২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ষড়যন্ত্র জারি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী আপনিই আমাদের ভরসা


আগেও লিখেছিলাম, দেশের বাইরেও ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয়। আওয়ামী লীগ দেশ শাসনে এলে এদের গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়। এবার তা এত প্রকট আর ব্যর্থতার জ্বালা এত প্রচণ্ড যা আসলে মাঝে মধ্যে সহ্যের সীমা পেরিয়ে যায়। আমাদের বাড়ির কাছে কোন বাংলা দোকান নেই। বিদেশে বাংলা দোকান বলতে আমরা দেশীয় সামগ্রীর দোকান বুঝে থাকি। যেখানে পান মসলা সবজি মাছ মাংস থেকে জামা জুতো এমনকি জর্দা পানবাহার সব পাওয়া যায়। এমন একটি দোকানে আমি প্রায়শই ঢুঁ মারি। এ জায়গাটি আমার জন্য স্মৃৃৃৃতিবিজড়িতও বটে। এখানেই প্রথম বসবাস আমাদের। অভিবাসী জীবনের গোড়ার দিকে কত ধরনের সমস্যা আর সম্ভাবনা থাকে। সেগুলো এখন অতীত। তারপরও ওই জায়গাটির জন্য আমার মতো অনেকেরই মমতা রয়ে গেছে। এই ছোট উপশহরটিতে বাংলা দোকানটির রমরমা ব্যবসার নেপথ্যে এখন মূলত নেপালী আর ভারতীয় অভিবাসী বা ছাত্রছাত্রীদের অবদান বেশি। বাংলাদেশীরা নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় এখানে ঘনীভূত নেই আর। যে কথা বলছিলাম, দোকানের মালিকটিকে আমি ক্রমাগত পাল্টে যেতে দেখছি। তার সাপোর্ট বেইজ যে দেশের হোক না কেন তার মনে বাসা বেঁধেছে পাকিভূত। তার মনে চিন্তায় কথায় এখন জাতীয়তাবাদের প্রেতাত্মা ভর করেছে। যখন যাই, যখনই কথা বলি অকারণ শেখ হাসিনা আর সরকারবিরোধিতায় আমার মতো অনেকেই এখন তিতি বিরক্ত। নিজেকে এক সময় উদার বা প্রগতিপন্থী বললেও তার আদল পাল্টে গেছে। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল বরাবর ভাল আর চমৎকার। তার ধারণা, যারা লেখে তারা সবকিছু জানে। তার এই ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতে পারিনি। খাতির যতেœ তুলনাহীন হলেও এ ধরনের মানুষকে দীর্ঘ সময় সহ্য করা যায় না। বিশেষত তাদের কথাবার্তা যখন ধীরে ধীরে রাজাকারদের মতো হয়ে উঠতে থাকে। এ যাত্রা আমি আর তাকে ছাড় দিতে রাজি ছিলাম না। ফলে কিছুটা তর্ক হলেও এক সময় সে সরে দাঁড়ায়। স্বীকার করে মনের ভেতরে কোথাও ঝামেলা থাকার কারণেই এই অবস্থা। আমার ধারণা এবং তার সঙ্গে বহুবার কথা বলার পর আমার মনে হয়েছে একদিকে অপপ্রচার আরেকদিকে সাম্প্রদায়িকতা বা ভারতবিরোধিতাই এর মূল কারণ।

আমি এ ব্যাপারে প্রবাসী আওয়ামী লীগারদের কর্মকা-কেও দায়ী করব। তারা এখন সুখের স্বর্গে বসবাস করছেন। প্রথম কথা হলো, বিদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর শাখা থাকা না থাকাটাই প্রশ্নবোধক। যদি তা থাকেও তার দরকার পড়বে বিশেষ বিশেষ কারণে। বিশেষত যখন দেশ ও জাতির প্রয়োজনে ভূমিকা থাকা প্রয়োজন তখন, না থাকলে এর মূল্য কোথায়? কিন্তু এদের না আছে দায়বোধ না কোন সাংগঠনিক তৎপরতা। অথচ দেশের বাইরে জামায়াত আর বিএনপির নেটওয়ার্ক দেশের চেয়ে অধিক সক্রিয়। এটা মানতেই হবে তাদের নেতৃত্বে থাকা মানুষ ও সমর্থকদের আচরণ ও মানুষের মন পছন্দ। আওয়ামী নেতৃত্ব ঠিক তার বিপরীত। তাদের কেউ কেউ আজীবন শত্রু বদলাতে বদলাতে নিজের কাজ করারই সময় পায় না। তা ছাড়া এত উগ্র আর একরোখা হলে মানুষ ভালবাসবে কিভাবে? ভয় তো আর ভালবাসার পরিচায়ক না। তা ছাড়া আওয়ামী লীগাররা সবসময় সবকিছু একটু বেশি বোঝে। প্রবাসী আওয়ামী লীগার হলে তো কথাই নেই। বাঘে ছুঁলে যত ঘা এরা ছুঁলে তার আরও একটা বেশি। খবরে দেখলাম, নায়ক রাজ্জাকের মৃত্যু সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই শোকসভা করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। ভাগ্যিস আরও একধাপ এগোয়নি। যারা বক্তৃতা দিয়ে শোকসাগরে ভাসলেন তারা কি খুলে উঠতে পেরেছেন? দেশের নায়ক দেশের মানুষের ভালবাসা আর শুভ কামনায় বেঁচে আছেন। রাজনৈতিক নেতাদের মতো মরা বাঁচার নাটকে নেই নায়করাজ রাজ্জাক। লাফ ফাল দেয়ার আগে সত্য না জানার এমন হাস্যকর নাটক এখন রাজনীতির দেশী বিদেশী অবয়ব।

সে কারণে আমি এই লোকটার আচরণের পেছনে আমাদের ব্যর্থতাকেও দায়ী করব। কোথাও এমন কোন আভাস বা পরিকল্পনা নেই যাতে মানুষের কাছে সহজ সত্যটা তুলে ধরা যায়। আওয়ামী লীগ শাসনে থাকার পরও যদি তা না হয় তো কখন হবে? মনে রাখা প্রয়োজন যেসব সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত আর পথভ্রষ্ট তাদের বিপথে নেয়ার পেছনে কেবল জামায়াত নয়, আছে বদলে যাবার মানুষজন। একটা ছোট উদাহরণ দেই, দেশের এই বদলে যাওয়া গোষ্ঠী সাম্প্রতিক ক্রিকেট বিজয় নিয়েও কিন্তু ছিনিমিনি খেলছে। এদের হাউসের এক লেখক যিনি স্বঘোষিত সব্যসাচী ক্রিকেট হলেই ছুটে যায় মাঠে। আমার ধারণা, এর পেছনে ব্যবসা আর কুবুদ্ধি জড়িয়ে। বাংলাদেশে মাথা তোলার জন্য সংগ্রাম করছে এমন অনেক খেলা আছে। ফুটবল হকি আরও কত কি। শুভচিন্তা থাকলে এরা সেগুলোকেও প্রমোট করত। তা না করে ক্রিকেটে গিয়ে হাঙ্গামা বাধানোর কারণ ষড়যন্ত্র আর ফ্যাসাদ লাগানো। এরা এবারের ভারত বধের পর এমন সব কার্টুন ছাপছে আর আবার মাফ চাইছে যা তাদের অতীতকে মনে করিয়ে দেয়। মনে রাখতে হবে এখন আর বাসন্তীর জাল পরে ছবি ছাপানোর সময় নয়। এখন ষড়যন্ত্র আর কৌশলের চেহারা হবে ভিন্ন ধরনের। এখন একদিকে ভারতপ্রীতি আরেক দিকে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোই এদের কাজ।

সব মিলে আমরা এক ধরনের ভয়ার্ত আবার আশাবাদী। আমরা ইনু ভাই বা ভোকাল আওয়ামী লীগারদের মতো সন্তুষ্টির বেড়াজালে আবদ্ধ থাকতে চাই না। যেসব বাঙালী নানা কারণে দিকভ্রান্ত তারা জামায়াতীদের চেয়ে ভয়াবহ। জামায়াত বরং অনেক বেটার। ফলে এই জায়গাটা বুঝে এগুতে হবে। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এর কোন বিকল্প দেখা যাচ্ছে না। কারণ এরা নিজেদের বেলায় এক শ’ পার্সেন্ট আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল। আমাদের বেলায় নয়। ৯৪ বছরের অস্কার গ্রোনিং নাৎসি যুদ্ধাপরাধী। বুককিপার এই ভদ্রলোক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি হত্যায় না থাকলেও মদদে ছিলেন। খবরে দেখলাম, অপরাধ স্বীকার করলেও মার্জনা চাইতে রাজি হননি।

দুনিয়ার সব রাজাকারের দেখি এক চরিত্র। অবশ্য আমাদেরগুলো আরও একধাপ এগিয়ে অপরাধ স্বীকার তো দূরের কথা, উল্টো এই আমি সে আমি না বা কোন্্ আমি যে কোন্্ আমি বলে এমন ধাঁধায় ফেলে দেয়। তখন আমরা হাত কামড়ে ভাবি, আসলে এটাই আসল কামড় তো? আর একটা বিষয় দেখুন, পাশ্চাত্য ৯৪ বছরের বৃদ্ধকে বিচার করবে, হয়ত শাস্তিও দেবে। আমাদের বেলায় মানবাধিকার আর টেলিফোন। নাৎসিদের বিচার হলে তখন কি তা মানবাধিকারের গায়ে লাগে না?

আর আমরাও পারি বটে, পড়ি মরি করে ঝুলানোটাই যেন আসল কাজ।

সময় এসেছে সাবধান হওয়ার। সময় এখন সংহত হওয়ার। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এর সমাধান ও আশার আলো চাই। তিনি পারবেন। এটাই আমাদের বিশ্বাস।