১৭ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিচার বিভাগ নিয়ে-


প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, বিচার বিভাগের গঠনমূলক সমালোচনা করা যেতে পারে। তবে দায়িত্বহীন ও অযৌক্তিক সমালোচনা বিচার বিভাগের জন্য অপরিমেয় ক্ষতি বয়ে আনবে। তিনি আরও বলেছেন, আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ সচেতন। শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটালাইজেশন অব বাংলাদেশ জুডিশিয়ারি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সুপ্রীমকোর্ট ও ইউএনডিপির যৌথ আয়োজনে এই কর্মশালায় তাঁর এ বক্তব্য বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং বিচারকদের বিচ্যুতিমুক্ত থাকার ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। এ কথা সত্য যে, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানুষ এখনও বিচার বিভাগের ওপর উঁচু ধারণা পোষণ করেন। কিছু ত্রুটি সত্ত্বেও বিচার বিভাগকে মানুষ সম্মানের জায়গায় রেখেছে। এ সম্মান রক্ষা এবং বৃদ্ধিতে বিচারক ও আইন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ব্যাপক দায়িত্ব রয়েছে। একটি দেশের জন্য আইনের শাসন কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এই বক্তব্য থেকেই উপলব্ধি করা যায়। আইন, প্রযুক্তি ও সমাজের মধ্যে এখন অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক। এগুলোর একটি থেকে অন্যটিকে পৃথক করা যায় না। বিভিন্ন ধরনের নতুন প্রযুক্তির উদ্ভবের কারণে বিদ্যমান আইনের পাশাপাশি নতুন আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতেও এটি জরুরী। যদিও তথ্যপ্রযুক্তি চালু করলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে না। তার জন্য কিছু মৌলিক ও কাঠামোগত পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

মানুষের অধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থাকে ন্যায্য ও গতিশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আদালতে এখনও অসংখ্য অনিষ্পত্তিকৃত মামলা রয়েছে। অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছেই। এ অবস্থায় মামলাগুলোর বিচার কাজ যৌক্তিক পর্যায়ে আনা গেলে জনগণের হয়রানি ও দুর্ভোগ কমবে। তবে এখনও ন্যায়বিচার পেতে মানুষকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। এই বিষয়গুলোও প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে উঠে এসেছে। আমরা জানি, ‘রাগ-বিরাগের বশবর্তী না হইয়া’, ‘ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধে থাকিয়া’ ইত্যাদি মহান শব্দ উচ্চারণ করে বিচারকগণ যখন শপথ গ্রহণ করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই জনগণ প্রত্যাশা করে এজলাসে বিচারকের নির্মোহ ও নৈর্ব্যক্তিক সত্তাই ক্রিয়াশীল থাকবে। প্রধান বিচারপতির দিক-নির্দেশনা জেলা পর্যায়ের বিচার প্রশাসনকে আরও গতিশীল করবে এটা আশা করা যায়। গণমানুষের আস্থা ও বিশ্বাস যেহেতু বিচার বিভাগের অন্তর্গত শক্তির উৎস তাই তা টিকিয়ে রাখতে বিচারকদের আরও যতœবান হওয়া দরকার। বিচার বিভাগ যাতে মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধার কেন্দ্রস্থলে হয়ে থাকে তা নিশ্চিত করতে বিচারকদের সততা ও নিষ্ঠাকে সর্বতোভাবে কাজে লাগাতে হবে। মানুষ আদালতকে সম্মান করে। পাশাপাশি যৌক্তিক সমালোচনার অধিকারও রাখে। তবে সবাইকে পুরনো সেই কথাটাও মনে রাখতে হবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানেই যা ইচ্ছা তাই বলার অধিকার নয়। স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতারও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।