১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নতুন চূড়ায় সাকিব


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি দেশের বাইরেও বিভিন্ন জনপ্রিয় টি২০ আসরে খেলেন নিয়মিত। সাকিব আল হাসান বাংলাদেশকে গর্ব করার মতো অনেক কিছুই করেছেন। একাধারে বর্তমানে টি২০, ওয়ানডে ও টেস্টের এক নম্বর অলরাউন্ডার তিনি। সাকিব বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেট আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল), ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (সিপিএল) ও আরেকটি জনপ্রিয় আসর অস্ট্রেলিয়ার বিগব্যাশ টি২০ লীগে নিয়মিতই খেলেন। এ কারণে বাংলাদেশ দলও তার দিকে ভরসা নিয়ে তাকিয়ে থাকে। সেই ভরসার প্রতিদান প্রতিনিয়তই দিয়ে যাচ্ছেন ব্যাটে-বলে সমানতালে নৈপুণ্য দেখিয়ে। উঠছেন একের পর এক উচ্চতায়। এবার টি২০ বোলার হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়ে গেলেন সেরা। এককভাবে উঠলেন শীর্ষ চূড়ায়। রবিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম টি২০ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ভয়ানক ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলারকে আউট করে টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক ৪৫ উইকেটের মালিক হয়ে গেছেন তিনি।

শুরুটা স্পিন আঘাত দিয়েই হয়েছিল। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আক্রমণে আসেন আরাফাত সানি। তিনি প্রথম ওভারের শেষ বলে আঘাত হানেন, ফিরিয়ে দেন এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। এরপর কুইন্টন ডি কককে ফিরিয়ে দেন নাসির হোসেন। স্পিনাররা সফল হচ্ছেন এ কারণে সাকিবকে আক্রমণে আনতে বিলম্ব করেননি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। শুধু বিশ্বসেরা টি২০ অলরাউন্ডারই না সাকিব। আইসিসির বোলিং র‌্যাঙ্কিংয়েও তিনি ৬ নম্বরে। ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই আক্রমণে আসেন তিনি। প্রথম দুই ওভারে ১২ রান দিয়েছিলেন। পরে তাকে সরিয়ে নেন মাশরাফি। তবে মিলার নামার পরই আবার সাকিবকে ফিরিয়ে আনেন। দ্বিতীয় স্পেলে বোলিং ফিরেই আঘাত হানেন সাকিব। ভয়ঙ্কর মিলারকে সুযোগই দেননি থিতু হওয়ার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের প্রথম বল মোকাবেলা করেই সেটাতে নতি স্বীকার করেছেন। সাকিবের ঝুলিয়ে দেয়া বলে ঘুরিয়ে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউর শিকার হয়েছেন।

দুই টি২০ ম্যাচে আর ৬ উইকেট শিকার করলেই বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম বোলার হিসেবে ৫০ উইকেটের মালিক হবেন, এমন একটি সমীকরণ ছিল। তবে মিলারের উইকেটটাই শুধু পেলেন প্রথম টি২০ ম্যাচে। ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়েছেন। এর মাধ্যমে অবশ্য অন্য এক উচ্চতা ঠিকই ছুঁয়েছেন তিনি। ৩৭ টি২০ থেকে এখন তার শিকার ১৯.৪০ গড়ে ৪৫ উইকেট। তিনি পেছনে ফেলেন বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি ৩৪ ম্যাচে ১৯.০৪ গড়ে শিকার করেছেন ৪৪ উইকেট। টি২০ ক্রিকেটে সাকিব ব্যাটিংয়েও আগে থেকেই দেশসেরা। এ ম্যাচেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। ৩০ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় তিনি এ রান করেন। বর্তমানে সাকিব ৩৭ টি২০ খেলে ২৪.৫৫ গড়ে করেছেন ৮৩৫ রান। টি২০ ক্রিকেটে ব্যাটে-বলে দেশের সেরা সাকিব সে কারণেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।