২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সখিপুর বন রক্ষায় হাইকোর্টের ছয় নির্দেশনা


স্টাফ রিপোর্টার ॥ টাঙ্গাইলের সখিপুরে সংরক্ষিত বন সংরক্ষণে ব্যবস্থা নিতে ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। যাতে বনে কেউ গাছ কাটতে না পারে সেজন্য টাঙ্গাইলের ডিসি, এসপি ও সখিপুরের কনজারভেটরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ৬ মাস অন্তর অন্তর মোবাইল কোর্ট পরিচালনারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিচারপতি মোঃ রেজাউল হাসান ও বিচারপতি ফরিদ আহম্মেদের বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেছে।

শুনানিতে বাদী প্েক্ষর আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, পরিবেশ আইন ও বন আইন অনুসারে সখিপুরের সংরক্ষিত বনের কোন ধরনের ধ্বংস বা ক্ষতি করার সুযোগ নেই। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বনের ভেতরেই স’মিল বসিয়ে অবৈধভাবে গাছ কেটে বন ধ্বংস করা হচ্ছে। করাতকল লাইসেন্স বিধিমালা ২০১২-এর ৭ ধারা অনুসারে বনের ১০ কিলোমিটার ভেতরে কোন স’ মিল অনুমোদন স্থাপনের নিষেধাজ্ঞা আছে। কিন্তু তা উপেক্ষা করে কর্মকা- চালানোর কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। শুনানি শেষে আদালত ছয়টি নির্দেশনা প্রদান করেছে। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, বিবাদীদের সখিপুরে সংরক্ষিত বন রক্ষায় সকল ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ। ডিসি, এসপি টাঙ্গাইল সহকারী কনজারভেটর সখিপুরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে একটি মনিটর সেল গঠন করার জন্য । যাতে করে কেউ বনের গাছ কাটতে বা ধ্বংস করতে না পারে। মনিটরিং কমিটি উপপ্রধান বন সংরক্ষকের নিকট প্রতি ৬ মাস অন্তর রিপোর্ট দাখিল করবেন। তিনি রিপোর্ট অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

তৃতীয়ত: ডিসি, এসপি টাঙ্গাইলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রতি ৬ মাস পর পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পরিবেশ ও বন আইনের বিধান কার্যকর করতে। চতুর্থ নির্দেশনায় বিবাদীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোন স’ মিলের লাইসেন্স প্রদান না করতে। পঞ্চম নির্দেশনায় বিভিন্ন আদালতের চলমান মামলা ৩৬৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে। ষষ্ঠ নির্দেশনায় উপবন সর্ংক্ষক ফরেস্ট বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রতি ৬ মাস পর পর সকল পদক্ষেপ সম্পর্কে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন একটি পত্রিকায় সখিপুর সংরক্ষিত বনের ভিতরে স মিল পরিচালনা করে ধ্বংস করা হচ্ছে বন। এই খবরের পর জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস এন্ড পীস ফর বাংলাদেশ একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। এরপর আদালত ৬ জুন রুল জারি করে। মামলায় পিটিশনকারীর প্েক্ষ শুনানি করেন এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী। সরকার পক্ষে ছিলেন ডিএজি এ এস এম নাজমুল হক। বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ।