২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চার সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ আদালতের


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম বন্দরে আটক তরল কোকেন সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণের জন্য আদালত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বন্দর ও সংশ্লিষ্ট তিন সংস্থার সহযোগিতায় গোয়েন্দা পুলিশকে মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদ আলম এ সংক্রান্তে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এ সময় বন্দরের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বিভাগের দু’জন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের একজন সহকারী কমিশনার ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের একজন উপ-পরিচালক হাজির ছিলেন। এদিকে, তরল কোকেন আটক মামলায় গ্রেফতারকৃত তিনজন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, গার্মেন্ট পণ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ম-ল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইন্স লিমিটেড ব্যবস্থাপক একে আজাদ, একটি ডেভেলপার কোম্পানির কর্মকর্তা মোস্তফা কামালকে গোয়েন্দা পুলিশের ১০ সদস্যের গঠিত অনুসন্ধান কমিটি পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করে চলেছে। এদের কখনও একা, কখনও যৌথভাবে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্ত টিমের সদস্যরা। অপরদিকে, কোকেনসহ সানফ্লাওয়ার ব্র্যান্ডের ভোজ্য তেলের চালান ছাড়ানোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট একটি সিএন্ডএফ এজেন্টের দু’জনকে শনিবার আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অনুসন্ধান কমিটি সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। তরল কোকেন বাংলাদেশে আটক হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। এছাড়া ভোজ্য তেলের সঙ্গে কোকেন আনার নেপথ্যের ঘটনা জটিল। তাই এর গভীর যেতে বেগ পেতে হচ্ছে। কেননা, এরসঙ্গে জড়িত রয়েছে বিদেশী কয়েকজন। এরমধ্যে লন্ডনে অবস্থানরত একজন বাংলাদেশীও রয়েছেন। এদের গ্রেফতারের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ইন্টারপোলের সহায়তা নিচ্ছে।

এদিকে, গ্রেফতারকৃত আতিকুর রহমান, মোস্তফা কামাল ও একে আজাদের ১০ দিন এবং গোলাম মোস্তফা সোহেল ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রবিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদ আলম তদন্ত কর্মকর্তাকে কোকেন সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে নজরদারিতে রেখে মামলার জন্য ধার্য তারিখে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ভোজ্য তেলের সঙ্গে কোকেন আসার সন্দেহে গত ৬ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কন্টেনার আটক করে সিলগালা করে দেয় শুল্ক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এরপর ৮ জুন এ কন্টেনার খোলে ১০৭ ডামভর্তি সানফ্লাওয়ার ব্র্যান্ডের ভোজ্য তেল পাওয়া যায়, যা বলিভিয়া থেকে অবৈধপথে জাহাজীকরণ হয়ে বন্দরে খালাস হয়েছে। গোপন সূত্রের খবর অনুযায়ী এ ভোজ্য তেলের ল্যাব পরীক্ষায় এর একটিতে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।