১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

২৩ বছর পর বিএসসি বহরে যুক্ত হচ্ছে ৬ জাহাজ


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ২৩ বছর পর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে অয়েল ট্যাংকার ও বাল্ক ক্যারিয়ার। ছয়টি জাহাজ কিনতে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৮৪৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে এক হাজার ৪৪৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা ঋণ সহায়তা হিসেবে দেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক। অবশিষ্ট ৩৯৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানো হবে।

ছয়টি জাহাজের মধ্যে তিনটি নতুন অয়েল ট্যাংকার এবং তিনটি নতুন বাল্ক ক্যারিয়ার। জাহাজগুলো চীন থেকে তৈরি করে বাংলাদেশে আনা হবে। ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যেই জাহাজ ছয়টি যোগ হবে বিএসসি বহরে। ‘ছয়টি নতুন জাহাজ ক্রয়’ প্রকল্পের আওতায় জাহাজগুলো কেনা হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি ওঠানো হবে।

প্রকল্পে চীনের ঋণ সহায়তা প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, চীনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কমার্শিয়াল চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটি একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ফিন্যান্সিয়াল চুক্তি সম্পন্ন করা হবে।

বিএসসি সূত্র জানায়, বিএসসির বহরে জাহাজের সংখ্যা ও পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, ব্যবসায়িক চাহিদা পূরণ ও বিএসসিকে অধিকতর লাভজনক করার জন্য প্রকল্পটি হাতে নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা দেয়া, দেশের শিপিং খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টিও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

বিএসসি আরও জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন রিফাইন্ড প্রোডাক্ট যেমন ডিজেল, কেরোসিন, জেট ফুয়েল ইত্যাদি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত ও অন্যান্য তেল রফতানিকারক দেশ থেকে আমদানি করে। অদূর ভবিষ্যতে এর পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। বিএসসি এই বর্ধিত তেল এবং ক্রুড অয়েল পরিবহনের দায়িত্ব নিতে পারে। এ জন্য তিনটি অয়েল ট্যাংকার কেনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিএসসি সচিব গোলাম হোসেইন বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে কোন অয়েল ট্যাংকার ও বাল্ক ক্যারিয়ার কেনা হয়নি। এবার সেই কাক্সিক্ষত সময়, আমরা এক সঙ্গে ছয়টি জাহাজ কিনতে যাচ্ছি। এতে চীন নমনীয় সুদে ঋণ দিচ্ছে। ছয়টি জাহাজ চীন থেকে তৈরি করে বাংলাদেশে আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সরকার কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য প্রচুর কয়লা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। তাই কয়লা পরিবহনে উপযোগী বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এছাড়া দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেনা হচ্ছে অয়েল ট্যাংকার। বর্তমানে বিএসসি বহরে অয়েল ট্যাংকার ও বাল্ক ক্যারিয়ারের ভয়াবহ সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিএসসি। আশির দশকের শুরুতে বিএসসির বহরে জাহাজ ছিল ২৬টি। বর্তমানে বিএসসি বহরে মাত্র ৮টি জাহাজ রয়েছে। এদের একটি কন্টেনার, দুটি লাইটারেজ ট্যাঙ্কার ও পাঁচটি বহুমুখী পণ্যবাহী জাহাজ। এদের গড় আয়ু ৩০ বছরের বেশি। এসব জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

বিগত ২৩ বছর ধরে বিএসসি কোন জাহাজ সংগ্রহ করতে পারেনি। অত্যধিক পুরাতন মডেলের এসব জাহাজের চলাচলের ওপর পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল (পিএসসি), ইন্টান্যাশনাল সেফটি ম্যানেজমেন্ট (আইএসএম), ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এসব বিদেশী সংস্থার বিধি-নিষেধের ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং রুটে সরকারী জাহাজের বাণিজ্যিক পরিধি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাই আন্তর্জাতিক শিপিং ট্রেডে বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার্থে বিএসসি বহরকে আধুনিক ও ভারসাম্যমূলক করা হচ্ছে।

বর্তমানে ভাড়া করা জাহাজের মাধ্যমে রিফাইন্ড প্রোডাক্ট ও বাল্ক কার্গো পরিবহন করতে গিয়ে সরকারকে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়।