১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে পণ্য ঋণ দিচ্ছে বেলারুশ


হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ ঢাকাসহ সারাদেশের শহরের বর্জ্য অপসারণে বেলারুশ থেকে যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। এ জন্য ৪২০ কোটি ২৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে বেলারুশ সরকার দিচ্ছে ৩৩১ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা এবং বাকি ৮৮ কোটি ৮০ লাখ ৭ হাজার টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। বেলারুশ সরকার বাংলাদেশকে দ্রব্য ঋণ (কমোডিটি লোন) হিসেবে এ অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। তছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি হবে। সেই সঙ্গে যন্ত্রপাতি ভাড়া দিয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি হবে এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটির ওপর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনু্িষ্ঠত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তগুলো প্রতিপালন সাপেক্ষে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে অধিকাংশ জনগণ পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে বসবাস করছে। ফলে শহরাঞ্চল দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ বর্তমানে শহরে বসবাস করছে। এই শহরায়নের ফলে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহে রাস্তা,ড্রেন ও ফুটপাথের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। সেই সাথে নগরের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনারও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ জন্য পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু পৌরসভাগুলোর আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। তাই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করা তাদের পক্ষে সম্ভবপর হচ্ছে না। সেজন্য সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহকে বিভিন্ন যানবাহন ও যন্ত্রপাতি দিয়ে সহায়তা প্রদানের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলারুশ সফরের সময় বেলারুশ হতে সহজ শর্তে দ্রব্য ঋণ (কমোডিটি লোন) গ্রহণের মাধ্যমে দ্রব্য আমদানির বিষয়ে ওই বছরের ৯ জুলাই একটি ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন প্রভিশনস অব এক্সপোর্ট কমোডিটি ক্রেডিট শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির শর্তের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ বেলারুশ হতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার দ্রব্য (যান ও যন্ত্রপাতি) আমদানি করবে। এসব যন্ত্রপাতি পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও পরিস্কার, ড্রেন নির্মাণ, মেরামত ও পরিস্কার, রাস্তা নির্মাণ ও মেরামত ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হবে।

বর্তমানে যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতার জন্য এসব কাজে প্রতিবছর পৌরসভাগুলোকে প্রচুর পরিমাণে ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি আমদানি ও ব্যবহার করা হলে যে ভাড়া সাশ্রয় হবে এবং অবসর সময়ে ভাড়া প্রদান করে যে আয় হবে তা থেকেই ঋণের বাৎসরিক কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, গত বছরের ৭ নবেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনমনীয় ঋণবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভায় এ ঋণ প্রস্তাবটি অনুমোদন লাভ করেছে। চলতি বছরের ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভার সুপারিশ অনুযায়ী বেলারুশ হতে যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রস্তাবটি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা অনুমোদন করে। গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী এটি অনুমোদন দিয়েছেন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার এক্সিলারিং গ্রোথ এ্যান্ড রিডিউসিং পোভার্টি পার্ট-২ সেক্টরাল স্ট্রাটেজিস এ্যান্ড পলিসি চ্যাপ্টার-৫ এর বলা হয়েছে ম্যানেজিং দ্য আরবান ট্রানজিশন, আরবানাইজেশন স্ট্রাটেজি আন্ডার দ্য সিক্সফাইভ ইয়ার প্ল্যান এর ইমপ্রুভিং সিটি গর্ভনেন্স এর সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিকল্পনা কমিশনে ইতোমধ্যেই প্রকল্পটির যাবতীয় প্রক্রিয়াকরণ শেষ হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্প উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন পেলে ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।