২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

মাতারবাড়ী নিয়ে জাপানের আগ্রহ বাংলাদেশকে সুবিধা দেবে


নাজনীন আখতার ॥ আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, বাণিজ্যে সুপার পাওয়ারে অবস্থান দৃঢ় করাসহ রাজনৈতিক চুলচেরা বিশ্লেষণে বাংলাদেশ এখন পরাক্রমশালী দেশগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্লেষকদের মতে, ছোট দেশ, সবেমাত্র দরিদ্রতার লেবেল হালকা করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাতারে অবস্থান করা বাংলাদেশকে নিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর এ কাড়াকাড়িতে সুবিধা ও লাভের পাল্লা ভারি হচ্ছে বাংলাদেশেরই। সর্বশেষ বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ নিয়ে চীনকে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে ফেলে জাপানের প্রবেশ সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। সম্প্রতি জাপানের স্বনামধন্য পত্রিকা দি জাপান টাইমসেও এমন তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।

জাপান টাইমসের ওই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেখানে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ নিয়ে জাপানের আগ্রহ, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুবিধাজনকভাবে উন্নয়নশীল সহযোগীকে বাছাই করা মতো শক্তিশালী অবস্থান এবং পরাক্রমশীল দেশগুলোর রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক খুঁটিনাটি হিসাব-নিকাশ উঠে এসেছে।

পত্রিকাটির ৫ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনকে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে ফেলে এগিয়ে এসেছে জাপান। ভারত মহাসাগরে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে এ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতেই জাপান এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে সোনাদিয়ায় প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়ে চীনের সঙ্গে কথাবার্তা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিলো। তবে গত বছর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের পর এ নিয়ে নতুন চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়। জাপান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে মাতারবাড়ীতে প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশকে। জাপানের প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে এর প্রাথমিক কাজ শুরু করা হবে।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে বাংলাদেশ নিয়ে পরাক্রমশালী দেশগুলোর আগ্রহের কারণ। আইএইচএস ইংকের সমুদ্রসীমা বিষয়ক বিশ্লেষক ক্রিসপেন এটকিনসন সোনাদিয়ায় চীনের প্রস্তাব বাদ দিয়ে জাপানের প্রস্তাব অনুযায়ী মাতারবাড়ীতে বন্দর নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেছেন, “আমার মতে সেখানে (বাংলাদেশে) এ মুহূর্তে একটি বন্দরই নির্মাণ হতে পারে। মাতারবাড়ীতে নির্মাণের পেছনে রাজনৈতিক কারণই রয়েছে। বন্দর নির্মাণের ইচ্ছার পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনের বিষয়টিকে যুক্ত করলেই তা বোঝা যায়। সেক্ষেত্রে চীনের সহায়তায় বন্দর নির্মাণ কী সবচেয়ে ভাল অপশন হতে পারে?”

বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগর, যার জলরাশি মেক্সিকোর চেয়েও বড় এবং যা এ অঞ্চলের হৃদয় হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে চীন, জাপান এবং ভারত এক দশক ধরে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে চলেছে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। তাই এ দৌড়ে চীনকে পেছনে ফেলার প্রতিযোগিতায় চলে এসেছে বাকি দেশগুলো। ক্যানবেরার অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফেলো ডেভিড ব্রিউস্টার এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “এখানে এক দেশকে পেছনে ফেলে আরেক দেশের দ্রুত উঠে আসার প্রতিযোগিতা চলছে। জাপান সেক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে পরিষ্কারভাবে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বন্দর নির্মাণে চীনকে ফেলে জাপানের এ নিয়ন্ত্রণ তাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, জাপান এটা করতে পেরে খুব সন্তষ্ট।”

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: