১৪ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আরইবির গ্রাহক সংখ্যা এক কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে


স্টাফ রিপোর্টার ॥ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে (আরইবি) গ্রাহক সংখ্যা এক কোটি ২০ লাখ অতিক্রম করেছে। উপমহাদেশের সব থেকে বড় এই বিতরণ কোম্পানি দেশে ৭২ সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুত বিতরণ করছে। সরকারী হিসাব অনুযায়ী দেশে পরিবার রয়েছে প্রায় তিন কোটি। এখানে দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি পরিবারের বিদ্যুত চাহিদা মেটাচ্ছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল মানুষের কাছে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দিলেও আরইবি বলছে তারা ২০১৮ সালের মধ্যেই সকলের কাছে বিদ্যুত পৌঁছে দিতে পারবে। বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায় আরইবিকে প্রতি মাসে কমপক্ষে এক লাখ নতুন গ্রাহকের কাছে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু আরইবি সেই লক্ষ্যমাত্রার তিনগুণও বিদ্যুত সংযোগ দিচ্ছে। আরইবি বলছে গত জুনে দেশের পল্লী বিদ্যুত সমিতিগুলো সারাদেশে সারাদেশে তিন লাখ ৪২ হাজার ৭৩৯ পরিবারে নতুন সংযোগ দিয়েছে। গত ছয় মাসের মধ্যে যা রেকর্ড বিদ্যুত সংযোগ প্রদান।

আরইবি সূত্র জানায় জুনের মধ্যে দেশের সকল জমে থাকা আবেদনের সংযোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় সমিতিগুলোকে। ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে সমিতিগুলো গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষ ঘুষ লেনদেন আর সংযোগ পেতে ভোগান্তির অভিযোগও পাওয়া গেছে। যদিও সংযোগ প্রত্যাশীদের জন্য তাৎক্ষণিক ফি জমা দিয়ে সংযোগ নেয়ার ক্যাম্পও করা হয় কোন কোন এলাকায়।

আরইবি বলছে গত মে মাসে তিন লাখ চার হাজার ৮৩৯ পরিবারকে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয়েছে। অপরদিকে গত ছয় মাসে আরইবি ১৩ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৩ পরিবারকে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিয়েছে। অর্থাৎ গত ছয় মাসে গড়ে দুই লাখ ২৫ হাজার নতুন গ্রাহক বিদ্যুত পেয়েছে।

আরইবি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দিন বলেন, আমরা চেষ্টা করছি সকলকে বিদ্যুত সুবিধার আওতায় আনতে এজন্য নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সকল প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা সারাদেশকে বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসব। তিনি বলেন এই অর্জনের কৃতিত্ব আরইবির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তিনি গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সবার কাছে বিদ্যুত সুবিধা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে নুতন এক লাখ ৩০ হাজার কিলোমিটার নতুন বিদ্যুত বিতরণ লাইন নির্মাণ, এক হাজার ১০৭ উপকেন্দ্র নির্মাণের পাঁচটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর ২৫ হাজার কিলোমিটার বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ, ৫৪ লাখ গ্রাহকের জন্য প্রি-পেইড মিটার এবং সিস্টেম লস সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে।

আরইবি বলছে সেচে তাদের গ্রাহক সংখ্যা এখন তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে যা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করেছে। আরইবি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষি সেচে সংযোগ নিশ্চিত করে থাকে।

এছাড়া আরইবি তিন হাজার শহীদ এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের প্রত্যেককে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুত সুবিধা দিচ্ছে। এছাড়া ১৫ হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিকে ১০০ ইউনিট বিল মওকুফ, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৩৬ গ্রামের ৪০ হাজার পরিবারকে বিদ্যুত সুবিধা প্রদান, ১৫ হাজার ২৫০ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন, ৪০ সোলার ইরিগেশন পাম্প স্থাপন এবং ১৫ উপজেলা সদরের প্রত্যেকটিতে ৩০ কিলোওয়াট সোলার প্যানেল স্থাপন করছে। আরইবির কর্মকর্তারা বলেন সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নিচ্ছে আরইবি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন, গ্রাহক সেবা যুগোপযোগী করতে ডিজিটাল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিলিং সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে বিলিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। অনলাইন পদ্ধতিতে বিদ্যুত সংযোগের আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রাহকরা এসব বিষয়ে সচেতন হলে সেবা গ্রহণ সহজ হবে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: