মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৮ আগস্ট ২০১৭, ৩ ভাদ্র ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

প্রযুক্তির সঙ্গে ঈদ

প্রকাশিত : ৭ জুলাই ২০১৫
  • শাহ আকবর আহমেদ

‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের ঈদের আনন্দ সবার মাঝে বিলিয়ে দিতে বলেছেন। আসলে রোজার ঈদের আনন্দ এমনই যা উপভোগ করা যায়, এ আনন্দের মাসে বিলীন হওয়া যায়, কিন্তু লিখে তার ভাব প্রকাশ করা যায় না।

প্রত্যেকটি ধর্মেরই নিজস্ব কিছু উৎসব থাকে। আর এই উৎসবকে ঘিরে থাকে ছোট-বড় নির্বিশেষে সবার কিছু পরিকল্পনা। আমাদের দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে আনন্দ উৎসব হচ্ছে ঈদ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদ-উল-ফিতর। তাই এই ঈদকে ঘিরে সবাই সবচেয়ে বেশি আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। আর এই আনন্দ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায় তরুণ-তরুণীদের মাঝে। এই আনন্দ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে কেনাকাটায়। তরুণ-তরুণীরা এখনকার ঈদে শুধু জামাকাপড় কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তারা এখন অনেকেই প্রযুক্তি পণ্য কেনাকাটার দিকেও ঝুঁকছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও প্রতিবছর নতুন নতুন প্রযুক্তির পণ্য বাজারে আনছে। দিচ্ছে নানা অফারও লোভনীয় ছাড় আর তরুণ তরুণীদের সেই প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যগুলো কেনার আগ্রহের কোন কমতি নেই। অনেকের আবার জামাকাপড় বাদ দিয়েও প্রযুক্তি পণ্যগুলোর দিকেই আগ্রহ বেশি। আবার অনেকেই প্রিয়জনকে চমকে দিতেও উপহার হিসেবে নিচ্ছেন প্রযুক্তিপণ্য। তাই প্রযুক্তি পণ্যের বিভিন্ন শোরুমগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে ঈদের আমেজ। এই ঈদে নতুন জামা কাপড় উপহার দেয়ার প্রবণতা বেশি থাকলেও, উপহার দেয়ার প্রধান বস্তুতে পরিণত হয়েছে নতুন নতুন সব প্রযুক্তি ডিভাইস। রমজানের আসন্ন এই ঈদে তাই প্রিয়জনকে নতুন বিশেষ কিছু উপহার দিয়ে চমকে দিতে প্রযুক্তিনির্ভর দোকান ও মার্কেটেও দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের ভিড়। স্মার্ট ফোন,ল্যাপটপ,ফোরজি, কম্পিউটারসহ নতুন নতুন সব ডিজিটাল ডিভাইস ঈদ বাজারে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে।

শুধু তরুণ প্রজন্মই নয়। অনেকের বাবা মাও তাদের ছেলে মেয়েকে নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন প্রযুক্তিনির্ভর দোকানগুলোতে। রামপুরা থেকে ফেরদৌসি বেগম তার কলেজপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে এসেছেন বসুন্ধরার একটি মোবাইলের দোকানে। তিনি তার ছেলেকে এবারের ঈদে সময়োপযোগী একটি মোবাইল উপহার দিতে চান। যাতে প্রযুক্তির সঙ্গে ছেলে সবসময় আপ টু ডেট থাকতে পারে। যেন তার ফোনটি দিয়ে সে শিক্ষামূলক বিভিন্ন কাজ করতে পারে। আবার অনেকেই আসছেন তার বাবা মার সঙ্গে ল্যাপটপ কিনতে। ফারুক সাহেব জানালেন তার মেয়ের আব্দারের কথা। এবার ঈদে তার জামাকাপড় দরকার নেই তার একটি ল্যাপটপ চাই। এবার ঈদে ল্যাপটপ, নেটবুক, উইন্ডোজ ফোন ও ট্যাবলেট পিসির দিকেই তরুণদের ঝোঁক বেশি।

বাংলাদেশেও অন্যান্য দেশের মতো ই-মার্কেটিং দিনে দিনে বাড়ছে। অনেকেই এখন রোজার মধ্যে ঢাকার যানজটে নাকাল হয়ে পড়েছে। তাই অনেকে ঘরে বসেই অনলাইনে কেনাকাটাকেই শ্রেয় মনে করছেন। আবার অনেকেই কেনাকাটা করছেন সোশ্যাল মিডিয়াতেও। আগের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া নিতান্তই বিনোদনের জায়গা ছিল। দিন বদলেছে। আর তাই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ঈদের কেনাকাটার ধুম লেগেছে। ফেসবুকে বেশকিছু গ্রুপের মাধ্যমে চলছে জমজমাট কেনাবেচা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নিজেদের পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য এখন সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে বড় এ প্লাটফর্মটি ব্যবহার করছেন। তারা ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ খুলে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন।

আর সেই পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই আকৃষ্ট হচ্ছেন। ক্রেতারা সরাসরি ফোন করে তাদের পছন্দের পণ্যটির জন্য অর্ডার করতে পারছেন। আবার অনেকেই শুধু ফেসবুক পেজ নয়, ই-মার্কেটিং সাইটগুলোতেও ঢুঁ মারছেন। এই ই-মার্কেটিং সাইটগুলোতেই ক্রেতারা বিকাশে কিংবা ভিসা কার্ডের মাধ্যমে তাদের পেমেন্ট বুঝিয়ে দিচ্ছেন অনেকেই। এবার অনলাইনেই ঈদের কেনাকাটা করেছেন রিয়া। অনলাইন পণ্যের গুণগতমান নিয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনলাইন সাইটগুলোর পণ্যের গুণগতমান যথেষ্ট ভাল। অনেকেই হোম ডেলিভারি সার্ভিস দিয়ে থাকে। এটি ক্রেতাদের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেয়। অনেক সাইটগুলোতে তাদের পণ্য বুঝে নেয়ার পর তাদের পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে হয়। তাই তাদের পণ্যের গুণগতমান যাচাই করেই মূল্য পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। ই-মার্কেটিং সাইটগুলোতে প্রায় সব পণ্যই পাওয়া যাচ্ছে। নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, থ্রিপিস, গহনা, প্রসাধনী, ছেলেদের টিশার্ট, ঘড়ি, সানগ্লাস, বিভিন্ন ঘর সাজানো ও রান্নাঘরের সামগ্রী এবং নিত্যনতুন সব প্রযুক্তি পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে। সর্বোপরি অনেক ক্ষেত্রেই আছে নানান লোভনীয় অফারসহ ডিসকাউন্টের সুবিধা।

প্রকাশিত : ৭ জুলাই ২০১৫

০৭/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: