১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

রমজানে দক্ষিণাঞ্চলে মধ্যবিত্তদের ইলিশ কেনার সাধ্য নেই


খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ দক্ষিণাঞ্চলের উপলকূলীয় বিভিন্ন খরস্রোতা নদীতে আষাঢ়ের বর্ষণের সঙ্গে সাগরের জোয়ারে ভর করে ইলিশের আনাগোনা শুরু হয়েছে। তবে ইলিশ মৌসুমের শুরুতে ক্রেতার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম আকাশচুম্বী। তাই পবিত্র রমজান মাসে দক্ষিণাঞ্চলের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের সাধ থাকলেও ইলিশ কেনার সাধ্য নেই।

সূত্রমতে, সোমবার বরিশালের পাইকারি বাজারে এক কেজি ওজন সাইজের প্রতিমণ ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ৬২ হাজার টাকা দরে। আর এক কেজির কম ওজনের প্রতি মণ ৪০ থেকে ৪৬ হাজার এবং ৫শ’ থেকে ৬শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার টাকা দরে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন ইলিশ মোকামের দর ছিল বরিশালের তুলনায় প্রতিমণ ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা কম। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর চেয়ে উপকূলের ইলিশ প্রকারভেদে প্রতিমণ তিন থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত কম দরে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর নতুন বাজারে মাছ ক্রয় করতে আসা ক্রেতা সেলিম বিশ্বাস জানান, বর্ষার শুরুতেই ভাল মান ও সাইজের ইলিশ বাজারে আসায় রমজান মাসে খাবারে বৈচিত্র্য আনতে ইলিশ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও দামের কারণে সে আশা পূরণ হচ্ছে না। সাধ থাকলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে ইলিশ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। সূত্রমতে, ৩০ জুন থেকে ইলিশপোনা জাটকা আহরণ, পরিবহন ও বিপণনের ওপর সরকারিী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় পর পরই জেলেরা একবুক আশা নিয়ে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের জেলেরা নির্ভয়ে সাগর মোহনা সংলগ্ন ভাটি মেঘনা, তেঁতুলিয়া, বলেশ্বর, বিশখালী ও পায়রাসহ সাগরমুখী সব নদ-নদীতেই নৌকা ভাসিয়ে জাল ফেলতে শুরু করেছেন। তবে সাগর এখনও মাঝারি মাত্রায় উত্তাল থাকায় ছোট ও মাঝারি মাপের ট্রলারসহ জেলে নৌকাগুলো এখনও সাগরমুখী হচ্ছে না। পূর্ণিমার ভরা কোটাল পার করেই জেলেরা সাগরে যাওয়ার আশা করছেন। সে লক্ষ্যে জাল, ট্রলার ও নৌকা মেরামতসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন মৎস্য বন্দর মহিপুর, আলীপুর, পাথরঘাটা, হরিণঘাটা, পাড়েরহাট, ভোলার চর মোন্তাজ, কুকরী-মুকরী, চর কচ্ছপিয়া ও ঢালচরসহ বিভিন্ন মৎস্য মোকামের জেলেরা।

সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ১ নবেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অনূর্ধ্ব ১০ ইঞ্চি সাইজের সব ধরনের ইলিশ পোনা বা জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। পাশাপাশি উপকূলের পাঁচটি এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে নবেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সব ধরনের মৎস্য আহরণেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। এসব নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পাশাপাশি জাটকা ইতোমধ্যে পরিপক্ব ইলিশে পরিণত হওয়ায় গত কয়েক মাসের বেকার জেলেদের মনে নতুন আশা জাগতে শুরু“ করেছে।

বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুল বলেন, আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার পরে ইলিশ মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। ওইসময় ইলিশের দামও কমে যাবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ও সহনীয় আহরণ প্রায় ৪ লাখ টনে পৌঁছার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন মৎস্য অধিদফতরের দায়িত্বশীল মহল। সেখানে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার টনের মতো। দেশের মৎস্য সম্পদে একক প্রজাতি হিসেবে ইলিশের অবদান প্রায় ১২ থেকে ১৩ শতাংশ।

জিডিপিতে জাতীয় মাছ ইলিশের একক অবদান ১ শতাংশেরও বেশি। তিনি আরও বলেন, ইলিশ মাছ প্রতিদিন গড়ে ৭১ কিলোমিটার পর্যন্ত সাঁতার কেটে ক্রমাগত তার অবস্থান পরিবর্তন করে থাকে। এবার ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলসহ বিভিন্ন নদ-নদীর মোহনায় ইলিশের ঝাঁক ছুঁটে আসতে শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইলিশের দামও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।