মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ আগস্ট ২০১৭, ৬ ভাদ্র ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জমজমাট এখন অনলাইন কেনাকাটা

প্রকাশিত : ৬ জুলাই ২০১৫
  • রেজাউল করিম খোকন

অফিস থেকে ঘরে ফেরার পর কিছুটা সময় ইন্টারনেটে ঘোরাঘুরি করা সাবরিনার অনেকদিনের শখ বা অভ্যাস। কয়েক বছর আগে একদিন অনলাইনে ই শপিংয়ের খোঁজ পান তিনি। প্রথম দিকে শুধু অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পোর্টালগুলোতে ঘোরাঘুরি করতেন। কোন্ জিনিসের দাম কত, মান কেমন, বিক্রেতা কোন্ এলাকার- এসব দেখতেন তিনি। কয়েক মাস আগে একদিন সাহস করে একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন কেনার জন্য বিক্রেতার মোবাইলে কল দেন। দামে বনে যাওয়ায় পরদিন অফিস থেকে ফেরার পথে ঐ বিক্রেতার নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে ওভেনটি কিনে আনেন। এভাবেই সাবরিনা অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটায় অভ্যস্ত হন। এরপর তিনি অনলাইনে নিজের জন্য জামা এবং ঘরের কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছেন। সাবরিনার মতো এখন আরও অনেকেই অনলাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। অনলাইনে কেনাকাটা তাদের জীবনকে সহজ ওস স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে। এমনিতে কোন কিছু কেনাকাটা করতে হলে পুরো বাজার চষে ফেলতে হতো। এ দোকান সে দোকান ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হতে হতো। এতে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হতো। আজ আমাদের এখানে অনলাইন বেচাকেনার প্রসার ঘটছে ক্রমশ। অনলাইন কেনাকাটার সুবিধাগুলো উপলব্ধি করতেই অনেকেই আরও দ্বিগুণ উৎসাহে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তারা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন। নগরজীবনের ব্যস্ততায় যখন নাভিশ্বাস অবস্থা সবার, নিজের জন্য একান্ত কিছু সময় বের করতে গিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছেন যারা, তাদের ব্যস্ত জীবনযাপনে অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে এই অনলাইন বাণিজ্য। একটি মোবাইল ফোনই সহজ করে দিচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতার জীবনাচরণ। এভাবেই মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতার এই চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু অনলাইনে কেনাবেচার প্লাটফর্ম। ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমেও কেনাকাটা চলে এখন। জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি থেকে শুরু করে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হাঁড়িপাতিল, মাছ-মাংস, মুরগি, শাক-সবজি পর্যন্ত বিক্রি হয় এসব ওয়েবপোর্টালে। আজকাল ডিম, দুধ, মাখন, রুটি, হাতে বানানো পিঠা, নাস্তা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ বিক্রি ডট কম, সেলবাজার, ওএলএক্স, এখনি ডট কম, আমাদের দেশ আমার গ্রাম, ই-শপ প্রভৃতি অনলাইন পোর্টাল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমেও তাদের পণ্য বিক্রি করছে। দেশে গত কয়েক বছরে সব মিলিয়ে দুই হাজারের মতো অনলাইনে বেচাকেনার প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৫টির মতো অনলাইন হাট সক্রিয়। এর বাইরে ৭টি ক্ল্যাসিফায়েড অনলাইন বিজ্ঞাপনের প্ল্যাটফর্ম এবং অফলাইনে বেচাকেনা করা অন্তত ৫টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের

ওয়েবপোর্টাল রয়েছে। যেখান থেকে অনলাইনে বেচাকেনা হয়। আর এসব প্ল্যাটফর্মের ৭৩ শতাংশ বিক্রি হয়ে থাকে ফেসবুক পেজ থেকে। সন্ধ্যা থেকে কেনাকাটা বাড়তে থাকে। সাধারণত ২০ থেকে ৩৫ বছরের নারী পুরুষ অনলাইনে কেনাকাটা করে থাকেন। অনলাইনে কেনাকাটার ৭০ শতাংশই সম্পন্ন হয় ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেমে। এর বাইরে ১০ শতাংশ ক্রেডিট কার্ড ও ২০ শতাংশ হয়ে থাকে বিকাশের মাধ্যমে।

সেলবাজার নামে একটি প্রতিষ্ঠান ২০১১ সালে প্রথম অনলাইনে বেচাকেনা শুরু করে। এরপরেই অনলাইনে বেচাকেনার প্রসার ঘটতে থাকে। বর্তমানে এমন ২০ থেকে ২৫টি ওয়েবপোর্টাল রয়েছে। এ পোর্টালগুলো ব্যবসায়িকভাবে বেশ সফল হতে শুরু করেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন এসব পোর্টাল দেখছে, এমন বিবেচনায় এখানে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন দেয়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইনে বেচাকেনা হয় দুই ভাবে। সেলবাজার, বিক্রয় ডট কমের মতো ওয়েবপোর্টালে বিক্রেতা তার পুরনো পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। আগ্রহী ক্রেতা সেই বিজ্ঞাপন দেখে ওই বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে দুজনের আপসের ভিত্তিতে পণ্যটি বেচাকেনা হয়। এ জন্য অবশ্য নগদ অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এসব ওয়েবসাইটে এখন নতুন পণ্যের বিক্রির বিজ্ঞাপনও দেয়া শুরু হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব পণ্যের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। আবার বেশ কিছু ওয়েবপোর্টাল রয়েছে যারা নিজেরাই পণ্য বিক্রি করে ও সরবরাহ করে। ক্রেতা শুধু পণ্য পছন্দ করে অনলাইনে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, মাস্টার কার্ড, ভিসা কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা বিল পরিশোধ করেন। বাংলাদেশে অনলাইনে বেচাকেনার বড় ওয়েবপোর্টাল হলো বিক্রয় ডট কম।

২০১২ সালের জুন মাসে যাত্রা শুরু করে এ খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে তা। জানা গেছে শুরুতে প্রতিমাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার ক্রেতা পণ্য কিনতে এই ওয়েবপোর্টালে ঢুকতেন। এখন প্রতিমাসে গড়ে ২০ লাখ আগ্রহী ক্রেতা নিয়মিতভাবে এই ওয়েবপোর্টালে যান। পোর্টালটিতেই বর্তমানে তিন লাখের বেশি পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার বিজ্ঞাপন পায় বিক্রয় ডট কম। বিজ্ঞাপন দিতে কোন পয়সা লাগে না। শুধু পণ্যের ছবি, দাম, বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ নম্বর ও ঠিকানা দিতে হয়।

অনলাইনে কেনাকাটা করার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি আগামী দিনগুলোতে এর ব্যাপক সম্ভাবনাকে জোরালোভাবে ফুটিয়ে তুলছে।

প্রকাশিত : ৬ জুলাই ২০১৫

০৬/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: