১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কক্সবাজারে বন্যায় বাঁধ ভেঙ্গে একাকার


স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ জেলা সদর, রামু ও চকরিয়ায় ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় পানির প্রবল চাপে ভেঙ্গে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্তত আড়াই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেছে। এখনও চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। চকরিয়া চিরিঙ্গার ৯টি পয়েন্ট দিয়ে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নিত্যদিন ১৬টি গ্রামের লোকালয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মাতামুহুরী নদীর পানি। চারটি ওয়ার্ডের প্রায় ১০ হাজার জনসাধারণ স্বাভাবিক জীবনযাপনে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন। ১২টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বরইতলী ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামে এখন রীতিমতো চলছে জোয়ার-ভাটা।

এতে ওই এলাকার প্রায় ১৮ হাজার জনসাধারণ বর্তমানে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের মধ্যে পালাকাটা জেটি (রাবার ড্যাম) সড়কের বেড়িবাঁধের তিনটি পয়েন্ট পানির প্রবল চাপে ভেঙ্গে গিয়ে এখন মাতামুহুরী নদীর সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। বর্তমানে চলাচলে স্থানীয় লোকজন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন বলেন, তার ইউনিয়নে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৫ এ-১ পোল্ডারের আওতায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। তার মধ্যে সম্প্রতি বন্যায় ভেঙ্গে গেছে এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। সওদাগরঘোনা, বালুচিরা ও চরনদ্বীপ এলাকায় বেড়িবাঁধের ৯টি পয়েন্ট ভেঙ্গে এখন মাতামুহুরী নদীর পানি প্রতিদিন প্রবাহিত হচ্ছে লোকালয়ে। এতে করে ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের ১০ হাজার বাসিন্দা কার্যত জোয়ারের সময় পানিবন্দী অবস্থায় জিম্মি হয়ে পড়ছে।

উপজেলা কৃষি বর্গাচাষী সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন পুতু বলেন, বন্যার কারণে বেড়িবাঁধের একাধিক পয়েন্ট ভেঙ্গে যাওয়ায় বিশাল এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বন্যায় তার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, বিবিরখিল, পঁহরচাদা ও জলদাশপাড়াসহ আশপাশ এলাকায় বেড়িবাঁধের ১২ পয়েন্ট পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে বর্তমানে মাতামুহুরী নদীর জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে ১৫টি গ্রামের ১৮ হাজার জনসাধারণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া শাখা কর্মকর্তা (এসও) মোহাম্মদ আলী বলেন, সরেজমিন তদন্ত করে চিরিঙ্গা ইউনিয়নে এক কিলোমিটার ও বরইতলী ইউনিয়নে দেড় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়াও উপজেলার কাকারা ইউনিয়নসহ বেশ কটি ইউনিয়নে বন্যায় বিশাল এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে।