মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

পেট্রোলবোমা- বেগম জিয়া এবার পুলিশের ঘাড়েই চাপাতে চান দায়

প্রকাশিত : ৫ জুলাই ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শনিবার সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির এনেক্স ভবনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপির আন্দোলনের সময় পুলিশই পেট্রোলবোমা মেরেছে। পুলিশ বাসে আগুন ও পেট্রোলবোমা না মারলে আমাদের আন্দোলন বন্ধ হতো না। পুলিশকে কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ৬ জানুয়ারি থেকে ৯২ দিনব্যাপী সারাদেশে টানা অবরোধ ও দফায় দফায় হরতাল কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে ব্যাপক নাশকতামূলক কর্মকা- চালায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। আন্দোলনের নামে তাদের পেট্রোলবোমা হামলাসহ জ্বালাও পোড়াও কর্মকা-ের ফলে সারাদেশে ১৫৩ জন নিরীহ মানুষ মারা যায়। পেট্রোলবোমার আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে এখনও অনেক মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আন্দোলনের নামে নাশকতাকারীরা প্রায় ১ হাজার গাড়ি অগ্নিদ্বগ্ধ ও আরও ৩ হাজার যানবাহন ভাংচুর করেছে। জ্বালিয়ে দিয়েছে ভূমি অফিসসহ অনেক সরকারী অফিস।

আন্দোলনের নামে এভাবে নাশকতা চালানোর কারণে দেশ-বিদেশে বিএনপির রাজনীতি সম্পর্কে চরম ঘৃণার সৃষ্টি হয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। নিজ দলের নেতাকর্মীরাও এখন বিএনপিবিমুখ হয়ে অন্য দলে চলে যেতে শুরু করেছে। এ কারণে চরম বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। কিন্তু আন্দোলন চলাকালে উপলব্ধি করতে না পারলেও এখন খালেদা জিয়া বুঝতে পেরেছেন এভাবে মানুষ হত্যা করে আন্দোলন করা ঠিক হয়নি। আর তাই তিনি এখন তার ডাকা আন্দোলনে পেট্রোলবোমা নাশকতার দায় পুলিশের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের দোষ আড়াল করতে চাচ্ছেন বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে।

প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন করার সিদ্ধান্ত নেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এ জন্য প্রস্তুতি জোরদার করতে ৩ জানুয়ারি রাতে বাসা ছেড়ে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। তার সঙ্গে দলের আরও ক’জন নেতাকর্মীও গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করেন। খালেদা জিয়ার ডাকে ৬ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ কর্মসূচী শুরু হয়। আর অবরোধের মধ্যেই দফায় দফায় হরতাল পালন করে বিএনপি জোট। এ কর্মসূচী পালনকালে দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে তেমন সক্রিয় না থাকলেও তা সফল করতে চোরাগোপ্তা নাশকতা চালিয়ে সারাদেশে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। বিশেষ করে পেট্রোলবোমার আঘাতে দেড় শতাধিক মানুষ মারা যাওয়া এবং আরও শতাধিক মানুষ আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার মতো নেতিবাচক দিকগুলো এখনও দেশের সাধারণ মানুষ ভুলতে পারেনি। আন্দোলনের কথা মনে হলেই মানুষ বিএনপির বিরুদ্ধে এই ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ের অভিযোগ উত্থাপন করে। বিদেশী কূটনীতিকরাও বার বার এ বিষয়টির প্রতি দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

এদিকে আন্দোলনের নামে নাশকতামূলক কর্মকা-ে জড়ানোর অভিযোগ এনে সরকারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধমে বিএনপি নেতাকর্মীদের কঠোর নজরদারির আওতায় আনে। বিভিন্ন মামলার আসামি হওয়ায় দলের অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হন। আর পুলিশের চোখ এড়াতে দলের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। আর যেসব সিনিয়র নেতা গ্রেফতার হয়েছেন তারাও জামিন পাচ্ছেন না। সম্প্রতি সুপ্রীমকোর্টে এমন এক মামলার শুনানি চলাকালে বিচারকরা বলেছেন যারা আন্দোলন ডেকে ছিল তারা নাশকতার দায় এড়াতে পারে না।

আন্দোলন চলাকালে যাত্রবাড়ীতে গাড়িতে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা মামলা এবং জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে বিএনপিকে বড় ধরনের সঙ্কটের মুখে পড়েছেন চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। শীঘ্রই এসব মামলার চূড়ান্ত রায় হয়ে যাবে বলে সরকারী দলের নেতারা বলে আসছেন। আর তা হলে খালেদা জিয়া গ্রেফতার হতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। মামলার কারণে কারাগারে যেতে হলে তিনি রাজনীতিও করতে পারবেন না। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমানও একাধিক মামলার ফেরারি আসামি। তাই খালেদা জিয়া গ্রেফতার হলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও গ্রেফতার এড়াতে দেশে আসতে চাইবেন না। আর বিএনপির একাংশ তারেক রহমানের স্ত্রী ডাঃ জোবাইদা রহমানকে রাজনীতিতে আনার চেষ্টা করলেও ডাঃ জোবাইদার এ ব্যাপারে কোন আগ্রহ নেই বলে জানা গেছে। তাই খালেদা জিয়া কখনও গ্রেফতার হলে বিভিন্ন মামলার আসামি হওয়ায় ঝামেলা এড়াতে দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতারাও গা বাঁচিয়ে চলতে শুরু করবেন। এমনটি হলে বিএনপিকে আরও বেহাল দশায় পড়তে হবে। আর এটি বুঝতে পেরেই আন্দোলনে নাশকতার দায় এড়াতে খালেদা জিয়া নতুন কৌশল নিয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ইফতার পার্টিতে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার পেশী শক্তি দিয়ে বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। দেশে এখন আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। আর বিচারপতিদের নিয়ন্ত্রন করতে তাদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে এখন ২ রকম বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি দলের লোক হলে এক রকম বিচার আর বিরোধী দলের লোক হলে আরেক ধরণের বিচার করা হয়। এটা মেনে নেয়া যায় না। এর অবসানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের তিন মাসের আন্দোলন বন্ধ হতো না, বাসে আগুন দিয়েছে পুলিশ, পেট্রোলবোমা মেরেছে পুলিশ। বাসে যে পুলিশ আগুন দিয়েছে, পুলিশ নিজেই স্বীকার করেছে। তাদের কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না? তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে ২০ দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বিচারপতি টিএইচ খান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, এজে মোহাম্মদ আলী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, যুব বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

প্রকাশিত : ৫ জুলাই ২০১৫

০৫/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: