১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হলমার্ক কেলেঙ্কারি- ফের দেড় হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির সন্ধানে দুদক


মশিউর রহমান খান ॥ দেশী-বিদেশী ৩৭ ব্যাংকের সম্পৃক্ততার দালিলিক প্রমাণ পাওয়ায় হলমার্ক ঋণ কেলেঙ্কারিতে সোনালী ব্যাংকের নন-ফান্ডেড দেড় হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির নতুন করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে দুদক। দুদক সূত্র বিষয়টি জনকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে। সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তে বের হওয়া নন-ফান্ডেড ১ হাজার ১শ’ কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে দেশী-বিদেশী এসব ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পরই দুদক ফের সরব হয়ে উঠেছে। এর আগে ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে প্রায় ১ হাজার ৭১০ কোটি টাকার দুর্নীতি অনুসন্ধান না করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। যার স্মারক নং-দুদক/বিঃ অনুঃ ও তদন্ত-১/মানিলন্ডারিং/৩২-২০১২(অংশ-৫)/১০৩১২।

গত ১৬ জুন সোনালী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ বিভাগ প্রায় ৬ হাজার পাতার তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের কাছে হস্তান্তর করে। এখন কমিশনে প্রতিবেদনটির সারাংশ রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। সারাংশ তৈরির পরই নতুন করে দুর্নীতি অনুসন্ধান শুরু করবে। এ লক্ষ্যে চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। হলমার্কের নন-ফান্ডেড অংশে অর্থ আত্মসাৎ, জাল-জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। যা দুদকের সিডিউলভুক্ত অপরাধ। এছাড়া দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশের সর্ববৃহৎ এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে ৩৭ দেশী-বিদেশী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে ২০১৪ সালে নন-ফান্ডেড অংশ অনুসন্ধান না করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

দুদকের বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ বিভাগ থেকে গত ১৬ জুন কয়েক হাজার পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের কাছে হস্তান্তর করে। ওই প্রতিবেদনে হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে ব্যাক টু ব্যাক এলসির মাধ্যমে ৩৭ দেশী-বিদেশী ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব ব্যাংকের মধ্যে সাতটি সরকারী ব্যাংক, ২৫টি বেসরকারী ব্যাংক এবং পাঁচটি বিদেশী ব্যাংক রয়েছে। যেখানে ওই ব্যাংকগুলোর শতাধিক শাখা এ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে ইতোমধ্যে কমিশনের নিয়মিত সভায় আলোচনা হয়েছে। গত ২২ জুন কমিশনের নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হলমার্কের নন-ফান্ডেড অংশের তদন্ত প্রতিবেদনের সারাংশ রিপোর্ট তৈরির জন্য কমিশনের মানিলন্ডারিং বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই কাজ শেষ হলেই নতুন করে হলমার্ক কেলেঙ্কারির নন-ফান্ডেড অংশের অনুসন্ধান শুরু হতে পারে। এর আগে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, নন-ফান্ডেড অনুসন্ধান পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে তাদের তদন্ত টিমের ফল জানার পরই আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: