মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২২.৮ °C
 
২৯ মে ২০১৭, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

গ্রীস সঙ্কট ॥ অতঃপর...

প্রকাশিত : ৫ জুলাই ২০১৫

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ঋণের এক শ’ ষাট কোটি ইউরো কিস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইউরোজোনের দুর্বল অর্থনীতির দেশ গ্রীস পরিণত হয়েছে ঋণখেলাপী রাষ্ট্রে। গত ৩০ জুন ছিল ঋণের কিস্তি পরিশোধের শেষ সময়। কিন্তু এখন ঋণখেলাপী হয়ে যাওয়ায় দেনায় ডুবে থাকা দেশটিকে আরও করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে বলে বিশ্লেষকরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। নতুন করে অন্য কোন সংস্থা কিংবা রাষ্ট্র থেকে ঋণ পাওয়া দেশটির জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আর্থিক উদ্ধার প্যাকেজের (বেইল আউট) চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণের কয়েক ঘণ্টা আগেও এর মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিল গ্রীস। আইএমএফের ১৬০ কোটি ইউরোর কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদের আর্থিক সংস্কারের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর কাছে নতুন করে দেশটি দুই হাজার ৯১০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা চায়। কিন্তু ইউরোজোনের অর্থমন্ত্রীরা এ প্রস্তাব নাকচ করে দেন। কারণ গ্রীস ঋণদাতাদের সব শর্ত মানতে রাজি নয়। নতুন করে বেইল আউটের জন্য গ্রীসকে কর বাড়ানোর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ব্যয় কমানোসহ কঠিন আর্থিক পুনর্গঠনের শর্ত দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কিন্তু ইইউ’র শর্তের সঙ্গে সায় দেয়নি দেশটির বর্তমান সমাজতান্ত্রিক সরকার। এর ফলেই দেখা দিয়েছে বর্তমান সঙ্কট।

সঙ্কট সমাধানে গ্রীস কোন দিকে যাবে, অর্থাৎ নতুন করে তহবিল নেয়ার জন্য ঋণদাতাদের দেয়া কঠোর শর্তগুলো মানা হবে কিনা তা জানতেই এ গণভোট। প্রধানমন্ত্রী সিপ্রাস অবশ্য জনগণকে না ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সিপ্রাস ছাড়াও নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিজৎ এবং পলক্রুগম্যানের মতো অর্থনীতিবিদরা না ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা আবারও ব্যয় সঙ্কোচনের নীতি গ্রহণ করলে গ্রীসের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। বরং জিডিপি আবারও হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ইইউ সঙ্কোচন নীতি আরোপ ও জনকল্যাণমূলক ব্যয় কমানোসহ কঠিন শর্তের কারণে ২৫ শতাংশ জিডিপি হ্রাস পায়। ইউরোজোন থেকে ফিরে এসে গ্রীস পুনরায় নিজেদের মুদ্রায় ফিরে আসলে তাদের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কারণ মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলেই বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরো থেকে গ্রীস বেরিয়ে এলে অন্য অনেক রাষ্ট্রই এই পথ অনুসরণ করতে পারে এমন শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এটা হলে ইইউ’র অর্থনীতির জন্য আসবে চরম আঘাত।

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত : ৫ জুলাই ২০১৫

০৫/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: