজাস চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০১১ সালে সেলেনা ‘মন্টে কার্লো’ এবং ‘দ্য মাপেটস’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০১২ সালে হোটেল ‘ট্রান্সিলভানিয়া’ এবং ‘স্প্রিং ব্রেকার্স’ চলচ্চিত্র দু’টিতে অভিনয় করেন। এরপর ২০১৩ বছরের শেষভাগে এসে মুক্তি পেল তার নতুন সিনেমা ‘গেটওয়ে’।

২০০৯ সালে সেলেনা গড়ে তোলেন ব্যান্ড দল ‘সেলেনা গোমেজ এ্যান্ড দ্য সিন’। ২০০৯ সালে তার ব্যান্ডের প্রথম স্টুডিও এ্যালবাম ‘কিস এ্যান্ড টেল’ বিলবোর্ড টপ টেনে স্থান পায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে দ্বিতীয় এ্যালবাম ‘আ ইয়ার উইদাউট রেইন’ বের হলে তা বিলবোর্ডের টপ ফাইভে জায়গা করে নেয়। এর পর থেকেই সঙ্গীতের ভুবন তার সফল পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে। ২০১১ সালে তিনি ‘হোয়েন দ্য সান গোজ ডাউন’ এ্যালবাম প্রকাশ করেন। এই এ্যালবামের ‘লাভ ইউ লাইক এ্যা লাভ সং’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই এ্যালবামটি প্রকাশের পরে তিনি অভিনয়ে আরও মনোযোগ ও সময় দেয়ার জন্য তার সঙ্গীত চর্চায় কিছুটা বিরতি দেন।

ধনী কিশোরীদের তালিকায় সেলেনা

১৯ বছর বয়সে সেলেনা গোমেজ ধনী কিশোরীদের তালিকায় নাম লেখান। তখন তার আয় ছিল ৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জাস্টিন বিবারের সঙ্গে তার কয়েকটি ব্যবসায়িক যোগাযোগ থাকার কথা বলা হলেও তার পুরো আয় ছিল নিজস্ব। ডিজনি চ্যানেলে এলেক্স রুশো চরিত্রটির জন্য সেলেনা প্রথম বিশ্ববাসীর নজরে আসেন। তখন এ্যামি এ্যাওয়ার্ড বিজয়ী উইজার্ডস অব ওভারলি প্যালেসের জন্য তার প্রতি পর্বে পারিশ্রমিক ছিল ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। অভিনয়ের পাশাপাশি তার সঙ্গীত জীবনও বর্ণাঢ্য। কিশোরী বয়সী একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার তারকাখ্যাতিও আসে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে। ২০১২ সালে ৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন তিনি। তবে গায়িকা হিসেবে প্রথমবারের মতো বিলবোর্ড টপচার্টের শীর্ষে ওঠেন তার প্রথম একক এ্যালবাম ‘স্টারস ড্যান্স’ প্রকাশের পর পরই। এই কিশোরী কণ্ঠশিল্পী স্টেজ শো করে সবচেয়ে বেশি আয় করেন। তার এ্যালবাম বেস্ট সেলারের তালিকায় উঠে আসার পর সেলেনার আয় বৃদ্ধি পেতে থাকে। গানের সিডির বিক্রি থেকে যে পরিমাণ তিনি আয় করেন তার বেশিরভাগই খরচ করেন বিলাসী জীবনে। স্টেজ শোগুলোতে সেলেনা গোমেজ সর্বাধিক পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।

মানব সেবায় সেলেনা

সেলেনা গোমেজের কিন্তু গুণের শেষ নেই। মানবকল্যাণে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। দাঁড়িয়েছেন মানুষের পাশে। ২০০৮ সালে তিনি যুক্ত ছিলেন ‘ইয়োর ভোট কাউন্টস’ কর্মসূচীর সঙ্গে। ওই কর্মসূচীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বারাক ওবামা ও জন ম্যাককেইন সম্পর্কে কিশোর-কিশোরীদের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা হয়। একই বছর তিনি সেন্ট জুডস শিশু হাসপাতালের ‘রানওয়ে ফর লাইফ’ তহবিল গঠনে অংশ নেন। পুয়ের্তোরিকোতে ছিন্নমূল কুকুরদের সাহায্য করছে ডু সামথিং ডট ওআরজি নামের প্রতিষ্ঠান। সেলেনা এই প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত। কঙ্গোতে খনিজ পদার্থ নিয়ে যুদ্ধ আর নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করছেন তিনি। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ‘ডিজনি ফ্রেন্ডস ফর চেঞ্জ’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংস্থাটি পরিবেশবান্ধব আচার-ব্যবহারের বিষয়ে আলোকপাত করে। সেলেনা গোমেজ, ডেমি লোভাতো, মাইলি সাইরাস আর জোনাস ব্রাদার্স মিলে ‘সেন্ড ইট অন’ শিরোনামে একটি গান তৈরি করেছেন। গানটি বিক্রি থেকে পাওয়া লভ্যাংশ ‘ডিজনি ওয়ার্ল্ডওয়াইড কনভারসেশন’ শীর্ষক তহবিলে জমা হয়।

প্রকাশিত : ৭ জুলাই ২০১৫

০৭/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: