মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ আগস্ট ২০১৭, ৬ ভাদ্র ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জীবনে ঈদের আমেজ

প্রকাশিত : ৬ জুলাই ২০১৫
  • রেজা ফারুক

ঈদের আনন্দটাই কারও সঙ্গে শেয়ার করতে পারার যে আনন্দ, তার যেন কোন তুলনাই হয় না। আর ঈদে সবার অনুভূতিটা এমনই হয়। ঈদের আবহ শুরু হলেই সকলের মধ্যে যে তুমুল উত্তালের গুঞ্জরণ সূচিত হয়। অন্য কোন উৎসবে সেটা এক্কেবারেই অনুপস্থিত।

ঈদের রয়েছে একটা আলাদা আমেজ। বয়ঃসন্ধিকালের ঈদে সেই আমেজের রঙিন আমেজ যেন দুকূল ছাপিয়ে যায়। উৎসবময় ঈদ তাই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ের আনন্দ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর সেটা গভীরভাবে স্মৃতি তাড়িত করে একটা সময়ে এসে। কথাচ্ছলে তারা বলে ওঠেন ছিল আমাদের ঈদ। সেই তরুণ বয়সের অপার আনন্দবহুল ঈদ এখন কোথায়! কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সব কিছুরই যে রূপ পাল্টায়, পাল্টে গেছে তেমনি ঈদের রূপটুকুও। সেকালের কৈশোর কিংবা তারুণ্যের ঈদ যাপনের ছবির সঙ্গে একালের ঈদের ছবি যে মিলবে না তা বলাইবাহুল্য। তবে অনুষঙ্গ হিসেবে ঈদের প্রতিটি ছত্রে যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে ফ্যাশনেবল পরিচ্ছেদ তথা নতুন জামা-কাপড়, জুতো টুপি, আতর পারফিউম, গহনারপত্র, মেহেদিসহ আরও কত কী। শুধু বদলে গেছে প্রেক্ষাপট এবং আঙ্গিক।

ঈদের সময় আগে থেকেই গজ কাপড় অথবা কাটপিস কাপড় কিনে দর্জি দোকানের শরণাপন্ন হতে হতো। মাপজোক-জামা-প্যান্ট, সালোয়ার কামিজ, ফ্রক তৈরি। তারপর এক মোহনীয় আনন্দঘন আবেশে বুকে নতুন জামা জড়িয়ে বাড়িফেরা আর ঈদের দিনে সেই নতুন জামা-কাপড় পরিধান করে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো। এখন, ঈদের প্রধান অনুষঙ্গও নতুন ড্রেস। তবে ভিন্নতা হলোÑ এখন আর দর্জি দোকানে গিয়ে উন্মুখ অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় না। আধুনিক বোধের ছোঁয়ায় ঈদের আবেগময় অভিব্যক্তিটা যেন অন্য এক প্রাণ প্রাচুর্যে ভরে উঠেছে, একালের ঈদের সঙ্গে যোগ হয়েছে এক নতুন মাত্রা অর্থাৎ হাত বাড়ালেই পছন্দের ড্রেসটি নিজের মতো করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই হাতে পেয়ে যাওয়া। এছাড়া ডিজিটাল এনভায়রনমেন্টের একটা গতিশীল স্রোতধারা যেন ঈদের অবয়বটাকে প্রবল আধুনিকতার মোড়কে ঢেকে দিয়েছে। আর সেই আধুনিক কনসেপ্টের সুতোয় গৃহীত হয়ে গেছে সবারই মন। আর ওই মনের গতি যেন সূর্যরশ্মির গতিকেও হার মানায়।

ঈদ মানেই ফ্যাশনেবল ড্রেস। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ফেসবুক, ইন্টারনেটের মহাসমুদ্র অবিশ্বাস অবগাহন। এক সময়কার পরিবার কেন্দ্রিক ঈদ উদযাপনের ধারাতেও এসেছে পরিবর্তন। যে বাঙালী পরিবারগুলো যুগ যুগ ধরেছিল একান্নবর্তী পারিবারিক পরিম-লের বৃত্তে আবদ্ধ। সময়ের নিরিখে তা ভেঙে খান খান হয়ে পড়েছে আর তার প্রভাব পড়েছে জীবনের প্রতিটি স্পন্দনে। মানুষ এখন পূর্বাপেক্ষা ভীষণ আত্মকেন্দ্রিকতা জালে জড়িয়ে পড়েছে পরিবেশ এবং পারিপার্শ্বিকতার ছাঁচে পড়ে। সময়ই বদলে দিয়েছে সব। আনন্দটাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়ে গেছে নানা রঙের। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ঈদের আনন্দ কখনই একাকী উদযাপন করা যায় না। বন্ধু বা পরিবারের অন্য সদস্য কিংবা আত্মীয় পরিজনের সমবেত মিলনেই যেন ঈদের অকৃত্রিম আনন্দটা হয়ে ওঠে আন্তরিক। আর ঈদের অসীম ছন্দময় ভাল লাগায় পরিপূর্ণতা পায়। আবহমানকাল ধরেই রয়ে গেছে এক ও অভিন্ন সর্বোপরি ঈদের আনন্দটাকে উপভোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে সারাদেশই যেন উন্মুখর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফ্যাশন হাউসগুলো। শপিংমল থেকে শুরু করে সাধারণ রেডিমেড পোশাকের শোরুম- এমনকি ফুটপথ ঘিরেও জমে উঠেছে ঈদের বাজার। তাই ঈদ হয়ে উঠেছে ভিষণ ফ্যাশনেবল তথা ঈদের মূল আকর্ষণটাই যেন ফ্যাশনে রূপান্তরিত হয়েছে। আর সেটি ছড়িয়ে পড়েছে ব্যবহার্য সব কিছুতেই। ড্রেস থেকে শুরু করে জুয়েলারি, ফার্নিচার ইমিটেশন, বিউটি কনসেপ্ট, অর্নামেন্টস, ক্রোকারিজ সর্বত্রই ঈদের ছোঁয়া।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে যায় পোশাক। শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া, কুর্তা এবং অবশ্যই কসমেটিকস, সাজ-সজ্জা, সু, কোন কিছুই যেন বাদ পড়ে না। ঈদের রঙে বর্ণোজ্জ্বল হয়ে ওঠে সব। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম হবে না। যার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে চারদিকে। তাই ঈদ শুধু ঈদের বৃত্তেই সীমাবদ্ধ না থেকে ঈদ এখন হয়ে উঠেছে অসম্ভব পোশাকি এবং অবশ্যই ফ্যাশনেবল আর স্টাইলিশ।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : সাফা কবির ও বিএম সাবাব (সোলস স্টার পোশাক)

প্রকাশিত : ৬ জুলাই ২০১৫

০৬/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: