মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ঘরের বাইরে সেহরি উৎসব

প্রকাশিত : ৬ জুলাই ২০১৫
  • এইচ.এস.এম তারিফ

নিস্তব্ধ রাত, সুনশান নীরবতা; পুরান ঢাকার রাস্তায় হেঁটে চলছে কয়েক যুবক। তাদের একজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার গোলাম কাদের জিলানি। তিনি ছাড়াও বন্ধুমহলের এই রাত্রি ভ্রমণে রয়েছেন বেসরকারী ব্যাংকে কর্মরত তানভির আলম, সৌরভ বড়ুয়া, প্রকাশনীতে কর্মরত জনি ও মোঃ মুরাদ। তারা মনের আনন্দে বংশালের প্রশস্ত রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। মধ্য রাতে নিস্তব্ধ ঢাকাকে জাগিয়ে তোলার কারণ জানতে চাইলে গোলাম কাদের জিলানি জানান, ‘সোডিয়াম লাইটের আলোয় নিস্তব্ধ ঢাকার দর্শনের সঙ্গে ঘরের বাইরে সেহরি খাবার খাওয়ার আনন্দ উপভোগ করছি। আসলে সেহরি খাওয়ার পাশাপাশি চেনা রাজধানীকে একটু অচেনা রূপে দেখার আনন্দটাও পাওয়া যায়। প্রতিবছর রোজার একদিন হলেও হোটেল রাজ্জাক বা নাজিরাবাজারের বিরানির দোকানে সেহরির খাবার খাওয়ায় আমাদের উৎসবে পরিণত হয়েছে। আর এবার তারাবির নামাজের পর রাতের খাওয়া-দাওয়া করে অল্প সময় পার হলেই সেহরির প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে, তাই মনে হচ্ছে ঘরের বাইরে আরও বেশ কয়েকবার সেহরি করব।’ এ বন্ধুমহল ছাড়াও বেশ কয়েক পরিবার মধ্য রাতে ঢাকার এ স্থানে সেহরির খাবার খেতে এসেছে। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে সপরিবারে ঘরের বাইরে খেতে যাওয়া কল্পনা করা যায় না। কিন্তু এ সময় রাতের মধ্যপ্রহরে একসঙ্গে বেশ কিছু সময় একান্তে আড্ডাও চলে। সেহরির সঙ্গে ফাঁকা রাজধানী ঘুরে দেখতে, পরিবার ছাড়াও তরুণেরা আসেন দল বেঁধে। এ চিত্র জানান দিচ্ছে ঘরের বাইরে সেহরি আয়োজন উৎসবে পরিণত করেছে। তাইতো রমজান মাসে মধ্য রাতে কোলাহলমুক্ত রাজধানী ঢাকাতে ঘরের বাইরে সেহরি আয়োজন এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ উৎসবকে পরিপূর্ণ করতে ঢাকার অনেক রেস্তরাঁয় সন্ধ্যার ইফতারের ব্যস্ততার পর মাঝ রাতেই শুরু করে সেহরির আয়োজন। এ সময় পুরান ঢাকার বিভিন্ন রেস্তরাঁয় ভিড় জমান নানা প্রান্তের মানুষ। পুরান ঢাকার নাজিরাবাজারে মধ্য রাতের চিত্র দেখে বোঝা দায়, সন্ধ্যা নাকি মাঝ রাত। ঘড়িতে চোখ না দিলে বোঝা মুশকিল, রাত শেষ প্রহরে পৌঁছে গেছে। এখানকার প্রতিটি খাবারের দোকান থেকে শুরু করে অন্যান্য দোকানগুলোয় ব্যস্ততা ঠিক দিনের মতোই। ভোজন রসিকদের আনাগোনা আর বিরানির দোকানের কর্মতৎপরতায় রাতের শেষ প্রহরকে পরিণত করেছে সন্ধ্যায়। নাজিরাবাজার আর নর্থসাউথ রোড, বংশালের হোটেল রাজ্জাকে অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন সেহরির খাবার খেতে। এ সময় বিরানি, কাচ্চি, মোরগ পোলাও, কোরমা, রেজালার গন্ধ আশপাশের পরিবেশকে জানান দেয়, চলছে সেহরি উৎসব। রোজার যতই দিন গড়াচ্ছে পুরান ঢাকার রেস্তরাঁগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। গভীর রাতে দলবল মিলে সেহরি খাওয়ার উৎসব অল্প দিনের হলেও, ইফতার পার্টির ন্যায় সেহরি উৎসব ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

প্রকাশিত : ৬ জুলাই ২০১৫

০৬/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: