২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কুমিল্লায় খাদ্যগুদামে বাড়তি চালের মালিক কে?


নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা, ৫ জুলাই ॥ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সরকারী খাদ্য গুদামে ১৬৩ টন চালের হিসাব নেই। গত অর্থ বছরের শেষদিন ৩০ জুন পর্যন্ত ওই গুদামে ৮৮৯ টন চাল মজুদ রয়েছে বলে কাগজে-কলমে দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে চালের মজুদ ছিল ১০৫২ টন। হিসাব বহির্ভূত ওই ১৬৩ টন চাল গুদামে মজুদ থাকলেও রহস্যজনক কারণে তা হিসাবে আনা হয়নি। রবিবার পর্যন্ত হিসাব বহির্ভূত ওই চাল গুদামে মজুদ ছিল। গম-চালের অবৈধ সিন্ডিকেটের এক প্রভাবশালী সদস্য সংরক্ষিত এলাকার ভেতরে মালামাল রেখে দেদারসে ব্যবসা পরিচালনা করে খাদ্যগুদামকে রীতিমতো ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন।

জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের শেষদিন ৩০ জুন চৌদ্দগ্রাম সরকারী খাদ্য গুদামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবময় দেওয়ান ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আমির হোসেন পরিদর্শন শেষে ৮৮৯ টন চাল ও ২৬২ টন গম মজুদ রয়েছে বলে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু বাস্তবে গুদামে চালের মজুদ ছিল ১০৫২ টন। হিসাবের অতিরিক্ত ১৬৩ টন চাল গুদামে মজুদ রেখেও রহস্যজনক কারণে কাগজপত্রে কম দেখানোর ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চৌদ্দগ্রাম সরকারী খাদ্যগুদাম লাগোয়া ঘর তৈরি করে ও গুদামের অভ্যন্তরে লোহার মাচা দিয়ে মালামাল রেখে দেদারসে ব্যবসা চালাচ্ছেন গুদামের চাল-গমের অবৈধ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্য। সংরক্ষিত এলাকায় দোকানের মালামাল রেখে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকার খাদ্য সংরক্ষণকারী এ গুদামটি বর্তমানে অরক্ষিত হয়ে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এ বিষয়ে গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী কামাল উদ্দিন জানান, ওই ব্যবসায়ী প্রভাবশালী হওয়ায় গুদামের ভেতর-বাইরে মালামাল রেখে ব্যবসা চালাচ্ছেন। গুদাম পরিদর্শক এবিএস মুসা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বাড়তি ১৬৩ টন চাল গুদামে মজুদ রাখা হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে ওই চাল দুস্থদের মাঝে বিতরণের বিধান থাকলেও তালিকা না পাওয়ায় তা বিতরণ না করে মজুদ রাখা হয়েছে। সংরক্ষিত এলাকায় সিন্ডিকেট সদস্যের মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খাদ্য পরিদর্শক ও পাহারাদাররা জানেন।